৪৪/৩০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৮৯ - পিতা-মাতার আনুগত্যের সঠিক সীমা
সূরা আল-‘আনকাবূত
পিতা-মাতার আনুগত্যের সীমা: সদ্ব্যবহার থাকবে, শিরকে মানা নয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৮৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৮৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ مُصْعَبَ بْنَ سَعْدٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، سَعْدٍ قَالَ أُنْزِلَتْ فِيَّ أَرْبَعُ آيَاتٍ . فَذَكَرَ قِصَّةً فَقَالَتْ أُمُّ سَعْدٍ أَلَيْسَ قَدْ أَمَرَ اللَّهُ بِالْبِرِّ وَاللَّهِ لاَ أَطْعَمُ طَعَامًا وَلاَ أَشْرَبُ شَرَابًا حَتَّى أَمُوتَ أَوْ تَكْفُرَ قَالَ فَكَانُوا إِذَا أَرَادُوا أَنْ يُطْعِمُوهَا شَجَرُوا فَاهَا فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : ﴾ووَصَّيْنَا الإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا ﴿ الآيَةَ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার প্রসঙ্গে চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। তারপর তিনি একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। সা'দ (রাঃ)-এর মা বলল, আল্লাহ তা'আলা কি (পিতা-মাতার) সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেননি? আল্লাহর কসম! যতক্ষণ পর্যন্ত আমি না মরব অথবা তুমি কুফরীতে প্রত্যাবর্তন না করবে (ইসলাম ত্যাগ না করবে) ততক্ষণ পর্যন্ত আমি পানাহার করব না। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা তাকে আহার করাতে চাইলে কাঠ দিয়ে তার মুখ ফাঁক করে তাকে আহার করাতো।এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ)ঃ “আমি মানুষকে তাদের বাবা-মার সাথে ভাল ব্যবহার করার আদেশ দিয়েছি। কিন্তু তারা যদি আমার সাথে এমন কিছু শরীক করার জন্য তোমার উপর চাপ সৃষ্টি করে, যে প্রসঙ্গে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তুমি তাদের আনুগত্য করো না। আমার নিকটই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। পার্থিব জীবনে তোমরা যা করছিলে, তখন আমি তোমাদের তা জানিয়ে দিব”- (সূরা আল-আনকাবূত ৮)।
আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সা’দ (রাঃ)-এর মায়ের একটি কঠিন চাপের ঘটনা এসেছে। তিনি বলেন, সা’দ ইসলাম ত্যাগ না করা পর্যন্ত তিনি খাবেন না, পানও করবেন না; এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত এ অবস্থায় থাকবেন। লোকেরা তাঁকে খাওয়ানোর চেষ্টা করলে মুখ খুলে খাবার দিত। এই ঘটনার পর যে আয়াত নাজিল হয়, তাতে দুইটি বিষয় পাশাপাশি বলা হয়েছে। প্রথমত, পিতা-মাতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তারা যদি আল্লাহর সঙ্গে শরীক করার জন্য চাপ দেয়, তাহলে সেই বিষয়ে তাদের আনুগত্য করা যাবে না। ফলে পিতা-মাতার আনুগত্য ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা সীমাহীন নয়। ঈমান ও তাওহীদের বিরুদ্ধে কোনো চাপ মানা যাবে না। আবার মতভেদের কারণে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার অনুমতিও এই বর্ণনায় নেই। হাদিসটি ভারসাম্য শেখায়—সম্মান ও সদ্ব্যবহার বজায় থাকবে, কিন্তু শিরক বা কুফরিতে ফিরে যাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পিতা-মাতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা আল্লাহর নির্দেশ।
- শিরক বা কুফরির আদেশে পিতা-মাতার আনুগত্য করা যাবে না।
- আবেগের চাপ ঈমানের নীতি বদলে দেওয়ার কারণ হতে পারে না।
- মতভেদ থাকলেও সদ্ব্যবহার ও তাওহীদের ওপর অটল থাকা একসঙ্গে সম্ভব।
