৪৪/১৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১২৯ - প্রতিশোধে সীমা ও ধৈর্যের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা
সুরা আন-নাহল
প্রতিশোধে সীমা ও ধৈর্য: উহুদ থেকে মক্কা বিজয়ের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১২৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১২৯
حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عِيسَى بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، قَالَ حَدَّثَنِي أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ أُصِيبَ مِنَ الأَنْصَارِ أَرْبَعَةٌ وَسِتُّونَ رَجُلاً وَمِنَ الْمُهَاجِرِينَ سِتَّةٌ فِيهِمْ حَمْزَةُ فَمَثَّلُوا بِهِمْ فَقَالَتِ الأَنْصَارُ لَئِنْ أَصَبْنَا مِنْهُمْ يَوْمًا مِثْلَ هَذَا لَنُرْبِيَنَّ عَلَيْهِمْ قَالَ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ ﴾ وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ وَلَئِنْ صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِلصَّابِرِينَ ﴿ فَقَالَ رَجُلٌ لاَ قُرَيْشَ بَعْدَ الْيَوْمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " كُفُّوا عَنِ الْقَوْمِ إِلاَّ أَرْبَعَةً» .قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ .
উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উহুদের যুদ্ধে চৌষট্টিজন আনসার ও ছয়জন মুহাজির শাহাদাত বরণ করেন। তাদের মধ্যে হামযাহ্ (রাঃ)-ও ছিলেন। কাফিররা তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তন করে লাশ বিকৃত করেছিল। আনসারগণ বলেন, আমরা যদি এসব কাফিরকে কোনদিন কাবু করতে পারি তাহলে তাদের উপর এর দ্বিগুণ বদলা নেব।বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর যখন মক্কা বিজয়ের দিন আসলো তখন আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) : “যদি তোমরা শাস্তি দাওই তবে ঠিক ততখানি শাস্তি দিবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর তবে ধৈর্যশীলদের জন্য তাইতো উত্তম”- (সূরা আন্-নাহ্ল ১২৬)। তখন এক ব্যক্তি বলল, আজকের পর হতে কুরাইশদের নাম থাকবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ চার ব্যক্তি ব্যতীত অন্য লোকদের হত্যা করা হতে তোমরা বিরত থাক।
আবূ ‘ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১২৯-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয় হলো ন্যায়সঙ্গত প্রতিশোধ ও ধৈর্য। উহুদের যুদ্ধে বহু আনসার ও মুহাজির শহীদ হন, তাঁদের মধ্যে হামজা (রাঃ)-ও ছিলেন। শত্রুরা শহীদদের দেহ বিকৃত করেছিল। এ কারণে কিছু আনসার ভবিষ্যতে দ্বিগুণ বদলা নেওয়ার কথা বলেন। পরে মক্কা বিজয়ের দিনে এমন আয়াত নাজিল হয়, যেখানে শাস্তি দিলে সমপরিমাণ শাস্তির সীমা রাখা হয়েছে এবং ধৈর্যকে উত্তম বলা হয়েছে। এরপর এক ব্যক্তি কুরাইশদের সম্পূর্ণ শেষ করার মতো কথা বললে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) চার ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের হত্যা থেকে বিরত থাকতে বলেন। হাদিসটি দেখায়, গভীর কষ্ট ও ক্ষোভের সময়ও প্রতিশোধ সীমাহীন হতে পারে না। ন্যায়, সংযম এবং ধৈর্য—এই তিনটি বিষয় এখানে স্পষ্ট। প্রতিক্রিয়ায় সীমা না মানলে ন্যায়ও অন্যায়ে পরিণত হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যায়ের জবাব সমপরিমাণের বেশি হওয়া উচিত নয়।
- ধৈর্যকে হাদিসের আয়াতে উত্তম বলা হয়েছে।
- সমষ্টিগত প্রতিশোধ ও সীমাহীন হত্যার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
- তীব্র ক্ষোভের সময়ও নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষকে সংযত করেছেন।
