৪৪/২০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৬১ - আল্লাহর ভালোবাসা ও মানুষের গ্রহণযোগ্যতা
সূরা মারইয়াম
আল্লাহর ভালোবাসা লাভ ও মানুষের অন্তরে গ্রহণযোগ্যতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৬১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৬১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «إِذَا أَحَبَّ اللَّهُ عَبْدًا نَادَى جِبْرِيلَ إِنِّي قَدْ أَحْبَبْتُ فُلاَنًا فَأَحِبَّهُ قَالَ فَيُنَادِي فِي السَّمَاءِ ثُمَّ تَنْزِلُ لَهُ الْمَحَبَّةُ فِي أَهْلِ الأَرْضِ فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ : ﴾ إنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدًّا ﴿ وَإِذَا أَبْغَضَ اللَّهُ عَبْدًا نَادَى جِبْرِيلَ إِنِّي قَدْ أَبْغَضْتُ فُلاَنًا فَيُنَادِي فِي السَّمَاءِ ثُمَّ تَنْزِلُ لَهُ الْبَغْضَاءُ فِي الأَرْضِ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَى عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَ هَذَا .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন বান্দাকে যখন আল্লাহ তা‘আলা ভালোবাসেন তখন জিবরীলকে ডেকে বলেনঃ আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালবাসি। অতএব তুমিও তাকে ভালবাস। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আসমানবাসীদের মধ্যে জিবরীল তখন (এ কথা) ঘোষণা করেন। তারপর যমীনবাসীদের অন্তরে তার জন্য ভালবাসা অবতীর্ণ হয়। এটাই আল্লাহ তা‘আলার বাণীর মধ্যে ফুটে উঠেছেঃ “যারা ঈমান আনয়ন করেছে এবং উত্তম কার্য সম্পাদন করেছে খুব শীঘ্রই দয়াময় রহমান (লোকদের অন্তরে তাদের প্রতি) ভালবাসার উদ্রেক করবেন”।–(সূরা মারইয়াম ৯৬)।অপর দিকে যখন আল্লাহ তা‘আলা কাউকে ঘৃণা করেন তখন জিবরীলকে ডেকে বলেনঃ আমি অমুককে ঘৃণা করি। জিবরীল তখন আসমানবাসীদের মধ্যে এটা ঘোষণা করেন। তারপর যমীনের অধিবাসীদের মনে তার জন্যে ঘৃণা অবতীর্ণ হতে থাকে।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু দীনার (রহঃ) তাঁর বাবা হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে, তিনি নবী (ﷺ) হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর ভালোবাসা লাভের মর্যাদা বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জিবরাইল (আঃ)-কে সেই বান্দাকে ভালোবাসতে বলেন। এরপর জিবরাইল (আঃ) আসমানবাসীদের মধ্যে তার প্রতি ভালোবাসার ঘোষণা দেন। তারপর জমিনের মানুষের অন্তরেও তার জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। হাদিসে সূরা মারইয়ামের সেই আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ঈমান আনা ও ভালো কাজ করা মানুষের জন্য দয়াময় আল্লাহ ভালোবাসা তৈরি করবেন বলে জানানো হয়েছে। আবার আল্লাহ কাউকে ঘৃণা করলে তার বিপরীত অবস্থাও ঘটে। তাই মানুষের প্রশংসা পাওয়াই মূল লক্ষ্য নয়; বরং ঈমান ও উত্তম কাজের মাধ্যমে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চেষ্টা করাই মূল শিক্ষা। প্রকৃত গ্রহণযোগ্যতা আল্লাহর পক্ষ থেকেই মানুষের অন্তরে আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈমান ও ভালো কাজ আল্লাহর ভালোবাসা লাভের কারণ হতে পারে।
- আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, জিবরাইল (আঃ) ও আসমানবাসীরাও তাকে ভালোবাসেন।
- মানুষের অন্তরে প্রকৃত গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করার মালিক আল্লাহ।
- আল্লাহর ঘৃণার কারণ হয় এমন কাজ থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
