৪৪/৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৮৪ - বদরের যুদ্ধবন্দীদের সিদ্ধান্ত
সুরা আনফাল
বদরের যুদ্ধবন্দী ও সুহাইল ইবনু বাইযার ঘটনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০৮৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৮৪
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ وَجِيءَ بِالأُسَارَى قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَا تَقُولُونَ فِي هَؤُلاَءِ الأُسَارَى» . فَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قِصَّةً فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لاَ يَنْفَلِتَنَّ مِنْهُمْ أَحَدٌ إِلاَّ بِفِدَاءٍ أَوْ ضَرْبِ عُنُقٍ» . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلاَّ سُهَيْلَ بْنَ بَيْضَاءَ فَإِنِّي قَدْ سَمِعْتُهُ يَذْكُرُ الإِسْلاَمَ . قَالَ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ فَمَا رَأَيْتُنِي فِي يَوْمٍ أَخْوَفَ أَنْ تَقَعَ عَلَىَّ حِجَارَةٌ مِنَ السَّمَاءِ مِنِّي فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ قَالَ حَتَّى قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِلاَّ سُهَيْلَ ابْنَ بَيْضَاءَ» . قَالَ وَنَزَلَ الْقُرْآنُ بِقَوْلِ عُمَرَ : ﴾ وَمَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ ﴿ إِلَى آخِرِ الآيَاتِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِيهِ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বদরের যুদ্ধের দিন যুদ্ধবন্দীদের আনা হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এই যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে তোমাদের কি মত? তারপর রাবী এ হাদীসে একটি বিরাট ঘটনা বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ মুক্তিপণ আদায় বা শিরচ্ছেদ করা ছাড়া এদের মুক্তির বিকল্প কোন পথ নেই। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেনঃ আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তবে সুহাইল ইবনু বাইযা ব্যতীত। যেহেতু আমি তাকে ইসলাম প্রসঙ্গে আলোচনা করতে শুনেছি। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথায় নীরব থাকলেন।আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, ঐ দিনের মত এরকম মারাত্মক অবস্থা আমার আর কোন দিন ছিল না। ঐ দিন প্রতি মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছিল, আমার মাথার উপর বুঝি আকাশ হতে পাথর বর্ষিত হবে। অবশেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সুহাইল ইবনু বাইযা ব্যতীত। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, এদিকে উমর (রাঃ)-এর উক্তি মোতাবেক কোরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ“কোন নবীর জন্য উচিত নয় দেশে ব্যাপক হারে প্রতিপক্ষকে পরাজিত না করা পর্যন্ত আটক রাখা…….” (সূরাঃ আল-আনফাল- ৬৭)।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আবূ উবাইদা ইবনু আবদুল্লাহ তার পিতা হতে হাদীস শুনেননি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় বদরের যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত। যুদ্ধবন্দীদের আনার পর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাহাবিদের মত জানতে চান। বর্ণনায় বলা হয়েছে, মুক্তিপণ বা শিরশ্ছেদ ছাড়া কাউকে ছেড়ে না দেওয়ার কথা ওঠে। তখন আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাঃ সুহাইল ইবনু বাইযাকে ব্যতিক্রম করার অনুরোধ করেন, কারণ তিনি তাকে ইসলাম সম্পর্কে কথা বলতে শুনেছিলেন। নবী صلى الله عليه وسلم প্রথমে নীরব থাকায় ইবনু মাসউদ রাঃ খুব ভয় পান। পরে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সুহাইলকে ব্যতিক্রম হিসেবে গ্রহণ করেন। হাদিসের শেষে সূরা আল-আনফালের ৬৭ নম্বর আয়াত নাজিল হওয়ার কথা এসেছে। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, যুদ্ধবন্দীর মতো গুরুতর বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া হয়েছে, ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে সাক্ষ্য শোনা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত কুরআনের নির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর সিদ্ধান্তে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাহাবিদের মতামত জানতে চেয়েছেন।
- কোনো ব্যক্তির বিশেষ অবস্থা জানা থাকলে তা দায়িত্বের সঙ্গে জানানো যায়।
- সুহাইল ইবনু বাইযার ব্যাপারে ইবনু মাসউদ রাঃ-এর বক্তব্য বিবেচিত হয়েছে।
- হাদিসে যুদ্ধবন্দীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে সূরা আল-আনফালের আয়াতের সম্পর্ক এসেছে।
