৪৪/১৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৪৬ - কিরাআতে ভারসাম্য ও সাহাবীদের শেখানো
সূরা বানী ইসরাঈল
কিরাআতের মধ্যবর্তী আওয়াজ: নামাজে ভারসাম্যের কুরআনি নির্দেশ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৪৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৪৬
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ : ﴾وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلاً ﴿قَالَ نَزَلَتْ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ مُخْتَفٍ بِمَكَّةَ وَكَانَ إِذَا صَلَّى بِأَصْحَابِهِ رَفَعَ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ فَكَانَ الْمُشْرِكُونَ إِذَا سَمِعُوهُ شَتَمُوا الْقُرْآنَ وَمَنْ أَنْزَلَهُ وَمَنْ جَاءَ بِهِ فَقَالَ اللَّهُ لِنَبِيِّهِ : (وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ ﴿ أَىْ بِقِرَاءَتِكَ فَيَسْمَعَ الْمُشْرِكُونَ فَيَسُبُّوا الْقُرْآنَ : ﴾وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا ﴿ عَنْ أَصْحَابِكَ : ﴾ وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلاً ﴿ . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণী : “তোমার নামাযের ক্বিরাআত না উচ্চৈঃস্বরে পড়বে, আন না নিম্ন স্বরে, এ দুইয়ের মধ্যবর্তী মাত্রার আওয়াজ অবলম্বন কর”- (সূরা বানী ইসরাঈল ১১০) অবতীর্ণ হওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্বায় আত্মগোপন করে ছিলেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের নিয়ে নামায আদায়ের সময় উচ্চস্বরে কিরা‘আত পাঠ করতেন। মুশরিকরা তা শুনতে পেয়ে কোরআনকে এর অবতরণকারীকে এবং এর বাহককে গালি দিত। অতএব আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীকে বললেনঃ “তোমারা নামাযে উচ্চৈঃস্বরে ক্বিরাআত পাঠ করো না”, কারণ মুশরিকরা তা শুন কোরআনকে গালি দেয়। “আবার এত নীচু স্বরেও পড়বে না”, যাতে তোমরা সাহাবীদেরকে শুনতে অসুবিধা হয় বরং “এই দুইয়ের মধ্যবর্তী মাত্রার আওয়াজ অবলম্বন কর”।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় কিরাআতের ভারসাম্য। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তখন মক্কায় গোপনে সাহাবীদের নিয়ে নামাজ পড়তেন। তিনি কুরআন উচ্চস্বরে পড়লে মুশরিকরা তা শুনে কুরআন, আল্লাহ এবং জিবরীল (আ.)-কে গালি দিত। এ অবস্থায় তাঁকে বলা হয়, কিরাআত এত জোরে করবেন না যাতে শত্রুরা শুনে অবমাননা করে। আবার এত নিচু স্বরেও নয় যাতে সাহাবীদের শুনতে কষ্ট হয়। বরং দুই অবস্থার মাঝামাঝি পথ নিতে হবে। হাদিসটি পরিস্থিতি বুঝে ইবাদতে সঠিক মাত্রা বজায় রাখার শিক্ষা দেয়। এতে কুরআনের মর্যাদা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের শোনার সুযোগ—দুই দিকই বিবেচিত হয়েছে। এখানে ‘মধ্যম স্বর’ কোনো অস্পষ্ট সৌন্দর্যের কথা নয়; বর্ণনায় এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট—অপমানের পথ বন্ধ করা এবং সাহাবীদের কুরআন শোনা ও শেখার সুযোগ রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিরাআতে খুব জোরে ও খুব নিচু—দুই চরম অবস্থাই এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
- কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় পরিবেশ ও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করা দরকার।
- সাহাবীদের শোনানো ও শেখানোও কিরাআতের স্বর নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
- ইবাদতে ভারসাম্য মানে মূল উদ্দেশ্যগুলো একসঙ্গে রক্ষা করা।
