৪৪/১৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৪৫ - নামাজে কিরাআতের মধ্যম স্বর
সূরা বানী ইসরাঈল
নামাজে কিরাআতের স্বর: খুব জোরে নয়, খুব নিচুও নয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৪৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৪৫
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَلَمْ يَذْكُرْ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَهُشَيْمٍ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : (وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ ﴿قَالَ نَزَلَتْ بِمَكَّةَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا رَفَعَ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ سَبَّهُ الْمُشْرِكُونَ وَمَنْ أَنْزَلَهُ وَمَنْ جَاءَ بِهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ : (وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ ) فَيَسُبُّوا الْقُرْآنَ وَمَنْ أَنْزَلَهُ وَمَنْ جَاءَ بِهِ : ﴾وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا ﴿ عَنْ أَصْحَابِكَ بِأَنْ تُسْمِعَهُمْ حَتَّى يَأْخُذُوا عَنْكَ الْقُرْآنَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণী : “তোমরা নামাযে স্বর (ক্বিরাআত) উচ্চ করো না এবং অতিশয় ক্ষীণও করো না”- (সূরা বানী ইসরাঈল ১১০) মক্কায় অবতীর্ণ হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উচ্চ স্বরে কোরআন তিলাওয়াত করলে মুশরিকরা কোরআনকে গালি দিত এবং এর অবতীর্ণকারী (আল্লাহ তা‘আলা) ও এর বাহককেও (জিবরীলকে) গালি দিত। তারপর আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন : “তোমরা নামাযের ক্বিরাআত উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করো না” অর্থাৎ আপনি উচ্চস্বরে কোরআন পাঠ করবেন না, অন্যথায় কোরআন, এর অবতরণকারী ও এর বাহককে গালি দেয়া হবে। “এবং তা ক্ষীণস্বরেও পড়বে না”, তাহলে আপনার সাথীরা শুনতে পাবে না, (বরং মধ্যম আওয়াজে তা পাঠ করুন) যাতে তাঁরা আপনার নিকট হতে কোরআন শিখতে পারে।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় নামাজে কিরাআতের স্বর। মক্কায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উচ্চস্বরে কুরআন পড়লে মুশরিকরা কুরআন, যিনি তা নাজিল করেছেন এবং যিনি তা নিয়ে এসেছেন—তাঁদের গালি দিত। তখন নির্দেশ আসে, নামাজের কিরাআত এত জোরে পড়া যাবে না যাতে তারা শুনে গালি দেওয়ার সুযোগ পায়। আবার এত নিচু স্বরেও পড়া যাবে না যাতে সাহাবীরা শুনতে না পারেন। কারণ তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছ থেকে কুরআন শিখতেন। তাই হাদিসটি মধ্যম ও প্রয়োজনমাফিক স্বরের শিক্ষা দেয়। এখানে কিরাআতের উদ্দেশ্য শুধু নিজের পাঠ শেষ করা নয়; পরিস্থিতি বুঝে এমনভাবে পড়া, যাতে অযথা ক্ষতি না হয় এবং প্রয়োজনীয় শ্রোতারা শুনতে পারে। বর্ণনাটি বিশেষ পরিস্থিতির কারণও স্পষ্ট করে, তাই এর বক্তব্যকে সেই টেক্সটের সীমার মধ্যেই বুঝতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজে কিরাআতের স্বরে ভারসাম্য রাখা দরকার।
- এত জোরে পড়া ঠিক নয় যাতে কুরআনের অবমাননার সুযোগ তৈরি হয়।
- এত নিচু স্বরও ঠিক নয় যাতে প্রয়োজনীয় শ্রোতারা শুনতে না পারেন।
- কুরআন শেখানোর সময় শ্রোতার শোনার সুবিধা বিবেচনা করা উচিত।
