৪৪/১৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৪৪ - মূসা (আ.)-এর নয়টি নির্দেশ ও বড় পাপ থেকে বাঁচা
সূরা বানী ইসরাঈল
নয়টি স্পষ্ট নির্দেশ: শিরক ও বড় অন্যায় থেকে বাঁচার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৪৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৪৪
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، وَأَبُو الْوَلِيدِ، وَاللَّفْظُ، لَفْظُ يَزِيدَ وَالْمَعْنَى وَاحِدٌ عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلِمَةَ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ الْمُرَادِيِّ، أَنَّ يَهُودِيَّيْنِ، قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ اذْهَبْ بِنَا إِلَى هَذَا النَّبِيِّ نَسْأَلُهُ فَقَالَ لاَ تَقُلْ لَهُ نَبِيٌّ فَإِنَّهُ إِنْ سَمِعَنَا نَقُولُ نَبِيٌّ كَانَتْ لَهُ أَرْبَعَةُ أَعْيُنٍ فَأَتَيَا النَّبِيَّ ﷺ فَسَأَلاَهُ عَنْ قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ : ﴾ وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى تِسْعَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ ) فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لاَ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا وَلاَ تَزْنُوا وَلاَ تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَلاَ تَسْرِقُوا وَلاَ تَسْحَرُوا وَلاَ تَمْشُوا بِبَرِيءٍ إِلَى سُلْطَانٍ فَيَقْتُلَهُ وَلاَ تَأْكُلُوا الرِّبَا وَلاَ تَقْذِفُوا مُحْصَنَةً وَلاَ تَفِرُّوا مِنَ الزَّحْفِ شَكَّ شُعْبَةُ وَعَلَيْكُمُ الْيَهُودَ خَاصَّةً أَنْ لاَ تَعْدُوا فِي السَّبْتِ " . فَقَبَّلاَ يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ وَقَالاَ نَشْهَدُ أَنَّكَ نَبِيٌّ . قَالَ «فَمَا يَمْنَعُكُمَا أَنْ تُسْلِمَا» . قَالاَ إِنَّ دَاوُدَ دَعَا اللَّهَ أَنْ لاَ يَزَالَ فِي ذُرِّيَّتِهِ نَبِيٌّ وَإِنَّا نَخَافُ إِنْ أَسْلَمْنَا أَنْ تَقْتُلَنَا الْيَهُودُ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
সাফওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন এক সময় দুই ইয়াহূদীর একজন অপরজনকে বলল, চল আমরা এই নবীর কাছে গিয়ে তাঁকে কিছু প্রশ্ন করি। অপরজন বললঃ তাঁকে নবী বল না। কেননা সে যদি এটা শুনে ফেলে যে, তুমি (ইয়াহূদীরাও) তাঁকে নবী বলছ, তার চার চোখ হয়ে যাবে। তারা উভয়ে তাঁর নিকটে এসে তাঁকে আল্লাহ্ তা’আলার নিম্নোক্ত বাণী প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেঃ“আমরা মূসাকে নয়টি নিদর্শন দান করেছিলাম” (সূরাঃ বাণী ইসরাঈল- ১০১)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সেই নয়টি নিদর্শন (নির্দেশ) হচ্ছেঃ(১) তোমরা আল্লাহ্ তা’আলার সাথে কোন কিছু অংশীদার করো না,(২) যেনা-ব্যভিচার করো না,(৩) যাকে হত্যা করা আল্লাহ্ তা’আলা নিষিদ্ধ করেছেন ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া তার জীবন সংহার করো না,(৪) চুরি করো না,(৫) যাদুটোনা করো না,(৬) কোন নিরপরাধ লোককে সরকারের কাছে অপরাধী বানিয়ে খুন করতে নিয়ে যেও না,(৭) সুদ খেও না,(৮) কোন সতী-সাধ্বী মহিলার বিরুদ্ধে যেনার মিথ্যা অপবাদ দিও না এবং(৯) যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালিয়ে যেও না।হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! বিশেষ করে তোমরা শনিবারের বাধ্যবাধকতা অতিক্রম করো না। তারপর ইয়াহূদী শ্রোতা দু’জন তাঁর পা দুটিতে ও হাত দুটিতে চুমা দিয়ে বললঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিঃসন্দেহে আপনি নবী। তিনি বললেনঃ তাহলে তোমাদের দু’জনকে ইসলাম গ্রহণে কিসে বাধা দিচ্ছে? তারা উভয়ে বললঃ দাঊদ (আঃ) আল্লাহ্ তা’আলার নিকটে দোয়া করেছিলেন তিনি যেন বারবার তাঁর বংশধরদের মধ্য হতেই নবী পাঠান। অনন্তর আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে, আমরা যদি ইসলাম কবুল করি তাহলে ইয়াহূদীরা আমাদেরকে মেরে ফেলবে।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় তাওহীদ ও বড় পাপ থেকে বেঁচে থাকা। দুই ইয়াহুদি সূরা বনী ইসরাইলের ‘মূসাকে নয়টি নিদর্শন’ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নয়টি নির্দেশ উল্লেখ করেন। এগুলোর মধ্যে আছে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা, ব্যভিচার না করা, অন্যায়ভাবে প্রাণ না নেওয়া, চুরি ও জাদু না করা, নিরপরাধ কাউকে শাসকের কাছে এমনভাবে না নেওয়া যাতে সে নিহত হয়, সুদ না খাওয়া, সতী নারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ না দেওয়া এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে না যাওয়া। ইয়াহুদিদের জন্য শনিবারের সীমা না লঙ্ঘনের কথাও এসেছে। দুই প্রশ্নকারী তাঁর নবুয়ত স্বীকার করলেও নিজেদের সমাজের হত্যার ভয় দেখিয়ে ইসলাম গ্রহণ না করার কারণ জানায়। হাদিসটি দেখায়, সত্য জানা ও সত্য অনুসরণ করা এক বিষয় নয়; ভয় কখনো মানুষকে স্বীকৃত সত্য থেকেও পিছিয়ে দিতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওহীদের প্রথম দাবি হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা।
- জীবন, সম্পদ ও সম্মানের বিরুদ্ধে অন্যায় গুরুতর অপরাধ।
- সুদ, জাদু ও মিথ্যা অপবাদ থেকে দূরে থাকা জরুরি।
- সত্য চিনলেও ভয় বা সামাজিক চাপ মানুষকে তা গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে পারে।
