৪৪/২২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৬৫ - শাস্তিতে ন্যায়বিচার ও কিয়ামতের হিসাব
সূরা আল-আম্বিয়া
অপরাধের চেয়ে বেশি শাস্তি নয়: কিয়ামতের ন্যায়বিচার
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৬৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৬৫
حَدَّثَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، - بَغْدَادِيٌّ - وَالْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ الأَعْرَجُ بَغْدَادِيٌّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ غَزْوَانَ أَبُو نُوحٍ، حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلاً، قَعَدَ بَيْنَ يَدَىِ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي مَمْلُوكَيْنِ يُكْذِبُونَنِي وَيَخُونُونَنِي وَيَعْصُونَنِي وَأَشْتُمُهُمْ وَأَضْرِبُهُمْ فَكَيْفَ أَنَا مِنْهُمْ قَالَ " يُحْسَبُ مَا خَانُوكَ وَعَصَوْكَ وَكَذَبُوكَ وَعِقَابُكَ إِيَّاهُمْ فَإِنْ كَانَ عِقَابُكَ إِيَّاهُمْ بِقَدْرِ ذُنُوبِهِمْ كَانَ كَفَافًا لاَ لَكَ وَلاَ عَلَيْكَ وَإِنْ كَانَ عِقَابُكَ إِيَّاهُمْ دُونَ ذُنُوبِهِمْ كَانَ فَضْلاً لَكَ وَإِنْ كَانَ عِقَابُكَ إِيَّاهُمْ فَوْقَ ذُنُوبِهِمُ اقْتُصَّ لَهُمْ مِنْكَ الْفَضْلُ " . قَالَ فَتَنَحَّى الرَّجُلُ فَجَعَلَ يَبْكِي وَيَهْتِفُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَمَا تَقْرَأُ كِتَابَ اللَّهِ : ( ونَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلاَ تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ ) الآيَةَ. فَقَالَ الرَّجُلُ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَجِدُ لِي وَلِهَؤُلاَءِ شَيْئًا خَيْرًا مِنْ مُفَارَقَتِهِمْ أُشْهِدُكُمْ أَنَّهُمْ أَحْرَارٌ كُلَّهُمْ ".قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَزْوَانَ وَقَدْ رَوَى أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَزْوَانَ هَذَا الْحَدِيثَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর সম্মুখে বসে এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কয়েকটি গোলাম আছে। আমার নিকট এরা মিথ্যা কথা বলে, আমার সম্পদে ক্ষতিসাধন (খিয়ানাত) করে এবং আমার অবাধ্যতা করে। এ কারণে তাদেরকে আমি বকাবকি ও মারধর করি। তাদের সাথে এমন ব্যবহারে আমার অবস্থা কি হবে?তিনি বললেনঃ তারা যে তোমার সাথে খিয়ানাত করে, তোমার অবাধ্যতা করে এবং তোমার নিকট মিথ্যা বলে, আর এ কারণে তাদের সাথে তুমি যেমন আচরণ কর- এ সবেরই হিসাব-নিকাশ হবে। যদি তোমার দেয়া শাস্তি তাদের অপরাধের সমান হয় তবে ঠিক আছে। তোমারও কোন অসুবিধা হবে না তাদেরও কোন অসুবিধা হবে না। যদি তোমার দেয়া শাস্তি তাদের অপরাধের তুলনায় কম হয় তাহলে তোমার জন্য অতিরিক্ত (সাওয়াব) রয়ে গেল। তোমার প্রদত্ত শাস্তি যদি তাদের অপরাধের তুলনায় বেশি হয়, তাহলে অতিরিক্ত অংশের জন্য তোমাকে শাস্তি পেতে হবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে লোকটি চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে আলাদা হয়ে গেল।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলার কিতাবে তুমি কি এ কথা পড় না (অনুবাদ)- “আমরা কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করব। সুতরাং কোন লোকের উপর কোন যুলুম করা হবে না। কারো বিন্দু পরিমাণও কিছু কৃতকর্ম থাকলে আমরা তাও হাযির করব। আর হিসাব সম্পন্ন করার জন্য আমরাই যথেষ্ট”- (সূরা আম্বিয়া ৪৭)।লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কসম! তাদের মাঝে এবং আমার মাঝে বিচ্ছিন্নতা ছাড়া আমার ও তাদের কল্যাণের আর কোন পথ দেখছি না। আপনাকে আমি সাক্ষী রেখে বলছি, তাদের সবাই এখন হতে মুক্ত।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। ‘আবদুর রহমান ইবনু গাযওয়ানের সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীস জেনেছি। ইমাম আহমাদও এ হাদীস ‘আবদুর রহমান ইবনু গাযওয়ানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন ব্যক্তি তার গোলামদের মিথ্যা, খিয়ানত ও অবাধ্যতার কথা জানিয়ে বলেন যে, তিনি তাদের বকাবকি ও মারধর করেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানান, কিয়ামতের দিন উভয় পক্ষের কাজের হিসাব হবে। তাদের অপরাধ এবং মালিকের দেওয়া শাস্তি তুলনা করা হবে। শাস্তি অপরাধের সমান হলে কারও পক্ষে অতিরিক্ত দাবি থাকবে না। শাস্তি কম হলে মালিকের জন্য বাড়তি প্রতিদান থাকবে। কিন্তু অপরাধের চেয়ে বেশি শাস্তি দেওয়া হলে সেই অতিরিক্ত অংশের জন্য মালিকের কাছ থেকে প্রতিকার নেওয়া হবে। এ কথা শুনে লোকটি কেঁদে ফেলেন। ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লার আয়াত শুনে তিনি তাদের সবাইকে মুক্ত করে দেন। হাদিসটি দেখায়, ক্ষমতা থাকলেও সীমা অতিক্রম করা যায় না এবং সামান্য জুলুমও কিয়ামতের হিসাব থেকে বাদ যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাস্তি অপরাধের সীমা অতিক্রম করলে তার হিসাব দিতে হবে।
- কিয়ামতের ন্যায়বিচারে কারও প্রতি সামান্য জুলুমও করা হবে না।
- অধীন মানুষের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগের সময় সংযম ও ন্যায় বজায় রাখা জরুরি।
- নিজের ভুল বুঝতে পারলে সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
