৪৪/৩৯. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৩২ - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও তাওহীদের দাওয়াত

সূরা সাদ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ: কুরাইশকে তাওহীদের এক বাক্যের আহ্বান

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৩২

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ يَحْيَى، قَالَ عَبْدٌ هُوَ ابْنُ عَبَّادٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَمَرِضَ أَبُو طَالِبٍ فَجَاءَتْهُ قُرَيْشٌ وَجَاءَهُ النَّبِيُّ ﷺ وَعِنْدَ أَبِي طَالِبٍ مَجْلِسُ رَجُلٍ فَقَامَ أَبُو جَهْلٍ كَىْ يَمْنَعَهُ وَشَكَوْهُ إِلَى أَبِي طَالِبٍ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي مَا تُرِيدُ مِنْ قَوْمِكَ قَالَ " إِنِّي أُرِيدُ مِنْهُمْ كَلِمَةً وَاحِدَةً تَدِينُ لَهُمْ بِهَا الْعَرَبُ وَتُؤَدِّي إِلَيْهِمُ الْعَجَمُ الْجِزْيَةَ " . قَالَ كَلِمَةً وَاحِدَةً قَالَ " كَلِمَةً وَاحِدَةً " . قَالَ " يَا عَمِّ قُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " . فَقَالُوا: إِلَهًا وَاحِدًا؟ ( ما سَمِعْنَا بِهَذَا فِي الْمِلَّةِ الآخِرَةِ إِنْ هَذَا إِلاَّ اخْتِلاَقٌ )قَالَ فَنَزَلَ فِيهِمُ الْقُرْآنُ: (ص* وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ * بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي عِزَّةٍ وَشِقَاقٍ ) إِلَى قَوْلِهِ: (ما سَمِعْنَا بِهَذَا فِي الْمِلَّةِ الآخِرَةِ إِنْ هَذَا إِلاَّ اخْتِلاَقٌ ) . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবূ তালিব রোগাক্রান্ত হলে কুরাইশরা তার নিকটে আসে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আসেন। আবূ তালিবের নিকট এক ব্যক্তির বসার মত স্থান ছিল। আবূ জাহল তাঁকে মানা করতে উঠে। রাবী বলেনঃ এসব লোক আবূ তালিবের নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে। আবূ তালিব বলেন, হে ভাতিজা! তুমি তোমার জাতির নিকটে কি চাও? তিনি বললেনঃ আমি তাদের কাছে একটি বাক্য মেনে নেয়ার ইচ্ছা করছি। তারা এটা মেনে নিলে আরবরা তাদের মতানুবর্তী হবে এবং অনারবরা তাদেরকে জিযিয়া দিবে।আবূ তালিব বললেন, একটি বাক্য? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, একটি বাক্য। তিনি আবার বললেনঃ হে চাচা! আপনারা বলুন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”। তারা বলল, শুধু মাত্র একজন মা’বূদ? “এধরণের কথা তো আমরা নিকট অতীতের জাতিসমূহের নিকটে শুনিনি? এটা একটা অলীক উক্তিমাত্র” (সূরা: সা’দ—৭)।রাবী বলেনঃ তাদের প্রসঙ্গে কোরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয় : “সা’দ। উপদেশে পূর্ণ কোরআনের শপথ! বরং এই সত্য প্রত্যাখ্যানকারী লোকেরাই চরম অহংকার ও হঠকারিতায় ডুবে আছে। এদের পূর্বে আমরা এমন কত জাতিকেই না ধ্বংস করেছি। তখন তারা চিৎকার করে উঠেছে। কিন্তু তখন আর মুক্তি পাওয়ার উপায় ছিল না। ..........এমন কথা তো আমরা নিকট অতীতের জাতিসমূহের নিকটে শুনিনি! এটা একটা অলীক কথামাত্র” (সূরা: সা’দ – ১-৭)।

আবূ ঈসা বলেন; এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ সুফইয়ান আ’মাশের সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৩২-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: তাওহীদ। আবু তালিব অসুস্থ হলে কুরাইশের লোকেরা তাঁর কাছে আসে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। আবু তালিব জানতে চান, তিনি নিজের জাতির কাছে কী চান। নবী (সা.) বলেন, তিনি তাদের কাছ থেকে একটি বাক্য চান। তারা তা মেনে নিলে আরবরা তাদের অনুসরণ করবে এবং অনারবরা তাদের জিযিয়া দেবে। সেই বাক্য হলো—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। কুরাইশ এক আল্লাহর উপাসনা মানতে বিস্ময় ও আপত্তি প্রকাশ করে। এরপর সূরা সাদের প্রথম দিকের আয়াতগুলো তাদের অহংকার, বিরোধিতা এবং এই কথাকে বানানো দাবি করার বিষয় তুলে ধরে। হাদিসের মূল কেন্দ্র তাওহীদের দাওয়াত। একটি বাক্য হলেও এর দাবি ছিল গভীর—সব মিথ্যা উপাস্য ছেড়ে এক আল্লাহকে মানা। কুরাইশের বিরোধিতা দেখায়, মুখে একটি বাক্য বলা নয়; তার অর্থ মেনে নেওয়াই আসল পরীক্ষা ছিল।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তাওহীদের মূল বাক্য হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’।
  • রাসূলুল্লাহ (সা.) কুরাইশকে এক আল্লাহর উপাসনার আহ্বান দেন।
  • কুরাইশ এক উপাস্য মানতে অহংকার ও বিরোধিতা করে।
  • তাওহীদের বাক্য গ্রহণ মানে তার অর্থ ও দাবি মেনে নেওয়া।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন