৪৪/১২. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১১২ - সৎকাজ পাপ দূর করে

সূরা হূদ

সৎকাজ পাপ দূর করে: সালাত ও ফিরে আসার শিক্ষা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১১২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ إِنِّي عَالَجْتُ امْرَأَةً فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَإِنِّي أَصَبْتُ مِنْهَا مَا دُونَ أَنْ أَمَسَّهَا وَأَنَا هَذَا فَاقْضِ فِيَّ مَا شِئْتَ. فَقَالَ لَهُ عُمَرُ لَقَدْ سَتَرَكَ اللَّهُ لَوْ سَتَرْتَ عَلَى نَفْسِكَ. فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ شَيْئًا فَانْطَلَقَ الرَّجُلُ فَأَتْبَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ رَجُلاً فَدَعَاهُ فَتَلاَ عَلَيْهِِمِ : ( أَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ هَذَا لَهُ خَاصَّةً قَالَ " لاَ بَلْ لِلنَّاسِ كَافَّةً " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهَكَذَا رَوَى إِسْرَائِيلُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ وَالأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَهُ وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مِثْلَهُ وَرِوَايَةُ هَؤُلاَءِ أَصَحُّ مِنْ رِوَايَةِ الثَّوْرِيِّ وَرَوَى شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَهُ.

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি মাদীনার শেষ প্রান্তে এক মহিলাকে স্পর্শ করেছি এবং আমি তার সাথে সহবাস ব্যতীত সবই করেছি। আমি এখন আপনার নিকট এসেছি। আপনি যা ইচ্ছা আমার ব্যাপারে ফয়সালা করেন। ‘উমর(রাঃ) তাকে বললেন, আল্লাহ তা’আলা তোমার অপরাধ গোপন রেখেছেন, এখন তুমিও যদি তা গোপন রাখতে। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কারো কথায় প্রত্যুত্তর করলেন না। লোকটি উঠে চলে যাওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনেন এবং এই আয়াত পাঠ করে শুনান(অনুবাদ) : “তুমি নামাজ কায়েম কর দিনের দুই প্রান্তভাগে এবং রাতের প্রথমাংশে। সৎকাজসমূহ অন্যায় কাজসমূহকে দূর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে তাদের জন্য এটা এক উপদেশ’’ (সূরা হূদ ১১৪)।উপস্থিত লোকদের মধ্যে একজন বলল, এটা কি শুধু তার বেলায় প্রযোজ্য? রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ না, বরং সকলের জন্য।

আবু ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এভাবেই ইসরাঈল সিমাক হতে, তিনি ইব্রাহীমে হতে, তিনি আলকামাহ ও আসওয়াদ হতে, তিনি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। সুফিইয়ান সাওরী (রহঃ) সিমাক হতে, তিনি ইব্রাহীম হতে, তিনি ‘আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। সাওরীর রিওয়ায়াত অপেক্ষা এদের রিওয়ায়াত অনেক বেশি সহীহ। এটিকে সিমাক ইবনু হারব-ইব্রাহীম হতে, তিনি আসওয়াদ হতে, তিনি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে শু’বাহও একই রকম বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াইহিয়া নায়সাবুরী –মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ হতে, তিনি সুফইয়ান সাওরী হতে, তিনি আ’মাশ হতে, তিনি সিমাক হতে, তিনি ইব্রাহিম হতে, তিনি ’আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। মাসউদ ইবনু গাইলান –আল –ফাযল ইবনু মুসা হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি সিমাক হতে, তিনি ইব্রাহিম হতে, তিনি ‘আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হতে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রেও একই মর্মে একই রকম বর্ণনা করেছেন। উক্ত বর্ণনায় অবশ্য আ’মাশের উল্লেখ নেই। এ হাদীস সুলাইমান আত-তাইমী (রহঃ) আবু ‘উস্মান আন-নাহদী হতে, তিনি ইবনু মাস-উদ (রাঃ) হতে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১১২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে স্বীকার করেন যে তিনি এক নারীর সঙ্গে সহবাস ছাড়া অন্য অনুচিত আচরণ করেছেন। তিনি নিজের বিষয়ে ফয়সালা চান। উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তার অপরাধ গোপন রেখেছিলেন; তিনিও গোপন রাখতে পারতেন। লোকটি চলে গেলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে ডেকে আনেন এবং সূরা হূদের ১১৪ নম্বর আয়াত পড়ে শোনান। আয়াতে দিনের দুই প্রান্ত ও রাতের প্রথম অংশে সালাত কায়েমের নির্দেশ এবং সৎকাজ অসৎকাজ দূর করে দেওয়ার কথা আছে। উপস্থিত একজন জানতে চান, এটি কি শুধু ওই ব্যক্তির জন্য। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, না; বরং সবার জন্য। হাদিসটি ভুলের পর হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, সালাত কায়েম করা এবং ভালো কাজ বাড়ানোর শিক্ষা দেয়। তবে এখানে বর্ণিত অপরাধের সীমা—সহবাস না হওয়া—স্পষ্টভাবে মনে রাখা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ভুলের পর আল্লাহর দিকে ফিরে এসে ভালো কাজ করা উচিত।
  • সালাত ও সৎকাজ অসৎকাজ দূর করার কারণ হতে পারে।
  • এই শিক্ষা শুধু ঘটনার ব্যক্তির জন্য নয়; নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, সবার জন্য।
  • হাদিসে অপরাধটি সহবাসের নিচের স্তরের আচরণ হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন