৪৪/২৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৭৭ - যিনা থেকে বাঁচা ও বিবাহের নির্দেশ
সূরা আন-নূর
যিনা হারাম: মারসাদ (রাঃ) ও আনাকের ঘটনার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৭৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৭৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الأَخْنَسِ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ كَانَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ مَرْثَدُ بْنُ أَبِي مَرْثَدٍ وَكَانَ رَجُلاً يَحْمِلُ الأَسْرَى مِنْ مَكَّةَ حَتَّى يَأْتِيَ بِهِمُ الْمَدِينَةَ قَالَ وَكَانَتِ امْرَأَةٌ بَغِيٌّ بِمَكَّةَ يُقَالُ لَهَا عَنَاقُ وَكَانَتْ صَدِيقَةً لَهُ وَإِنَّهُ كَانَ وَعَدَ رَجُلاً مِنْ أُسَارَى مَكَّةَ يَحْمِلُهُ قَالَ فَجِئْتُ حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى ظِلِّ حَائِطٍ مِنْ حَوَائِطِ مَكَّةَ فِي لَيْلَةٍ مُقْمِرَةٍ.قَالَ فَجَاءَتْ عَنَاقُ فَأَبْصَرَتْ سَوَادَ ظِلِّي بِجَنْبِ الْحَائِطِ فَلَمَّا انْتَهَتْ إِلَىَّ عَرَفَتْهُ فَقَالَتْ مَرْثَدُ فَقُلْتُ مَرْثَدُ. فَقَالَتْ مَرْحَبًا وَأَهْلاً هَلُمَّ فَبِتْ عِنْدَنَا اللَّيْلَةَ . قَالَ قُلْتُ يَا عَنَاقُ حَرَّمَ اللَّهُ الزِّنَا . قَالَتْ يَا أَهْلَ الْخِيَامِ هَذَا الرَّجُلُ يَحْمِلُ أَسْرَاكُمْ. قَالَ فَتَبِعَنِي ثَمَانِيَةٌ وَسَلَكْتُ الْخَنْدَمَةَ فَانْتَهَيْتُ إِلَى كَهْفٍ أَوْ غَارٍ فَدَخَلْتُ فَجَاءُوا حَتَّى قَامُوا عَلَى رَأْسِي فَبَالُوا فَطَلَّ بَوْلُهُمْ عَلَى رَأْسِي وَأَعْمَاهُمُ اللَّهُ عَنِّي . قَالَ ثُمَّ رَجَعُوا وَرَجَعْتُ إِلَى صَاحِبِي فَحَمَلْتُهُ وَكَانَ رَجُلاً ثَقِيلاً حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى الإِذْخِرِ فَفَكَكْتُ عَنْهُ كَبْلَهُ فَجَعَلْتُ أَحْمِلُهُ وَيُعِينُنِي حَتَّى قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْكِحُ عَنَاقًا مَرَّتَيْنِ فَأَمْسَكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَلَمْ يَرُدَّ عَلَىَّ شَيْئًا حَتَّى نَزَلَتِ : (الزَّانِي لاَ يَنْكِحُ إِلاَّ زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لاَ يَنْكِحُهَا إِلاَّ زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ وَحُرِّمَ ذَلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ﴿ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَا مَرْثَدُ الزَّانِي لاَ يَنْكِحُ إِلاَّ زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لاَ يَنْكِحُهَا إِلاَّ زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ فَلاَ تَنْكِحْهَا».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
আমর ইবনু শু'আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবার ও তার দাদা হতে বর্ণিতঃ
মারসাদ ইবনু আবী মারসাদ নামক এক লোক যুদ্ধবন্দীদেরকে মক্কা হতে মদিনায় নিয়ে যেতেন। বর্ণনাকারী বলেন, আনাক্ব নামে মক্কার এক দুশ্চরিত্রা নারী এই মারসাদের প্রেমিকা ছিল। সে (মারসাদ) মক্কার এক বন্দি কে কথা দিয়েছিল যে, সে তাকে মদিনায় নিয়ে যাবে।মারসাদ বলেন, আমি এই উদ্দেশে রওনা হয়ে এক পূর্ণিমা রাতে মক্কার এক প্রাচীরের ছায়ায় পৌঁছলাম। আনাক্ব ও এলো। সে প্রাচীর গাত্রে আমার কাল ছায়া দেখতে পেলো। সে আমার নিকট পৌঁছে আমাকে চিনে ফেলল। সে প্রশ্ন করলোঃ মারসাদ নাকি? আমি বললাম, মারসাদ। সে আমাকে অভ্যর্থনা জানায় এবং বলে, এসো এ রাতটা আমার সাথে কাটাও। আমি বললাম, হে আনাক্ব! আল্লাহ্ তা'আলা যিনা হারাম করে দিয়েছেন। সে (নিজেদের তাবুতে ফিরে গিয়ে)বলল, হে তাবুর অধিবাসীরা! এই ব্যক্তি তোমাদের বন্দীদের নিয়ে যাচ্ছে। এ কথা শোনা মাত্র আটজন আমার পিছু নিলো।আমি চলতে চলতে খানদামা পাহাড়ে গিয়ে একটি গুহা পেয়ে তাতে ঢুকে পড়লাম। লোকগুলিও আমার পিছে পিছে আসলো। তারা গুহাটিকে খালি মনে করে আমার মাথায় পেশাব করে দিলো। তাদের পেশাব আমার মাথায় এসে পড়লো। আল্লাহ্ তা'আলা এই লোকগুলিকে আমাকে দেখার ব্যাপারে অন্ধ করে দিলেন (তারা আমাকে দেখতে পেলো না)।তারা ফিরে গেলো, আমিও যাকে আনতে গিয়েছিলাম তার নিকট ফিরে এলাম। আমি তাকে তুলে নিলাম। তার দেহের ওজন খুব বেশি ছিল। আমি তাকে নিয়ে ইযখির নামক স্থানে পৌঁছে তার জিঞ্জীর খুলে দিলাম। আমি তাকে পিঠে তুলে নিলাম। তাকে বহন করা আমার জন্য কষ্টদায়ক হয়ে পড়ল। অবশেষে আমি মদিনায় পৌঁছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহ্র রাসুল! আনাক্বকে আমি বিয়ে করতে পারি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীরব থাকলেন এবং আমার কথার কোন উত্তর দিলেন না।অবশেষে এই আয়াত অবতীর্ণ হলঃ "যিনাকারী পুরুষ যিনাকারিনী নারী বা মুশরিক নারীকেই কে বিবাহ করবে, আর যিনাকারিনী নারীকে শুধু যিনাকারী অথবা মুশরিক পুরুষরাই বিবাহ করবে আর মুমিনদের জন্য তা হারাম করা হয়েছে"- (সূরা আন-নূর ৩)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে মারসাদ, ব্যভিচারী পুরুষ শুধু ব্যভিচারী নারীকে বা মুশরিক নারীকেই বিয়ে করবে। আর ব্যভিচারিণীকে শুধু ব্যভিচারী পুরুষ অথবা মুশরিক লোকই বিবাহ করবে। অতএব তুমি তাকে বিয়ে করোনা।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান গারীব। শুধু উল্লেখিত সনদেই আমরা হাদিসটি জেনেছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মারসাদ ইবনু আবি মারসাদের একটি কঠিন পরীক্ষার ঘটনা এসেছে। তিনি মক্কা থেকে বন্দীদের গোপনে মদিনায় নিয়ে যেতেন। এক রাতে বন্দি উদ্ধার করতে গেলে তাঁর পুরোনো পরিচিত আনাক তাঁকে নিজের সঙ্গে রাত কাটানোর আহ্বান জানায়। মারসাদ স্পষ্টভাবে বলেন, আল্লাহ যিনা হারাম করেছেন। প্রত্যাখ্যাত হয়ে আনাক লোকদের জানিয়ে দেয় যে, মারসাদ তাদের বন্দি নিয়ে যাচ্ছেন। আটজন তাঁর পিছু নিলেও আল্লাহ তাঁকে তাদের চোখ থেকে আড়াল রাখেন। পরে তিনি প্রতিশ্রুত বন্দিকে উদ্ধার করে মদিনায় পৌঁছান। এরপর আনাককে বিয়ে করার অনুমতি চাইলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে নীরব থাকেন। সূরা নূরের আয়াত নাজিল হওয়ার পর তিনি মারসাদকে তাকে বিয়ে না করতে বলেন। হাদিসটি হারাম সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান, বিপদের মধ্যেও দায়িত্ব পালন এবং বিবাহের বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ মানার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যিনার সুযোগ সামনে এলেও তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
- মারসাদ (রাঃ) বিপদের মধ্যেও বন্দি উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছিলেন।
- বিবাহের বিষয়ে আবেগের বদলে আল্লাহর নির্দেশ মানা জরুরি।
- হারাম থেকে বাঁচার সিদ্ধান্তের পর পরীক্ষা ও বাধা আসতে পারে।
