৪৪/২৪. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৭৩ - মুমিনের সফলতার দশ আয়াত ও নবীর দোয়া

সূরা আল-মুমিনুন

মুমিনের সফলতার দশ আয়াত ও রাসূলের হৃদয়ছোঁয়া দোয়া

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৭৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ الْمَعْنَى، وَاحِدٌ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رضى الله عنه يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا نَزَلَ عَلَيْهِ الْوَحْىُ سُمِعَ عِنْدَ وَجْهِهِ كَدَوِيِّ النَّحْلِ فَأُنْزِلَ عَلَيْهِ يَوْمًا فَمَكَثْنَا سَاعَةً فَسُرِّيَ عَنْهُ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَقَالَ " اللَّهُمَّ زِدْنَا وَلاَ تَنْقُصْنَا وَأَكْرِمْنَا وَلاَ تُهِنَّا وَأَعْطِنَا وَلاَ تَحْرِمْنَا وَآثِرْنَا وَلاَ تُؤْثِرْ عَلَيْنَا وَأَرْضِنَا وَارْضَ عَنَّا " . ثُمَّ قَالَ ﷺ " أُنْزِلَ عَلَىَّ عَشْرُ آيَاتٍ مَنْ أَقَامَهُنَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ " . ثُمَّ قَرَأَ : ﴾ قدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ ﴿ حَتَّى خَتَمَ عَشْرَ آيَاتٍ .

আবদুর রহমান ইবনু ‘আবদুল ক্বারী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর উপর যখন ওহী অবতীর্ণ হত সে সময় তাঁর মুখমণ্ডলের নিকট হতে মৌমাছির আওয়াজের মত গুনগুন আওয়াজ শোনা যেত। একদিন তাঁর উপর ওহী অবতীর্ণ হল। আমি কিছুক্ষণ প্রতীক্ষা করলাম। তাঁর উপর হতে ওহীর বিশেষ অবস্থা সরে গেলে তিনি কেবলামুখী হয়ে তাঁর দুই হাত তুলে দোয়া করলেনঃ “হে আল্লাহ্‌! আমাদেরকে বেশি দান কর, আমাদেরকে কম দিও না, আমাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দাও, আমাদেরকে লাঞ্ছিত করো না, আমাদেরকে দান কর, বঞ্চিত করো না, আমাদেরকে অগ্রগামী কর, আমাদের উপর অন্য কাউকে অগ্রগামী করো না, আমাদেরকে সুপ্রসন্ন কর এবংআমাদের উপর সুপ্রসন্ন থাক।” তারপর তিনি বললেনঃ আমার উপর এমন দশটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, যার মানদণ্ডে কেউ কৃতকার্য হলে সে জান্নাতে যাবে। তারপর তিনি “কাদ আফলাহাল মু’মিনূন” হতে শুরু করে দশটি আয়াত তিলাওয়াত করেন।

মুহাম্মাদ ইবনু আবান-আবদুর রাযযাক হতে তিনি ইউনুস ইবনু সুলাইম হতে তিনি ইউনুস ইবনু ইয়াযীদ হতে তিনি যুহরী (রহঃ) হতে এই সূত্রে উক্ত মর্মে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ পূর্ববর্তী সূত্রের তুলনায় এই সনদসূত্রটি অনেক বেশি সহীহ। আমি ইসহাক ইবনু মানসূরকে বলতে শুনেছি, আহমাদ ইবনু হাম্বল, আলী ইবনুল মাদীনী ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম-আবদুর রাযযাক হতে তিনি ইউনুস ইবনু সুলাইম হতে তিনি ইউনুস ইবনু ইয়াযীদ হতে তিনি যুহরী (রহঃ) সূত্রে এই হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। যিনি প্রথমে আবদুর রাযযাকের নিকট এ হাদীস শুনেছেন তিনি ইউনুস ইবনু সুলাইম-এর পরে ইউনুস ইবনু ইয়াযীদের উল্লেখ করেছেন এবং কিছু রাবী ইউনুস ইবনু ইয়াযীদের উল্লেখ করেননি। সুতরাং যারা ইউনুস ইবনু ইয়াযীদের উল্লেখ করেছেন তাদের রিওয়ায়াতই অনেক বেশি সহীহ। আর আবদুর রাযযাক কখনও তার উল্লেখ করেছেন এবং কখনও করেননি। হাদীসটি মুরসাল। পূর্বের অনুরূপ দুর্বল।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৭৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ওহী নাজিলের সময় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ অবস্থার কথা এসেছে। উমর (রাঃ) বলেন, ওহী নাজিল হলে তাঁর মুখের কাছে মৌমাছির গুনগুনের মতো আওয়াজ শোনা যেত। একদিন ওহী শেষ হওয়ার পর তিনি কিবলামুখী হয়ে দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। তিনি বেশি দান, সম্মান, অনুগ্রহ, অগ্রগতি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি চান; কম দেওয়া, অপমান ও বঞ্চনা থেকে আশ্রয় চান। এরপর তিনি জানান, তাঁর ওপর এমন দশটি আয়াত নাজিল হয়েছে, যেগুলো যে ব্যক্তি যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করবে, সে জান্নাতে যাবে। তারপর তিনি “কাদ আফলাহাল মুমিনূন” থেকে সূরা মুমিনূনের প্রথম দশ আয়াত পড়েন। হাদিসটি সফল মুমিনের গুণগুলোকে শুধু পড়ার নয়, জীবনে প্রতিষ্ঠা করার গুরুত্ব এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দোয়া করার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ওহী নাজিল হওয়া রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য একটি বিশেষ ও গুরুতর অবস্থা ছিল।
  • আল্লাহর দান, সম্মান ও সন্তুষ্টির জন্য দোয়া করা যায়।
  • সূরা মুমিনূনের প্রথম দশ আয়াত জীবনে প্রতিষ্ঠা করার গুরুত্ব রয়েছে।
  • কেবল তিলাওয়াত নয়, আয়াতগুলোর শিক্ষা অনুযায়ী চলাও জরুরি।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন