৪৪/২২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৬৬ - ইবরাহিম (আঃ)-এর তিন বিশেষ উক্তি
সূরা আল-আম্বিয়া
ইবরাহিম (আঃ)-এর তিনটি বিশেষ উক্তির হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৬৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৬৬
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لَمْ يَكْذِبْ إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلاَّ فِي ثَلاَثٍ قَوْلُهُ: (إنِّي سَقِيمٌ ) وَلَمْ يَكُنْ سَقِيمًا وَقَوْلُهُ لِسَارَةَ أُخْتِي وَقَوْلُهُ: ( بلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَذَا ) " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইবরাহীম (আঃ) তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া কোন ব্যাপারে কখনো মিথ্যা বলেননি। যেমন তাঁর কথা “আমি অসুস্থ”- (সূরাঃ আস-সাফফাত ৮৯), অথচ তিনি অসুস্থ ছিলেন না, নিজের বিবি ‘সারা’-কে তাঁর বোন বলা এবং তাঁর কথা “বরং এগুলোর ভিতর সর্বাধিক বড়টি এ কাজ করেছে”- (সূরা আম্বিয়া ৬৩)।
হাদীসটি একাধিক সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)- এর বরাতে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত হয়েছে। ইবনু ইসহাক্ব হতে আবুয যান্নাদ সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি গারীব। আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ইবরাহিম (আঃ)-এর তিনটি বিশেষ কথার উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি হলো, তিনি বলেছিলেন, “আমি অসুস্থ।” দ্বিতীয়টি হলো, তিনি তাঁর স্ত্রী সারাহকে নিজের বোন বলেছিলেন। তৃতীয়টি হলো, মূর্তিগুলোর বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, “বরং এগুলোর সবচেয়ে বড়টি এ কাজ করেছে।” হাদিসের ভাষায় এগুলোকে তাঁর বলা তিনটি ব্যতিক্রমী কথা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এগুলো ছাড়া তিনি কখনো মিথ্যা বলেননি। প্রদত্ত বর্ণনায় এই তিন ঘটনার অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তাই হাদিসটি বুঝতে গিয়ে এর বাইরে নতুন কারণ বা ঘটনা যোগ না করাই নিরাপদ। এখানে প্রধান বিষয় হলো, আল্লাহর নবী ইবরাহিম (আঃ)-এর সত্যবাদিতা এবং তাঁর জীবনে উল্লেখ করা এই তিনটি নির্দিষ্ট বক্তব্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবরাহিম (আঃ) সাধারণ জীবনে অত্যন্ত সত্যবাদী ছিলেন।
- হাদিসে তাঁর তিনটি নির্দিষ্ট ও ব্যতিক্রমী উক্তি উল্লেখ করা হয়েছে।
- ধর্মীয় বর্ণনা ব্যাখ্যা করার সময় মূল পাঠের সীমা বজায় রাখা দরকার।
- কুরআনে উল্লেখিত নবীদের ঘটনা মনোযোগ দিয়ে জানা উচিত।
