৪৪/৮১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩৪৪ - তাকদীরের সাথে আমলের গুরুত্ব
সূরা আল-লাইল
তাকদীর ও আমল: লিখিত ভাগ্যের পরও কেন কাজ করতে হবে
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৩৪৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৩৪৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ كُنَّا فِي جَنَازَةٍ فِي الْبَقِيعِ فَأَتَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسَ وَجَلَسْنَا مَعَهُ وَمَعَهُ عُودٌ يَنْكُتُ بِهِ فِي الأَرْضِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ " مَا مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ إِلاَّ قَدْ كُتِبَ مَدْخَلُهَا " . فَقَالَ الْقَوْمُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلاَ نَتَّكِلُ عَلَى كِتَابِنَا فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ فَإِنَّهُ يَعْمَلُ لِلسَّعَادَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الشَّقَاءِ فَإِنَّهُ يَعْمَلُ لِلشَّقَاءِ قَالَ " بَلِ اعْمَلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ أَمَّا مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ فَإِنَّهُ يُيَسَّرُ لِعَمَلِ السَّعَادَةِ وَأَمَّا مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الشَّقَاءِ فَإِنَّهُ يُيَسَّرُ لِعَمَلِ الشَّقَاءِ " . ثُمَّ قَرَأَ : (فأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى * وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى * فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى * وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَى * وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى * فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى ) . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বাকীতে একটি জানাযার আমার হাজির ছিলাম। নবী (ﷺ) ও এসে বসলেন এবং তাঁর সঙ্গে আমরাও বসলাম। তাঁর সঙ্গে একটি কাঠ ছিল যা দিয়ে তিনি জমিন খুঁড়ছিলেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মাথা তুলে বলেনঃ কোন সৃষ্টিই এরূপ নেই যার বাসস্থান লিখিত হয়নি। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তবে আমাদের সেই লেখার উপর আমরা কি নির্ভর করব না? যে আমাদের মাঝে ভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত সে তো সৌভাগ্যসুলভ কাজই করবে, আর যে হতভাগ্যদের দলভুক্ত সে তো দুর্ভাগ্যের কর্মই করবে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ বরং তোমরা আমল করতে থাক। কারণ যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে সেটাই তার জন্য সহজসুলভ করে দেয়া হয়েছে। যে লোক ভাগ্যবানদের দলভুক্ত তার জন্য সৌভাগ্যসুলভ আমলই সহজতর করা হয়েছে এবং যে লোক হতভাগ্যদের দলভুক্ত তার জন্য দুর্ভাগ্যজনক কাজই সহজতর করা হয়েছে।অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেনঃ "সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা ভাল তা সঠিক মনে করে গ্রহণ করলে তার জন্য আমি সুগম করে দিব সহজ পথ। আর কেউ কৃপণতা করলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, আর যা ভাল তা অস্বীকার করলে আমি তার জন্য সুগম করে দিব কঠোর পথ "-(সূরা লাইল ৫-১০)
আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় তাকদীর ও আমল। বাকি‘তে জানাজার সময় নবী (صلى الله عليه وسلم) জানান, প্রত্যেক প্রাণীর বাসস্থান লিখিত হয়েছে। সাহাবীরা জানতে চান, তাহলে কি সেই লেখার উপর নির্ভর করে বসে থাকবে? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্ট বলেন, বরং তোমরা আমল করতে থাক। যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সেই কাজ সহজ করে দেওয়া হয়। এরপর তিনি সূরা লাইলের আয়াত পড়েন, যেখানে দান, তাকওয়া ও ভালো কথাকে সত্য মনে করার কথা এসেছে; আর কৃপণতা, নিজেকে যথেষ্ট মনে করা ও সত্য অস্বীকারের কথাও এসেছে। তাই তাকদীরের হাদিস অলসতা শেখায় না; বরং সৎ আমল, দান ও তাকওয়ার পথে চলতে বলে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকদীর লেখা আছে, তবু মানুষকে আমল করতে বলা হয়েছে।
- দান, তাকওয়া ও সত্য গ্রহণ সহজ পথের দিক নির্দেশ করে।
- কৃপণতা ও সত্য অস্বীকার কঠিন পথের দিকে নিয়ে যায়।
- ভাগ্যের অজুহাতে সৎ কাজ ছেড়ে বসে থাকা ঠিক নয়।
