৪৪/৫০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৬৬ - নবীর সামনে কথা বলার আদব
সূরা আল-হুজুরাত
নবীর প্রতি সম্মান: কণ্ঠস্বর নিচু রাখার আদব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২৬৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৬৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُؤَمِّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ بْنِ جَمِيلٍ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ، قَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتَعْمِلْهُ عَلَى قَوْمِهِ . فَقَالَ عُمَرُ لاَ تَسْتَعْمِلْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَتَكَلَّمَا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ حَتَّى ارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ لِعُمَرَ مَا أَرَدْتَ إِلاَّ خِلاَفِي . فَقَالَ عُمَرُ مَا أَرَدْتُ خِلاَفَكَ قَالَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : ﴾ يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ ﴿ فَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بَعْدَ ذَلِكَ إِذَا تَكَلَّمَ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ لَمْ يُسْمِعْ كَلاَمَهُ حَتَّى يَسْتَفْهِمَهُ . قَالَ وَمَا ذَكَرَ ابْنُ الزُّبَيْرِ جَدَّهُ يَعْنِي أَبَا بَكْرٍ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ مُرْسَلٌ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ .
'আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল-আক্বরা ইবনু হাবিস রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এলে আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাঁকে তাঁর গোত্রের কর্মকর্তা নিয়োগ করুন। ‘উমর (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে কর্মচারীর পদে নিয়োগ করবেন না। তাঁরা পরস্পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্মুখে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হন এবং তাদের কণ্ঠস্বর চরমে পৌঁছে। আবূ বাকর (রাঃ) ‘উমর (রাঃ)–কে বললেন, আমার বিরোধিতা করাই আপনার একমাত্র লক্ষ্য। ‘উমর (রাঃ) বলেন, আমার লক্ষ্য আপনার বিরোধিতা করা নয়। বর্ণনাকারী বলেন, এ আয়াতটি তখন অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “হে ঈমানদারগণ! নাবীর কণ্ঠস্বরের উপর তোমরা নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না” –(সূরা হুজুরাত ২)। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর হতে ‘উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে কথা বললে তাঁর কথা শুনা যেত না, এমনকি তা বুঝার জন্য আবার ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রয়োজন হত।
আবূ ‘ঈসা বলেন, ইবনুয যুবাইর তার নানা আবু বাকর (রাঃ)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি। আবু ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি কিছু বর্ণনাকারী ইবনু আ’বী মুলাইকাহর সূত্রে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ)-এর উল্লেখ করেননি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে কথা বলার আদব শেখানো হয়েছে। আল-আকরা ইবনু হাবিসকে দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না—এ নিয়ে আবু বকর ও উমর (রাঃ) ভিন্ন মত দেন। আলোচনা বাড়তে বাড়তে তাঁদের কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে যায়। তখন সূরা হুজুরাতের নির্দেশ নাজিল হয়: নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না। আয়াত নাজিলের পর উমর (রাঃ) এত নিচু স্বরে কথা বলতেন যে অনেক সময় তাঁর কথা আবার বুঝিয়ে বলতে হতো। হাদিসটি দেখায়, সাহাবীরা সংশোধনের নির্দেশ শুনে দ্রুত নিজেদের আচরণ বদলে নিতেন। “নবীর প্রতি সম্মান”, “কথা বলার আদব” এবং “সূরা হুজুরাত ২” এই বর্ণনার মূল বিষয়। মতভেদ হতে পারে, কিন্তু রাসূলের উপস্থিতিতে শিষ্টতা হারানো উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে কণ্ঠস্বর নিচু রাখা ঈমানি আদবের অংশ।
- মতভেদ হলেও কথার সীমা ও সম্মান বজায় রাখা দরকার।
- উমর (রাঃ) আয়াত নাজিলের পর নিজের আচরণ দ্রুত বদলে নিয়েছিলেন।
- কুরআনের সংশোধন গ্রহণ করে বাস্তবে আমল করা সাহাবীদের বৈশিষ্ট্য ছিল।
