৬৫/২১০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭২২ - সালাতে কিরাআতের মধ্যপন্থা
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ আর স্বীয় সালাতের কিরাআত খুব উচ্চৈঃস্বরেও পড়বে না এবং খুব ক্ষীণ স্বরেও পড়বে না। (সূরা বনি ইসরাইল ১৭/১১০)
সালাতে কিরাআতের স্বর: মধ্যপন্থার সুন্দর শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৭২২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭২২
يَعْقُوْبُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا أَبُوْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فِيْ قَوْلِهِ تَعَالَى ﴾وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا﴿ قَالَ نَزَلَتْ وَرَسُوْلُ اللهِ ﷺ مُخْتَفٍ بِمَكَّةَ كَانَ إِذَا صَلَّى بِأَصْحَابِهِ رَفَعَ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ فَإِذَا سَمِعَهُ الْمُشْرِكُوْنَ سَبُّوا الْقُرْآنَ وَمَنْ أَنْزَلَهُ وَمَنْ جَاءَ بِهِ فَقَالَ اللهُ تَعَالَى لِنَبِيِّهِ ﷺ﴾وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ﴿أَيْ بِقِرَاءَتِكَ فَيَسْمَعَ الْمُشْرِكُوْنَ فَيَسُبُّوا الْقُرْآنَ ﴾وَلَا تُخَافِتْ بِهَا﴿عَنْ أَصْحَابِكَ فَلَا تُسْمِعُهُمْ وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيْلًا
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘সালাতে স্বর উঁচু করবে না এবং অতিশয় নিচুও করবে না। এ আয়াতটি এমন সময় নাযিল হয়, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মাক্কাহ্য় অপ্রকাশ্যে অবস্থান করছিলেন। তিনি যখন তাঁর সাহাবাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন তখন তিনি উচ্চৈঃস্বরে কোরআন পাঠ করতেন। মুশরিকরা তা শুনে কোরআনকে গালি দিত। আর গালি দিত যিনি তা অবতীর্ণ করেছেন তাঁকে (আল্লাহ্কে) এবং যিনি তা নিয়ে এসেছেন তাঁকে (জিব্রীল)। এজন্য আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নবী (ﷺ)-কে বলেছিলেন, “তুমি তোমার সালাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পড়বে না, যাতে মুশরিকরা শুনে কোরআনকে গালি দেয় এবং তা এত নিচু স্বরেও পড়বে না, যাতে তোমার সাহাবীরা শুনতে না পায়, বরং এ দুয়ের মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন কর।”
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতে কিরাআতের স্বর সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তখন মক্কায় অপ্রকাশ্যে অবস্থান করছিলেন। তিনি সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করলে উচ্চস্বরে কুরআন পড়তেন। মুশরিকরা তা শুনে কুরআন, যিনি কুরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং যিনি তা নিয়ে এসেছেন, তাঁদের গালি দিত। তখন আল্লাহ নির্দেশ দিলেন, সালাতে কিরাআত এত জোরে পড়া যাবে না যাতে তারা শুনে গালি দেয়, আবার এত নিচু স্বরেও নয় যাতে সাহাবীরা শুনতে না পায়। এই হাদিসে নামাজে কুরআন তিলাওয়াত, কিরাআতের আদব এবং মধ্যপন্থার শিক্ষা আছে। ইসলাম পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারসাম্যপূর্ণ পথ নিতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে কিরাআতের ক্ষেত্রে অযথা অতিরিক্ত জোর বা অতিরিক্ত নিচু স্বর ঠিক নয়।
- কুরআনের অসম্মান হতে পারে এমন পরিস্থিতি এড়ানো দরকার।
- ইবাদতে সাহাবীদের শেখানো ও শোনানোর দিকও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
- মধ্যপন্থা অনেক সময় ইবাদতের আদব রক্ষা করে।
