৪৪/৭. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৬৮ - গায়েবের জ্ঞান ও ওহী পৌঁছানোর সত্য

সূরা আল-আনআম

গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর: আয়িশা (রাঃ)-এর তিনটি স্পষ্ট বক্তব্য

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৬৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ كُنْتُ مُتَّكِئًا عِنْدَ عَائِشَةَ فَقَالَتْ يَا أَبَا عَائِشَةَ ثَلاَثٌ مَنْ تَكَلَّمَ بِوَاحِدَةٍ مِنْهُنَّ فَقَدْ أَعْظَمَ عَلَى اللَّهِ الْفِرْيَةَ مَنْ زَعَمَ أَنَّ مُحَمَّدًا رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ أَعْظَمَ الْفِرْيَةَ عَلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَقُولُ : ﴾لَا تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الأَبْصَارَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ﴿، ﴾مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلاَّ وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ﴿ وَكُنْتُ مُتَّكِئًا فَجَلَسْتُ فَقُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَنْظِرِينِي وَلاَ تُعْجِلِينِي أَلَيْسَ يَقُولُ اللَّهُ : ﴾وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى﴿، ﴾وَلََقَدْ رَآهُ بِالأُفُقِ الْمُبِينِ﴿ قَالَتْ أَنَا وَاللَّهِ أَوَّلُ مَنْ سَأَلَ عَنْ هَذَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " إِنَّمَا ذَاكَ جِبْرِيلُ مَا رَأَيْتُهُ فِي الصُّورَةِ الَّتِي خُلِقَ فِيهَا غَيْرَ هَاتَيْنِ الْمَرَّتَيْنِ رَأَيْتُهُ مُنْهَبِطًا مِنَ السَّمَاءِ سَادًّا عِظَمُ خَلْقِهِ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ» . وَمَنْ زَعَمَ أَنَّ مُحَمَّدًا كَتَمَ شَيْئًا مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَقَدْ أَعْظَمَ الْفِرْيَةَ عَلَى اللَّهِ يَقُولُ اللَّهُ : ( يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ ) وَمَنْ زَعَمَ أَنَّهُ يَعْلَمُ مَا فِي غَدٍ فَقَدْ أَعْظَمَ الْفِرْيَةَ عَلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَقُولُ : ﴾قُلْ لاَ يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ الْغَيْبَ إِلاَّ اللَّهُ ) .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَمَسْرُوقُ بْنُ الأَجْدَعِ يُكْنَى أَبَا عَائِشَةَ وَهُوَ مَسْرُوقُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَهَكَذَا كَانَ اسْمُهُ فِي الدِّيوَانِ .

মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি ‘আয়িশা (রাঃ) এর নিকটে হেলান দিয়ে বসা ছিলাম। তিনি বললেন, হে আবূ ‘আয়িশাহ্‌! তিনটি বিষয় এমন যে, কোন ব্যক্তি এগুলার কোনটি বললে সে আল্লাহ তা’আলার উপর ভীষণ (মিথ্যা) অপবাদ চাপালো। যে ব্যক্তি এ ধারণা পোষণ করে যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর প্রভুকে দেখেছেন, সে আল্লাহ তা’আলার উপর ভীষণ অপবাদ আরোপ করল। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “ দৃষ্টিসমূহ তাঁকে প্রত্যক্ষ করতে পারে না, কিন্তু তিনি দৃষ্টিসমূহকে অনুধাবন করেন। তিনি অতিশয় সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক ওয়াকিফহাল “- (সূরা আল-আন’আম ১০৩); “কোন মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তা’আলা তার সাথে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ব্যতীত অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতীত “- (সূরা আশ-শুরা ৫১)।আমি হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলাম। আমি উঠে সোজা হয়ে বসে বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! থামুন, আমাকে বলার সুযোগ দিন। তাড়াহুড়া করবেন না। আল্লাহ তা’আলা কি বলেননি? “ নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল“ – (সূরা আন্‌-নাজ্‌ম ১৩)। ‘সে তো তাকে উজ্জ্বল দিগন্তে দেখেছে”- (সূরা আত্‌-তাকবীর ২৩)। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহ্‌র শপথ! রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে আমিই সর্বপ্রথম এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছি। তিনি বলেছেনঃ সে তো জিবরীল। আমি তাকে তার আসল আকৃতিতে এ দু’বারই দেখেছি। আমি তাকে আসমান হতে অবতরণ করতে দেখেছি। তার দেহাবয়ব এতো প্রকাণ্ড যে, তা আসমান ও যামীনের মাঝখানের সবটুকু স্থান ঢেকে ফেলেছিল।(দুই) যে ব্যক্তি এ ধারণা করে যে, আল্লাহ তা’আলা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর যা অবতীর্ণ করেছেন, তিনি তার কিছুটা গোপন করেছেন, সেও আল্লাহ তা’আলার উপর ভীষণ অপবাদ আরোপ করল। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ “ হে রাসুল! তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমার উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা (লোকদের নিকট) পৌঁছে দাও...“ (সূরা আল-মায়িদাহ্‌ ৬৭)।(তিন) যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আগামী কাল কি ঘটবে তিনি (মুহাম্মাদ) তা জানেন, সেও আল্লাহ তা’আলার উপর ভীষণ মিথ্যারোপ করল। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ “ ব, আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আসমান-যামীনে কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না’’ —(আন-নাম্‌ল ৬৫)।

আবূ ‘ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদিসটি হাসান সহীহ। মাসরুক ইবনুল আজদা’র ডাকনাম আবূ ‘আয়িশাহ্‌! তিনি হলেন মাসরুক ইবনু ‘আবদুর রহমান।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৬৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) তিনটি গুরুতর ভুল ধারণা স্পষ্টভাবে খণ্ডন করেছেন। প্রথমত, যে বলে মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর রবকে দেখেছেন, সে আল্লাহর ওপর বড় অপবাদ দেয়। আলোচনায় তিনি ব্যাখ্যা করেন, সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোতে নবী (صلى الله عليه وسلم) জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর আসল আকৃতিতে দুবার দেখেছেন। দ্বিতীয়ত, যে মনে করে নবী (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর নাজিল করা কিছু কথা গোপন করেছেন, সেও বড় অপবাদ দেয়; কারণ তাঁকে যা নাজিল হয়েছে তা পৌঁছে দিতে বলা হয়েছিল। তৃতীয়ত, যে বলে নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজে আগামীকালের অদৃশ্য ঘটনা জানতেন, সেও ভুল বলে; গায়েবের জ্ঞান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। হাদিসটি নবীর মর্যাদা কমায় না; বরং তাঁর সত্য পরিচয় রক্ষা করে। তিনি ওহীর বিশ্বস্ত বাহক, আর অদৃশ্য জ্ঞানের মালিক আল্লাহ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী (صلى الله عليه وسلم) সংশ্লিষ্ট দুই ঘটনায় জিবরীল (আঃ)-কে আসল আকৃতিতে দেখেছেন।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নাজিল হওয়া ওহীর কিছুই গোপন করেননি।
  • আগামীকালের গায়েবি জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর।
  • নবীর মর্যাদা রক্ষায় তাঁর সম্পর্কে সীমা ছাড়ানো দাবি এড়িয়ে চলতে হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন