৪৪/২৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৮৮ - হিদায়াত একমাত্র আল্লাহর হাতে
সূরা আল-কাসাস
হিদায়াত আল্লাহর হাতে: আবু তালিবকে কালেমার আহ্বান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৮৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৮৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَيْسَانَ، حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ الأَشْجَعِيُّ، هُوَ كُوفِيٌّ اسْمُهُ سَلْمَانُ مَوْلَى عَزَّةَ الأَشْجَعِيَّةِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِعَمِّهِ " قُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدْ لَكَ بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . فَقَالَ لَوْلاَ أَنْ تُعَيِّرَنِي بِهَا قُرَيْشٌ أَنَّمَا يَحْمِلُهُ عَلَيْهِ الْجَزَعُ لأَقْرَرْتُ بِهَا عَيْنَكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ : ﴾إنَّكَ لاَ تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ ﴿ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ يَزِيدَ بْنِ كَيْسَانَ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর চাচাকে বললেনঃ আপনি "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলুন, আমি কেয়ামাতের দিন এই কালেমার সাহায্যে আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দিব। আবু ত্বালিব বললেন, আমি এরূপ করলে কুরাইশরা আমাকে তিরস্কার করবে এই বলে যে, সে মৃত্যুর ভয়ে এই কালেমা পাঠ করেছে (এবং পূর্বপুরুষের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছে)। এভাবে দোষারোপ করার আশঙ্কা না থাকলে আমি তা স্বীকার করে তোমার আঁখি শীতল করতাম।এই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ)ঃ “তুমি যাকে ভালবাস, ইচ্ছা করলেই তাকে হিদায়াত করতে পারবে না, তবে আল্লাহ তা'আলা যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দান করেন"- (সূরা কাসাস ৫৬)।
আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। ইয়াযীদ ইবনু কাইসানের সনদেই শুধু আমরা এ হাদীসটি জেনেছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর চাচাকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলতে আহ্বান করেন। তিনি বলেন, এই কালেমার কারণে কিয়ামতের দিন তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন। কিন্তু আবু তালিব কুরাইশের তিরস্কারের ভয় প্রকাশ করেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, লোকেরা বলবে মৃত্যুভয় তাকে কালেমা বলতে বাধ্য করেছে। তিনি আরও বলেন, এমন দোষারোপের ভয় না থাকলে কালেমা স্বীকার করে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর চোখ শীতল করতেন। এরপর আয়াত নাজিল হয়—রাসূল صلى الله عليه وسلم যাকে ভালোবাসেন, ইচ্ছা করলেই তাকে হিদায়াত দিতে পারেন না; বরং আল্লাহ যাকে চান হিদায়াত দেন। হাদিসটি হিদায়াতের মালিকানা পরিষ্কার করে। একজন দাঈ ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও যুক্তি দিয়ে আহ্বান জানাতে পারেন, কিন্তু কারও অন্তরে ঈমান স্থাপন করানো তাঁর হাতে নয়। মানুষের কথা ও সামাজিক তিরস্কারের ভয় সত্য গ্রহণে বড় বাধা হতে পারে—এই ঘটনাও তা দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষকে কালেমা ও তাওহীদের দিকে আহ্বান করা নববী দায়িত্বের অংশ।
- হিদায়াত দেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর।
- প্রিয়জনের জন্য আন্তরিক চেষ্টা করা যায়, কিন্তু ফল জোর করে আনা যায় না।
- মানুষের তিরস্কারের ভয় সত্য স্বীকারের পথে বাধা হতে পারে।
