৪৪/৩৫. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২২৪ - উল্কাপাতের কারণ ও শয়তানের খবর চুরি

সূরা সাবা

উল্কাপাতের কারণ: জাহিলি ধারণা ও হাদিসের ব্যাখ্যা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২২৪

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ جَالِسٌ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذْ رُمِيَ بِنَجْمٍ فَاسْتَنَارَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ لِمِثْلِ هَذَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا رَأَيْتُمُوهُ ". قَالُوا كُنَّا نَقُولُ يَمُوتُ عَظِيمٌ أَوْ يُولَدُ عَظِيمٌ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " فَإِنَّهُ لاَ يُرْمَى بِهِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ وَلَكِنَّ رَبَّنَا عَزَّ وَجَلَّ إِذَا قَضَى أَمْرًا سَبَّحَ لَهُ حَمَلَةُ الْعَرْشِ ثُمَّ سَبَّحَ أَهْلُ السَّمَاءِ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ حَتَّى يَبْلُغَ التَّسْبِيحُ إِلَى هَذِهِ السَّمَاءِ ثُمَّ سَأَلَ أَهْلُ السَّمَاءِ السَّادِسَةِ أَهْلَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالَ فَيُخْبِرُونَهُمْ ثُمَّ يَسْتَخْبِرُ أَهْلُ كُلِّ سَمَاءٍ حَتَّى يَبْلُغَ الْخَبَرُ أَهْلَ السَّمَاءِ الدُّنْيَا وَتَخْتَطِفُ الشَّيَاطِينُ السَّمْعَ فَيُرْمَوْنَ فَيَقْذِفُونَهَا إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ فَمَا جَاءُوا بِهِ عَلَى وَجْهِهِ فَهُوَ حَقٌّ وَلَكِنَّهُمْ يُحَرِّفُونَ وَيَزِيدُونَ ".قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর এক দল সাহাবীর সঙ্গে বসা ছিলেন। এমন সময় একটি উল্কা পতিত হল এবং আলোকিত হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এরূপ উলকাপাত হতে দেখলে তোমরা জাহিলী যুগে কি বলতে? তারা বলল, আমরা বলতাম, কোন মহান লোকের মৃত্যু হবে অথবা কোন মহান লোকের জন্ম হবে (এটা তারই আলামাত)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কোন লোকের মৃত্যু অথবা জন্মগ্রহণের আলামাত হিসেবে এটা পতিত হয় না, বরং মহা বারাকাতময় ও মহিমান্বিত নামের অধিকারী আমাদের প্রতিপালক যখন কোন আদেশ জারী করেন তখন আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করেন। তারপর তাঁদের নিকটতম আসমানের অধিবাসীরা তাসবীহ পড়তে থাকে, তারপর তাঁদের নিকটতম আসমানের অধিবাসীরা তাসবীহ পড়তে থাকে। এভাবে তাসবীহ ও মহিমা ঘোষণার ধারা এই নিম্নবর্তী আসমানে এসে পৌঁছে যায়।তারপর ষষ্ঠ আসমানের অধিবাসীরা সপ্তম আসমানের অধিবাসীদের প্রশ্ন করেন, তোমাদের প্রতিপালক কি বলেছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তারা তাঁদেরকে ব্যাপারটি জানান। এভাবে প্রত্যেক আসমানের অধিবাসীরা তাঁদের উপরের আসমানের অধিবাসীদের একইভাবে প্রশ্ন করেন। এভাবে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে এ খবর পৌঁছে যায়। শয়তানেরা এ তথ্য শুনবার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে। তখন এদের উপর উলকা ছুঁড়ে মারা হয়। এরা কিছু তথ্য এদের সহগামীদের নিকট পাচার করে। এরা যা সংগ্রহ করে তা তো সত্য, কিন্তু তারা এতে কিছু পরিবর্তন ও কিছু বৃদ্ধি ঘটায়।

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম যুহরী (রহঃ) এ হাদীস ‘আলী ইবনু হুসাইনের সূত্রে ইবনু ‘আব্বাস হতে তিনি একদল আনসার সাহাবীর সনদে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম... হাদীসের শেষ অবধি। এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনু হুরাইস-ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম হতে, তিনি আওযা‘ঈ হতে।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২২৪-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: উল্কাপাত ও কুসংস্কার। রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সামনে একটি উল্কা দেখে জিজ্ঞেস করেন, জাহিলি যুগে তারা এর অর্থ কী ভাবত। তারা বলত, কোনো মহান ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু ঘটবে। নবী (সা.) এই ধারণা ঠিক করে দেন। তিনি বলেন, উল্কাপাত কারও জন্ম বা মৃত্যুর লক্ষণ নয়। আল্লাহ কোনো নির্দেশ দিলে আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তাসবিহ করেন। এরপর এক আসমান থেকে আরেক আসমানে সেই তাসবিহ ও সংবাদ পৌঁছায়। প্রত্যেক আসমানের অধিবাসীরা উপরের আসমানের অধিবাসীদের কাছে আল্লাহর নির্দেশ সম্পর্কে জানতে চান। পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে সংবাদ পৌঁছালে শয়তানেরা তা শোনার চেষ্টা করে এবং তাদের দিকে উল্কা নিক্ষেপ করা হয়। তারা যে অংশ ঠিকভাবে শুনে নেয়, তার সঙ্গে পরে পরিবর্তন ও বাড়তি কথা যোগ করে সহযোগীদের কাছে পৌঁছে দেয়। তাই হাদিসটি কুসংস্কার থেকে দূরে থাকতে এবং শোনা কথার বিকৃতি সম্পর্কে সতর্ক করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • উল্কাপাত কোনো মানুষের জন্ম বা মৃত্যুর লক্ষণ নয়।
  • আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা তাসবিহ ও মহিমা ঘোষণা করেন।
  • শয়তানেরা আসমানের সংবাদ শোনার চেষ্টা করে।
  • শয়তানেরা সত্যের সঙ্গে পরিবর্তিত ও বাড়তি কথা মিশিয়ে দেয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন