৪৪/৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৫৬ - কষ্টদায়ক প্রশ্ন থেকে সতর্কতা
সূরা আল –মায়িদা
অপ্রয়োজনীয় ও কষ্টদায়ক প্রশ্ন করা থেকে সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০৫৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৫৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ أَنَسٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَبِي قَالَ " أَبُوكَ فُلاَنٌ " . فَنَزَلَتْ : ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ ) . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বাবা কে? তিনি বললেনঃ তোমার বাবা অমুক।তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) : “হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন কোন বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের নিকট প্রকাশিত হলে তা তোমাদের কষ্ট দিবে” – (সূরা আল –মায়িদাহ ১০১)।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেন, তার বাবা কে। নবী (صلى الله عليه وسلم) নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম বলে উত্তর দেন। এরপর সূরা আল-মায়িদার ১০১ নম্বর আয়াত অবতীর্ণ হয়, যেখানে এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করতে নিষেধ করা হয়েছে, যা প্রকাশিত হলে প্রশ্নকারীদের কষ্ট দিতে পারে। হাদিসটি জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করতে বাধা দেয় না। বরং এমন কৌতূহলপূর্ণ বা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নের ক্ষতি বোঝায়, যার উত্তর বাস্তব উপকার না দিয়ে মানসিক কষ্ট, লজ্জা বা জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই দ্বীনি প্রশ্ন করার আগে উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত। যেসব প্রশ্ন আমল শেখায়, ভুল সংশোধন করে বা প্রয়োজনীয় বিধান বুঝতে সাহায্য করে, সেগুলো উপকারী। কিন্তু শুধু গোপন বিষয় প্রকাশের জন্য প্রশ্ন করা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রতিটি জানা সম্ভব বিষয় জিজ্ঞেস করাই উপকারী নয়।
- যে প্রশ্নের উত্তর অকারণে কষ্ট সৃষ্টি করতে পারে, তা এড়িয়ে চলা উচিত।
- দ্বীনি প্রশ্ন করার সময় প্রয়োজন, উদ্দেশ্য ও আদব বিবেচনা করতে হবে।
