৪৪/৬৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩২০ - সাত আসমান ও আল্লাহর আরশ
সূরা আল-হাক্কা
সাত আসমান, আরশ ও সৃষ্টিজগতের বিশালতার বর্ণনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৩২০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৩২০
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمِيرَةَ، عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، قَالَ زَعَمَ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا فِي الْبَطْحَاءِ فِي عِصَابَةٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ فِيهِمْ إِذْ مَرَّتْ عَلَيْهِمْ سَحَابَةٌ فَنَظَرُوا إِلَيْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ تَدْرُونَ مَا اسْمُ هَذِهِ " . قَالُوا نَعَمْ هَذَا السَّحَابُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَالْمُزْنُ " . قَالُوا وَالْمُزْنُ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَالْعَنَانُ " . قَالُوا وَالْعَنَانُ . ثُمَّ قَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ تَدْرُونَ كَمْ بُعْدُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ " . فَقَالُوا لاَ وَاللَّهِ مَا نَدْرِي . قَالَ " فَإِنَّ بُعْدَ مَا بَيْنَهُمَا إِمَّا وَاحِدَةٌ وَإِمَّا اثْنَتَانِ أَوْ ثَلاَثٌ وَسَبْعُونَ سَنَةً وَالسَّمَاءُ الَّتِي فَوْقَهَا كَذَلِكَ " . حَتَّى عَدَّدَهُنَّ سَبْعَ سَمَوَاتٍ كَذَلِكَ ثُمَّ قَالَ " فَوْقَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ بَحْرٌ بَيْنَ أَعْلاَهُ وَأَسْفَلِهِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ إِلَى السَّمَاءِ وَفَوْقَ ذَلِكَ ثَمَانِيَةُ أَوْعَالٍ بَيْنَ أَظْلاَفِهِنَّ وَرُكَبِهِنَّ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ ثُمَّ فَوْقَ ظُهُورِهِنَّ الْعَرْشُ بَيْنَ أَسْفَلِهِ وَأَعْلاَهُ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ وَاللَّهُ فَوْقَ ذَلِكَ " . قَالَ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ يَقُولُ أَلاَّ يُرِيدُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَعْدٍ أَنْ يَحُجَّ حَتَّى نَسْمَعَ مِنْهُ هَذَا الْحَدِيثَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَرَوَى الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ عَنْ سِمَاكٍ نَحْوَهُ وَرَفَعَهُ . وَرَوَى شَرِيكٌ عَنْ سِمَاكٍ بَعْضَ هَذَا الْحَدِيثِ وَأَوْقَفَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ هُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ الرَّازِيُّ .
আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদল লোকের সাথে আল-বাতহা নামক কংকরময় জায়গায় বসা ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের মধ্যে বসা ছিলেন। তখন তাঁদের মাথার উপর দিয়ে এক খণ্ড মেঘ উড়ে যাচ্ছিল। তাঁরা সে দিকে তাকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা এর নাম জান কি? তাঁরা বললঃ হ্যাঁ, এক খণ্ড মেঘ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল-মুযনু। সাহাবাগণ বললেন, আল-মুযনু? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ, আনান (মেঘ)-ও। তাঁরা বললেনঃ আল-আনান।তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কি জান, আকাশ ও যমিনের মাঝের ব্যবধান কত? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমরা জানি না। তিনি বললেনঃ এতদুভয়ের মধ্যে একাত্তর বা বাহাত্তর বা তিয়াত্তর বছরের দূরত্ব। এক আকাশের উপর অপর যে আকাশ রয়েছে তার ব্যবধানও অনুরূপ। এভাবে তিনি সপ্তম আকাশ পর্যন্ত দূরত্বের বর্ণনা দেন।তারপর তিনি বললেনঃ সপ্তম আকাশের উপর একটি সমুদ্র আছে, যার উপর ও তলদেশের মধ্যকার দূরত্ব (গভীরতা) এক আকাশ থেকে অপর আকাশের দূরত্বের সমান। আর এই সমুদ্রের উপর বন্য ছাগল অনুরূপ আটজন ফেরেশতা আছেন, যাদের পদতল ও হাঁটুর মধ্যবর্তী ব্যবধান এক আকাশ থেকে অপর আকাশের ব্যবধানের সমান। এদের পিঠের উপর আল্লাহর ‘আরশ’ অবস্থিত, যার উপরিভাগ ও নিম্নভাগের দূরত্ব (উচ্চতা) এক আকাশ হতে অপর আকাশের দূরত্বের সমান। আল্লাহ তার উপর (উপবিষ্ট)।
আবদু ইবনু হুমাইদ (রহঃ) বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনু মাঈনকে বলতে শুনেছি, আবদুর রহমান কি হাজ্জে যাবেন না (অবশ্য যাবেন), যাতে তাঁর নিকট আমরা এ হাদীস শুনতে পারি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। ওয়ালীদ ইবনু আবূ সাওর (রহঃ) সিমাকের সূত্রে এ হাদীস মারফূরূপে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। শারীক এ হাদীসের অংশবিশেষ সিমাকের সূত্রে মাওকূফরূপে বর্ণনা করেছেন, মারফূরূপে নয়। রাবী আব্দুর রহমান হলেন, ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু সা’দ আল-রাবী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم প্রথমে সাহাবিদের মাথার ওপর দিয়ে যাওয়া মেঘের বিভিন্ন নাম বলেন—সাহাব, মুযন ও আনান। এরপর তিনি আকাশ ও জমিনের মধ্যকার দূরত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। সাহাবিরা না জানার কথা বললে তিনি একাত্তর, বাহাত্তর বা তিয়াত্তর বছরের দূরত্বের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, এক আকাশ থেকে পরের আকাশের ব্যবধানও অনুরূপ। এভাবে সাত আসমানের কথা আসে। সপ্তম আকাশের ওপরে একটি সাগর, তার ওপরে আটজন আরশ বহনকারী ফেরেশতার বর্ণনা এবং তাঁদের পিঠের ওপর আরশ থাকার কথা বলা হয়েছে। শেষে আল্লাহ তার ওপর বলে বর্ণনায় এসেছে। হাদিসটি সৃষ্টিজগতের বিশালতা ও মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সামনে আনে। এখানে যে মাপ, স্তর ও বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা বর্ণনার ভাষা অনুযায়ী গ্রহণ করা এবং এর বাইরে কল্পিত বিস্তারিত না যোগ করাই সতর্ক পদ্ধতি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের দেখা মেঘ থেকেও সৃষ্টিজগতের বিশালতা নিয়ে চিন্তা করা যায়।
- সাত আসমান ও তাদের মধ্যকার দূরত্বের বর্ণনা হাদিসে এসেছে।
- সপ্তম আকাশের ওপরে সাগর, ফেরেশতা ও আরশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
- অদৃশ্য জগতের বিষয়ে বর্ণনায় যতটুকু আছে, ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।
