৪৪/২৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৭৯ - হিলাল (রাঃ)-এর ঘটনা ও লি‘আনের বিধান
সূরা আন-নূর
হিলাল ইবন উমাইয়া (রাঃ) ও লি‘আনের আয়াত নাজিল
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৭৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৭৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ هِلاَلَ بْنَ أُمَيَّةَ، قَذَفَ امْرَأَتَهُ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ بِشَرِيكِ بْنِ السَّحْمَاءِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " الْبِيِّنَةَ وَإِلاَّ حَدٌّ فِي ظَهْرِكَ " . قَالَ فَقَالَ هِلاَلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا رَأَى أَحَدُنَا رَجُلاً عَلَى امْرَأَتِهِ أَيَلْتَمِسُ الْبَيِّنَةَ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " الْبَيِّنَةَ وَإِلاَّ حَدٌّ فِي ظَهْرِكَ " . قَالَ فَقَالَ هِلاَلٌ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنِّي لَصَادِقٌ وَلَيَنْزِلَنَّ فِي أَمْرِي مَا يُبَرِّئُ ظَهْرِي مِنَ الْحَدِّ فَنَزَلَ : (والَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ ﴿ فَقَرَأَ حَتَّى بَلَغَ : ﴾ والْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿ قَالَ فَانْصَرَفَ النَّبِيُّ ﷺ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِمَا فَجَاءَا فَقَامَ هِلاَلُ بْنُ أُمَيَّةَ فَشَهِدَ وَالنَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ " . ثُمَّ قَامَتْ فَشَهِدَتْ فَلَمَّا كَانَتْ عِنْدَ الْخَامِسَةِ : ( أنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿ قَالُوا لَهَا إِنَّهَا مُوجِبَةٌ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَتَلَكَّأَتْ وَنَكَسَتْ حَتَّى ظَنَنَّا أَنْ سَتَرْجِعُ فَقَالَتْ لاَ أَفْضَحُ قَوْمِي سَائِرَ الْيَوْمِ . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " أَبْصِرُوهَا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَكْحَلَ الْعَيْنَيْنِ سَابِغَ الأَلْيَتَيْنِ خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِشَرِيكِ بْنِ السَّحْمَاءِ " . فَجَاءَتْ بِهِ كَذَلِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " لَوْلاَ مَا مَضَى مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لَكَانَ لَنَا وَلَهَا شَأْنٌ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ وَهَكَذَا رَوَى عَبَّادُ بْنُ مَنْصُورٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَرَوَاهُ أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ مُرْسَلاً وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হিলাল ইবনে উমাইয়াহ (রাঃ) নবী (ﷺ) এর নিকট ইবনু সাহমার সাথে তার স্ত্রীর যিনার অভিযোগ দায়ের করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, প্রমাণ হাজির কর, অন্যথায় তোমার পিঠে চাবুক পড়বে। বর্ণনাকারী বলেনঃ হিলাল (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের মাঝে কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে কোন পুরুষ লোককে গর্হিত কাজে লিপ্ত দেখে তখন সে কি সাক্ষী খুঁজে বেড়াবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতে থাকেন, প্রমাণ দাও, অন্যথায় তোমার পিঠে শাস্তির চাবুক পড়বে। বর্ণনাকারী বলেন, হিলাল (রাঃ) বললেন, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন সহ পাঠিয়েছেন! অবশ্যই আমি সত্যবাদী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার বিষয়ে ওহী অবতীর্ণ হবে যা আমার পিঠ কে কষ্ট থেকে রেহাই দিবে।অতঃপর অবতীর্ণ হল- "আর যারা নিজেদের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যিনার অভিযোগ উত্থাপন করে, অথচ তাদের দলে তারা নিজেরা ব্যতীত আর কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে চারবার আল্লাহ্ তা'আলার নামে কসম করে সাক্ষ্য দিবে যে, সে (তার আনীত অভিযোগ) অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চম বারে বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলার অভিসম্পাত হোক। আর স্ত্রীলোকটির কষ্ট রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহ্ তা'আলার নামে কসম করে সাক্ষ্য দেয় যে, এ লোক (তার উত্থাপিত অভিযোগ) মিথ্যাবাদী। পঞ্চম বারে বলবে, সে (অভিযোগকারী স্বামী) সত্যবাদী হলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ্ তা'আলার গজব পতিত হোক"- (সূরা- আন নূর ৬-৯)।বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অবসর হয়ে তাদের (স্বামী-স্ত্রী) উভয় কে ডেকে পাঠান। তাদের উভয়ে হাজির হলে হিলাল (রাঃ) দাঁড়িয়ে সাক্ষী দিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতে থাকেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অবগত আছেন যে তোমাদের একজন মিথ্যাবাদী, তোমাদের মধ্যে কে তওবা করতে প্রস্তুত?তারপর মেয়ে লোকটি দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলো। সে যখন পঞ্চম বারে বলতে যাচ্ছিল যে, সে (স্বামী) যদি সত্যবাদী হয় তাহলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ্র গজব নিপতিত হোক, তখন লোকেরা তাকে বলল, এ কথা (শাস্তিকে) অবশ্যম্ভাবী করে তুলবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে সে থেমে গেলো এবং পিছনে সরে আসলো। আমরা ধারণা করলাম যে সে তার কথা থেকে ফিরে আসবে। অতঃপর মেয়েলোকটি বলল, আমি চিরকালের জন্য আমার গোত্রে কালিমা লেপন করতে পারিনা।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা এই মেয়েলোকটির উপর নজর রেখো। সে যদি কাজল বর্ণের চোখ, প্রশস্ত নিতম্ব ও পায়ের মাংস গোছাযুক্ত সন্তান প্রসব করে তবে সে সন্তান ইবনু সাহমারই। পরবর্তীতে মহিলাটি ঐরূপ সন্তানই প্রসব করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যদি আগেই আল্লাহ্ তা'আলার হুকুম (লি'আনের বিধান) না এসে যেত, তাহলে আমাদের এবং তার মধ্যে একটা বিরাট কিছু ঘটে যেত (তাকে শাস্তি দেওয়া হতো)।
আবূ ঈসা বলেন, হিশাম ইবনু হাসসানের বর্ণনা হিসেবে হাদিসটি হাসান গারীব। আব্বাদ ইবনু মানসূর-ইকরিমাহ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে, তিনি নবী (ﷺ) হতে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। আইয়ুব এ হাদীস ইকরিমার সনদে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে ইবনু আব্বাসের উল্লেখ করেননি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হিলাল ইবন উমাইয়া (রাঃ)-এর অভিযোগের পর লি‘আনের আয়াত নাজিল হওয়ার ঘটনা এসেছে। তিনি নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীক ইবন সাহমার সঙ্গে যিনার অভিযোগ করেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে প্রমাণ হাজির করতে বলেন; নতুবা অপবাদের শাস্তির কথা জানান। হিলাল (রাঃ) নিজের সত্যতার শপথ করে আশা প্রকাশ করেন যে, আল্লাহ তাঁর বিষয়ে নির্দেশ নাজিল করবেন। এরপর সূরা নূরের ছয় থেকে নয় নম্বর আয়াত নাজিল হয়। স্বামী চারবার সত্যতার শপথ এবং পঞ্চমবার মিথ্যা হলে অভিশাপের কথা বলেন। স্ত্রীও চারবার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং পঞ্চমবার স্বামী সত্য হলে নিজের ওপর আল্লাহর গজব চায়। নবী (صلى الله عليه وسلم) উভয়কে তওবার সুযোগের কথা স্মরণ করিয়েছিলেন। পরবর্তী সন্তানের শারীরিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনার সঙ্গে মিলে গেলেও আগে নাজিল হওয়া লি‘আনের বিধানই কার্যকর থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর যিনার অভিযোগে প্রমাণ ছাড়া সাধারণ দাবি যথেষ্ট নয়।
- সাক্ষী না থাকলে স্বামী-স্ত্রীর জন্য লি‘আনের নির্ধারিত পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শপথের মধ্যেও উভয়কে তওবার সুযোগ স্মরণ করিয়েছেন।
- অনুমান নয়, আল্লাহর নাজিল করা বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
