৪৪/৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৫৭ - যালিমকে না থামালে ব্যাপক শাস্তির আশঙ্কা
সূরা আল –মায়িদা
যালিমকে জুলুম থেকে না থামালে সমাজের উপর শাস্তির আশঙ্কা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০৫৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৫৭
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، أَنَّهُ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ هَذِهِ الآيَةَ : ﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ ﴿ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوْا ظَالِمًا فَلَمْ يَأْخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابٍ مِنْهُ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ مَرْفُوعًا وَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنْ إِسْمَاعِيلَ عَنْ قَيْسٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ قَوْلَهُ وَلَمْ يَرْفَعُوهُ .
আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হে লোকসকল! তোমরা এ আয়াত পাঠ করে থাক (অনুবাদ) : “হে ইমানদারগণ! তোমাদের দায়িত্ব তোমাদেরই উপর। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না’’ (সূরা আল-মায়িদাহ্ ১০৫)।অথচ আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি : মানুষ কোন যালিমকে যুলুম ও অত্যাচার করতে দেখেও তার হাত ধরে তাকে নিবৃত্ত না করলে অচিরেই আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ব্যাপকভাবে শাস্তি দিবেন।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইসমাইল ইবনু আবী খালিদের সূত্রে অপরাপর বর্ণনাকারীও এটিকে মারফুরুপে একই রকম বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ ইস্মাঈল হতে কাইস (রহঃ) এর সূত্রে এটিকে আবূ বাকর (রাঃ) এর বক্তব্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তারা এটিকে মারফুরুপে বর্ণনা করেননি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৫৭-এর সারসংক্ষেপ
আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) সূরা আল-মায়িদার ১০৫ নম্বর আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করেন। কেউ যেন মনে না করে, নিজে ভালো থাকলেই অন্যের জুলুম ও পথভ্রষ্টতা নিয়ে কোনো দায়িত্ব নেই। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বলতে শুনেছেন, মানুষ যদি কোনো যালিমকে জুলুম করতে দেখে এবং তার হাত ধরে তাকে নিবৃত্ত না করে, তাহলে আল্লাহ তাদের সবাইকে শাস্তির মধ্যে ফেলতে পারেন। হাদিসটির মূল বিষয় হলো সামাজিক দায়িত্ব ও জুলুম প্রতিরোধ। তবে বাধা দেওয়ার কাজ সামর্থ্য, ন্যায় ও সঠিক পদ্ধতির মধ্যে হতে হবে। ব্যক্তিগত রাগ, বিশৃঙ্খলা বা নতুন অন্যায় সৃষ্টি করা এর উদ্দেশ্য নয়। নিজের সংশোধনের পাশাপাশি দৃশ্যমান জুলুমের ব্যাপারেও উদাসীন না থাকার শিক্ষা এখানে দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজে সৎ থাকলেই সামাজিক জুলুমের দায়িত্ব পুরোপুরি শেষ হয় না।
- সামর্থ্য অনুযায়ী যালিমকে জুলুম থেকে থামানোর চেষ্টা করতে হবে।
- অন্যায়ের ব্যাপারে সম্মিলিত উদাসীনতা ব্যাপক শাস্তির কারণ হতে পারে।
