৪৪/২৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৭৮ - লি‘আনের পদ্ধতি ও দাম্পত্য বিচ্ছেদ
সূরা আন-নূর
লি‘আন কী: স্বামী-স্ত্রীর শপথ ও বিচ্ছেদের পদ্ধতি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৭৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৭৮
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ سُئِلْتُ عَنِ الْمُتَلاَعِنَيْنِ، فِي إِمَارَةِ مُصْعَبِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَيُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا فَمَا دَرَيْتُ مَا أَقُولُ فَقُمْتُ مِنْ مَكَانِي إِلَى مَنْزِلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَاسْتَأْذَنْتُ عَلَيْهِ فَقِيلَ لِي إِنَّهُ قَائِلٌ فَسَمِعَ كَلاَمِي فَقَالَ لِي ابْنَ جُبَيْرٍ ادْخُلْ مَا جَاءَ بِكَ إِلاَّ حَاجَةٌ قَالَ فَدَخَلْتُ فَإِذَا هُوَ مُفْتَرِشٌ بَرْدَعَةَ رَحْلٍ لَهُ فَقُلْتُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُتَلاَعِنَانِ أَيُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا فَقَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ نَعَمْ إِنَّ أَوَّلَ مَنْ سَأَلَ عَنْ ذَلِكَ فُلاَنُ بْنُ فُلاَنٍ أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ أَحَدَنَا رَأَى امْرَأَتَهُ عَلَى فَاحِشَةٍ كَيْفَ يَصْنَعُ إِنْ تَكَلَّمَ تَكَلَّمَ بِأَمْرٍ عَظِيمٍ وَإِنْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى أَمْرٍ عَظِيمٍ قَالَ فَسَكَتَ النَّبِيُّ ﷺ فَلَمْ يُجِبْهُ فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ إِنَّ الَّذِي سَأَلْتُكَ عَنْهُ قَدِ ابْتُلِيتُ بِهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الآيَاتِ فِي سُورَةِ النُّورِ : ﴾والَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ ﴿ حَتَّى خَتَمَ الآيَاتِ قَالَ فَدَعَا الرَّجُلَ فَتَلاَهُنَّ عَلَيْهِ وَوَعَظَهُ وَذَكَّرَهُ وَأَخْبَرَهُ أَنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الآخِرَةِ فَقَالَ لاَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا كَذَبْتُ عَلَيْهَا . ثُمَّ ثَنَّى بِالْمَرْأَةِ وَوَعَظَهَا وَذَكَّرَهَا وَأَخْبَرَهَا أَنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الآخِرَةِ فَقَالَتْ لاَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا صَدَقَ . فَبَدَأَ بِالرَّجُلِ فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ ثُمَّ ثَنَّى بِالْمَرْأَةِ فَشَهِدَتْ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ ثُمَّ فَرَّقَ بَيْنَهُمَا .وَفِي الْبَابِ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুস'আব ইবনুয যুবাইরের শাসনামলে আমাকে লি'আনকারী দম্পতি প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলঃ তাদের কে পৃথক করে দিতে হবে কিনা? আমি এর কি উত্তর দিবো তা বুঝতে পারছিলাম না। আমি আমার ঘর হতে উঠে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এর ঘরের দিকে রওনা হলাম। আমি তার নিকট প্রবেশ করার অনুমতি চাইলাম। আমাকে বলা হল, তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন।তিনি আমার আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন, ইবনু জুবাইর! ভিতরে এসো। নিশ্চয়ই তুমি কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে এসেছ। তিনি বলেন, আমি ভিতরে ঢুকলাম। তিনি তার হাওদার চাটাই বিছিয়ে উহার উপর শুয়ে ছিলেন। আমি বললাম, হে আবু আব্দুর রহমান! লি'আনকারী স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ করে দিতে হবে কি? তিনি বললেন, সুবহানআল্লাহ! হ্যাঁ। অমুকের ছেলে অমুকই প্রথম এই প্রশ্ন করেছিল।সে নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনার কি মত, যদি আমাদের কোন লোক তার স্ত্রী কে অশ্লীল কাজে (ব্যভিচার) লিপ্ত দেখে তখন সে কি করবে? সে যদি মুখে তা বলে, তবে সে একটা মারাত্মক বিষয়ে (যিনার অপবাদে) মুখ খুলল। আর যদি সে চুপ থাকে তাহলেও সে একটা চরম গর্হিত বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখলো। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ থাকলেন এবং তাকে কিছুই বললেন না। লোকটি আবার নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, ইতোপূর্বে যে বিষয়ে আপনার নিকট জিজ্ঞেস করেছিলাম, এখন আমি নিজেই সে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আন-নূর এর আয়াত অবতীর্ণ করেন।(অনুবাদ)ঃ "আর যারা নিজেদের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যিনার অভিযোগ উত্থাপন করে, অথচ তাদের দলে তারা নিজেরা ব্যতীত আর কোন প্রমাণ নেই, তাদের প্রত্যেক এর কথা হবে যে, সে চারবার আল্লাহ্ তা'আলার নামে শপথ করে বলবে, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলার আযাব পতিত হোক"। (সূরা আন-নূর ৬-৭)।তিনি আয়াতের শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি লোকটিকে ডেকে এই আয়াত গুলো পড়ে শুনান। তাকে ওয়াজ-নসিহত করে বুঝান এবং তাকে আরও অবহিত করেন যে, আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার শাস্তি অনেক হালকা ও সহজ। সে বলল, না, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন! আমি তার ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ আনিনি। তারপর তিনি স্ত্রীলোকটিকে ডাকেন, তাকে ওয়াজ-নসিহত করে বুঝান এবং তাকে আরও অবহিত করেন যে, আখিরাতের কষ্টের তুলনায় দুনিয়ার কষ্ট খুবই হালকা। স্ত্রীলোকটি বলল, না, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন! সে সত্য কথা বলেনি।তারপর তিনি পুরুষ লোকটিকে ডাকলেন। সে আল্লাহ্ তা'আলার নামে শপথ করে চারবার সাক্ষ্য দিলো যে, সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত এবং পঞ্চম বারে বলল, সে যদি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলার অভিশাপ পতিত হোক। তিনি স্ত্রীলোকটিকেও এভাবে শপথ করান। সে আল্লাহ্ তা'আলার নামে শপথ করে চারবার সাক্ষ্য দিলো যে, সে (স্বামী) মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত এবং পঞ্চম বারে বলল, সে (স্বামী) যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ্ তা'আলার গজব পতিত হোক। তারপর তিনি স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ করে দিলেন।
এ অনুচ্ছেদে সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে লি‘আনকারী স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ হবে কি না, তার উত্তর দেওয়া হয়েছে। এক ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কোনো স্বামী নিজের স্ত্রীকে অশ্লীল কাজে দেখলে কিন্তু অন্য সাক্ষী না থাকলে কী করবে। পরে সে নিজেই এমন পরীক্ষায় পড়ে। তখন সূরা নূরের লি‘আনের আয়াত নাজিল হয়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে স্বামী ও স্ত্রী উভয়কে আখিরাতের শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে নসিহত করেন। এরপর স্বামী চারবার আল্লাহর নামে নিজের সত্যতার সাক্ষ্য দেয় এবং পঞ্চমবার মিথ্যাবাদী হলে নিজের ওপর আল্লাহর অভিশাপ চায়। স্ত্রীও চারবার স্বামীকে মিথ্যাবাদী বলে শপথ করে এবং পঞ্চমবার স্বামী সত্যবাদী হলে নিজের ওপর আল্লাহর গজব চায়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নবী (صلى الله عليه وسلم) তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাক্ষী ছাড়া স্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের জন্য নির্ধারিত লি‘আন পদ্ধতি রয়েছে।
- শপথের আগে নবী (صلى الله عليه وسلم) উভয় পক্ষকে আখিরাতের শাস্তি স্মরণ করিয়েছেন।
- লি‘আনে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই আল্লাহর নামে গুরুতর সাক্ষ্য দেয়।
- লি‘আন সম্পন্ন হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ করা হয়।
