৪৪/৬৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩১৫ - জাহিলিয়াতের দলীয় ডাক
সূরা আল-মুনাফিকুন
ইসলামে গোত্রবাদ: জাহিলিয়াতের ঘৃণিত ডাক কেন পরিত্যাজ্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৩১৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৩১৫
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ كُنَّا فِي غَزَاةٍ قَالَ سُفْيَانُ يَرَوْنَ أَنَّهَا غَزْوَةُ بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَكَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ الْمُهَاجِرِيُّ يَا لَلْمُهَاجِرِينَ وَقَالَ الأَنْصَارِيُّ يَا لَلأَنْصَارِ فَسَمِعَ ذَلِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَا بَالُ دَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ " . قَالُوا رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ كَسَعَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " دَعُوهَا فَإِنَّهَا مُنْتِنَةٌ " . فَسَمِعَ ذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ ابْنُ سَلُولَ فَقَالَ أَوَقَدْ فَعَلُوهَا وَاللَّهِ (لئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ ) فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ دَعْنِي أَضْرِبْ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " دَعْهُ لاَ يَتَحَدَّثُ النَّاسُ أَنَّ مُحَمَّدًا يَقْتُلُ أَصْحَابَهُ " . وَقَالَ غَيْرُ عَمْرٍو فَقَالَ لَهُ ابْنُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَاللَّهِ لاَ تَنْقَلِبُ حَتَّى تُقِرَّ أَنَّكَ الذَّلِيلُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَزِيزُ . فَفَعَلَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
‘আমর ইবনু দীনার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, একটি যুদ্ধে আমরা উপস্থিত ছিলাম। সুফ্ইয়ান বলেন, তা বনী মুসতালিক্বের যুদ্ধ ছিল। এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করলে মুহাজির লোক ডাকেন, হে মুহাজির ভাইয়েরা। আনসারী লোকটিও ডাকেন, হে আনসার ভাইয়েরা। তা শুনতে পেয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জাহিলী যুগের ডাকাডাকি হচ্ছে কেন? লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করেছে। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেনঃ এ ডাকাডাকি বন্ধ কর, কারণ এটা ঘৃণিত ডাক।বিষয়টি 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূলের কানে পৌঁছলে সে বলল, এত বড় সাহস! এ কাজ তারা করেছে? আল্লাহ্র ক্বসম! যদি আমরা মাদীনায় ফিরে যেতে পারি তাহলে অবশ্যই সেখান হতে সম্মানিতরা হীনদেরকে বিতাড়িত করবে। 'উমর (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, এই মুনাফিক্বের ঘাড় আমি উড়িয়ে দেই। মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেনঃ তাকে এড়িয়ে চল। লোকেরা যেন বলতে না পারে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সঙ্গীদের খুন করেন।'আম্র ইবনু দীনার (রহঃ) ছাড়া অপর এক বর্ণনাকারী বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর ছেলে 'আবদুল্লাহ (রাঃ) (তার বাবাকে) বলেন, আল্লাহ্র ক্বসম! আপনি এ কথা যতক্ষণ স্বীকার না করবেন যে, “আপনিই হীন আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হলেন মহাসম্মানিত", ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি মাদীনায় ফিরে যেতে পারবেন না। তারপর সে তা স্বীকার করে।
আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক যুদ্ধে একজন মুহাজির ও একজন আনসারির মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ হয়। একজন অন্যজনকে আঘাত করলে দুজনই নিজ নিজ দলের লোকদের ডাকেন—একজন মুহাজিরদের, অন্যজন আনসারদের। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এ কথা শুনে জিজ্ঞেস করেন, জাহিলি যুগের এই ডাক কেন? ঘটনা জানার পর তিনি বলেন, এ ডাক ছেড়ে দাও; এটি ঘৃণিত। অর্থাৎ ব্যক্তিগত বিরোধকে দল, গোত্র বা পরিচয়ের সংঘাতে বদলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। পরে আবদুল্লাহ ইবন উবাই এই উত্তেজনাকে ব্যবহার করে মদিনায় সম্মানিতরা হীনদের বের করে দেবে বলে কথা বলে। উমর রা. কঠোর ব্যবস্থা চাইলে নবী صلى الله عليه وسلم তাকে ছেড়ে দিতে বলেন, যেন মানুষ না বলে যে মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم নিজের সঙ্গীদের হত্যা করেন। বর্ণনাটি গোত্রীয় উত্তেজনা থামানো, জনমতের ক্ষতি বিবেচনা করা এবং সংঘাত না বাড়ানোর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ব্যক্তিগত ঝগড়ায় দল বা গোত্রের নামে লোক জড়ো করা জাহিলিয়াতের ঘৃণিত ডাক।
- মুহাজির ও আনসার পরিচয় ভালো হলেও তা বিরোধ উসকে দিতে ব্যবহার করা যাবে না।
- কঠোর সিদ্ধান্তের আগে তার সামাজিক ফলও বিবেচনা করা দরকার।
- মুনাফিকরা ছোট বিরোধকে বড় বিভাজনে পরিণত করার সুযোগ খুঁজতে পারে।
