৪৪/৮৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩৫০ - কাওসার ও কদরের রাতের বর্ণনা
সূরা আল-কদর
কাওসার ও লাইলাতুল কদর: হাসান (রাঃ)-এর বর্ণনার মূল শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৩৫০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৩৫০
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ الْحُدَّانِيُّ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ قَامَ رَجُلٌ إِلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ بَعْدَ مَا بَايَعَ مُعَاوِيَةَ فَقَالَ سَوَّدْتَ وُجُوهَ الْمُؤْمِنِينَ . أَوْ يَا مُسَوِّدَ وُجُوهِ الْمُؤْمِنِينَ . فَقَالَ لاَ تُؤَنِّبْنِي رَحِمَكَ اللَّهُ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُرِيَ بَنِي أُمَيَّةَ عَلَى مِنْبَرِهِ فَسَاءَهُ ذَلِكَ فَنَزَلَتْ : ( إنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ ) يَا مُحَمَّدُ يَعْنِي نَهْرًا فِي الْجَنَّةِ وَنَزَلَتْ : ( إنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ * وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ * لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ ) يَمْلِكُهَا بَعْدَكَ بَنُو أُمَيَّةَ يَا مُحَمَّدُ . قَالَ الْقَاسِمُ فَعَدَدْنَاهَا فَإِذَا هِيَ أَلْفُ شَهْرٍ لاَ يَزِيدُ يَوْمٌ وَلاَ يَنْقُصُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ الْقَاسِمِ بْنِ الْفَضْلِ . وَقَدْ قِيلَ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ الْفَضْلِ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَازِنٍ . وَالْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ الْحُدَّانِيُّ هُوَ ثِقَةٌ وَثَّقَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ وَيُوسُفُ بْنُ سَعْدٍ رَجُلٌ مَجْهُولٌ وَلاَ نَعْرِفُ هَذَا الْحَدِيثَ عَلَى هَذَا اللَّفْظِ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
ইউসুফ ইবনু সা’দ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
হাসান (রাঃ) মুআবিয়া (রাঃ)-এর নিকট বাই’আত গ্রহণের পর তাঁর সামনে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেনঃ আপনি (মুআবিয়ার নিকট বায়’আত গ্রহণ করে) মু’মিনদের চেহারা কলঙ্কিত করেছেন। এতে তিনি বললেনঃ তুমি আমাকে অভিযুক্ত করো না। আল্লাহ তা’আলা তোমার প্রতি রহমত করুন। যেহেতু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে (স্বপ্নে) উমাইয়্যা বংশীয়দেরকে তাঁর মিম্বারের উপর দেখানো হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নিকট খারাপ লাগে। তখন অবতীর্ণ হয়ঃ “আমি অবশ্যই তোমাকে কাওসার (ঝরনা) দান করেছি” (সূরাঃ আল-কাওসার-১) অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ! আমি জান্নাতে তোমাকে কাওসার নামক ঝরনা দান করেছি।আরো অবতীর্ণ হয়ঃ “নিশ্চয় আমি এ কোরআন মহিমান্বিত রাতে অবতীর্ণ করেছি। আর মহিমান্বিত রাত প্রসঙ্গে আপনি কি জানেন? মহিমান্বিত রাত হাজার মাস হতেও উত্তম” (সূরাঃ আল-ক্বাদর-১-৩)।হে মুহাম্মাদ! আপনার পরে বানী উমাইয়্যা অত মাস শাসন করবে। কাসিম (রহঃ) বলেনঃ আমরা গণনা করে দেখেছি বানী উমাইয়্যাদের শাসনকাল ছিল পূর্ণ ‘এক হাজার মাস’, এর এক দিন কম বা বেশি নয়।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু কাসিম ইব্নুল ফাযলের হাদীস হিসেবে এটি জেনেছি। কথিত আছে যে, কাসিম ইবনুল ফাযল (রহঃ) ইউসুফ ইবনু মাযিনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কাসিম ইবনুল ফাযল আল-হুদ্দানী সিকাহ রাবী। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ ও আব্দুর রহমান ইবনু মাহ্দী তাকে বিশ্বাসযোগ্য বলেছেন। ইউসুফ ইবনু সা’দ অপরিচিত ব্যক্তি, আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই একই রকম শব্দে এ হাদীস বর্ণিত পেয়েছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় কাওসার ও লাইলাতুল কদর। হাসান (রাঃ) মুআবিয়া (রাঃ)-এর নিকট বাইআত করার পর এক ব্যক্তি তাঁকে কঠিন কথা বললে তিনি নরমভাবে বলেন, আমাকে অভিযুক্ত করো না, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন। এরপর তিনি এমন একটি বর্ণনা উল্লেখ করেন, যেখানে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে উমাইয়া বংশীয়দের তাঁর মিম্বারে দেখানো, সূরা কাওসার নাজিল হওয়া এবং লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম হওয়ার কথা এসেছে। বর্ণনায় কাওসারকে জান্নাতের ঝর্ণা বলা হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কঠিন অভিযোগের জবাবেও সংযম রাখা এবং আল্লাহর দেওয়া দান ও কদরের রাতের মর্যাদা স্মরণ করা। বর্ণনার বাইরে অতিরিক্ত রাজনৈতিক দাবি না করাই সতর্ক পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন কথার জবাবে হাসান (রাঃ) নরম ভাষা ব্যবহার করেছেন।
- কাওসারকে জান্নাতের ঝর্ণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম—এ কথা বর্ণনায় এসেছে।
- বর্ণনার সীমা মেনে কথা বলা ইলমি সতর্কতার অংশ।
