৪৪/১৮. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৪৭ - বুরাক, বাইতুল মাকদিস ও ইসরার বর্ণনা

সূরা বানী ইসরাঈল

ইসরা ও বুরাক: কুরআনের দলিল এবং হুযাইফা (রা.)-এর বর্ণনা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৪৭

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، قَالَ قُلْتُ لِحُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ أَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ قَالَ لاَ . قُلْتُ بَلَى . قَالَ أَنْتَ تَقُولُ ذَاكَ يَا أَصْلَعُ بِمَا تَقُولُ ذَلِكَ قُلْتُ بِالْقُرْآنِ بَيْنِي وَبَيْنَكَ الْقُرْآنُ .فَقَالَ حُذَيْفَةُ مَنِ احْتَجَّ بِالْقُرْآنِ فَقَدْ أَفْلَحَ قَالَ سُفْيَانُ يَقُولُ فَقَدِ احْتَجَّ . وَرُبَّمَا قَالَ قَدْ فَلَجَ فَقَالَ : ﴾سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى ﴿ قَالَ أَفَتَرَاهُ صَلَّى فِيهِ قُلْتُ لاَ . قَالَ لَوْ صَلَّى فِيهِ لَكُتِبَ عَلَيْكُمْ فِيهِ الصَّلاَةُ كَمَا كُتِبَتِ الصَّلاَةُ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ قَالَ حُذَيْفَةُ قَدْ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِدَابَّةٍ طَوِيلَةِ الظَّهْرِ مَمْدُودَةٍ هَكَذَا خَطْوُهُ مَدُّ بَصَرِهِ فَمَا زَايَلاَ ظَهْرَ الْبُرَاقِ حَتَّى رَأَيَا الْجَنَّةَ وَالنَّارَ وَوَعْدَ الآخِرَةِ أَجْمَعَ ثُمَّ رَجَعَا عَوْدَهُمَا عَلَى بَدْئِهِمَا قَالَ وَيَتَحَدَّثُونَ أَنَّهُ رَبَطَهُ لِمَ أَيَفِرُّ مِنْهُ وَإِنَّمَا سَخَّرَهُ لَهُ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

যির ইবনু হুবাইশ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ)- কে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি বাইতুল মাক্বদিসে নামায আদায় করেছেন? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, হ্যাঁ তিনি নামায আদায় করেছেন। তিনি বললেন, হে টেকো! তুমি এ ধরনের কথা বলছ, তা কিসের ভিত্তিতে বলছ? আমি বললাম, কোরআনের ভিত্তিতে। কোরআন আমার ও আপনার মাঝে ফাইসালা করবে। হুজাইফা (রাঃ) বললেন, কোরআন হতে যে ব্যক্তি দলীল গ্রহণ করল যে কৃতকার্য হল। সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, তিনি (মিসআর) কখনো “কাদ ইহতাজ্জা” আবার কখনো “কাদ ফালাজা” বলেছেন।তারপর তিনি (যির) এই আয়াত তিলাওয়াত করেন : “পবিত্র মহান সেই সত্তা, যিনি এক রাতে তাঁর বান্দাকে মাসজিদুল হারাম হতে দূরবর্তী মাসজিদে নিয়ে গেলেন”- (বানী ইসরাঈল ১)।হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, এ আয়াতের মাধ্যমে কি তুমি প্রমাণ করতে চাও, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে নামায আদায় করেছেন? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, সেখানে যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায় করতেন, তাহলে তোমাদের উপরও সেখানে নামায আদায় করা বাধ্যতামূলক হত, যেমন মাসজিদুল হারামে নামায আদায় করা তোমাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।হুজাইফাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) – এর নিকট একটি পশু আনা হল। এর পিঠ ছিল দীর্ঘ এবং (চলার সময়) এর পা দৃষ্টির সীমায় পতিত হয়। তাঁরা দু’জন (মহানাবী ও জিবরীল) জান্নাত, জাহান্নাম এবং আখিরাতের প্রতিশ্রুত বিষয়সমূহ দেখার পূর্ব পর্যন্ত বোরাকের পিঠ হতে নামেননি। তারপর তাঁরা দু’জন প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁরা যেভাবে গিয়েছিলেন অনুরূপভাবেই ফিরে আসেন (অর্থাৎ সওয়ারী অবস্থায়ই ফিরে আসেন)।হুজাইফাহ (রাঃ) বলেন, লোকেরা বলাবলি করে, তিনি বোরাককে বেঁধেছিলেন। কেন এটি তাঁর নিকট হতে পালিয়ে যাবে। অথচ গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছু জানার মালিক (আল্লাহ তা‘আলা) বোরাককে তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন করে দিয়েছিলেন।

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৪৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় ইসরা ও বুরাকের সফর। যির ইবনু হুবাইশ ও হুযাইফা (রা.)-এর আলোচনায় বাইতুল মাকদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নামাজ পড়েছিলেন কি না—এ প্রশ্ন ওঠে। যির (রহ.) সূরা বনী ইসরাইলের প্রথম আয়াতকে দলিল হিসেবে আনেন। হুযাইফা (রা.) কুরআন থেকে দলিল গ্রহণের প্রশংসা করেন, তবে বলেন যে ওই আয়াত শুধু সেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে; নামাজ পড়ার কথা সরাসরি বলে না। এই বর্ণনা অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ও জিবরীল (আ.) বুরাক থেকে না নেমে জান্নাত, জাহান্নাম ও আখিরাতের প্রতিশ্রুত বিষয় দেখেন এবং ফিরে আসেন। বুরাক বাঁধার প্রচলিত কথাও হুযাইফা (রা.) প্রশ্ন করেন, কারণ আল্লাহ সেটিকে নিয়ন্ত্রণাধীন করেছিলেন। এখানে মতটি এই নির্দিষ্ট বর্ণনার ভাষায় উপস্থাপিত; এর বাইরে অন্য বর্ণনার সমন্বয় করা হয়নি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুরআন থেকে দলিল নেওয়া প্রশংসনীয়, তবে আয়াত যতটুকু বলে ততটুকুই প্রমাণ করা উচিত।
  • এই বর্ণনায় বুরাককে আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন বাহন হিসেবে দেখানো হয়েছে।
  • ইসরা সফরে জান্নাত, জাহান্নাম ও আখিরাতের নিদর্শন দেখার কথা এসেছে।
  • প্রচলিত কথা যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা উচিত নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন