২/১৪৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৪৫ - অন্ধকারে কিবলা না জানলে নামাজ
যে ব্যক্তি বৃষ্টি–বাদলের কারণে কিবলা ব্যতীত অন্যদিকে ফিরে নামায আদায় করে
অন্ধকার রাতে কিবলা না জানলে নামাজ: সফরের একটি শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৪৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৪৫
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ بْنُ سَعِيدٍ السَّمَّانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي سَفَرٍ فِي لَيْلَةٍ مُظْلِمَةٍ فَلَمْ نَدْرِ أَيْنَ الْقِبْلَةُ فَصَلَّى كُلُّ رَجُلٍ مِنَّا عَلَى حِيَالِهِ فَلَمَّا أَصْبَحْنَا ذَكَرْنَا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَنَزَلَ: (فَأَيْنَمَا تُولُّوا فَثَمَّ وَجْهُ الله) .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِذَاكَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَشْعَثَ السَّمَّانِ . وَأَشْعَثُ بْنُ سَعِيدٍ أَبُو الرَّبِيعِ السَّمَّانُ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ. وَقَدْ ذَهَبَ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا. قَالُوا إِذَا صَلَّى فِي الْغَيْمِ لِغَيْرِ الْقِبْلَةِ ثُمَّ اسْتَبَانَ لَهُ بَعْدَ مَا صَلَّى أَنَّهُ صَلَّى لِغَيْرِ الْقِبْلَةِ فَإِنَّ صَلاَتَهُ جَائِزَةٌ. وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ.
‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমির ইবনু রবী’আ (রাঃ) হতে তাঁর পিতার হতে বর্ণিতঃ
তিনি (‘আমির) বলেন, এক অন্ধকার রাতে নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সফরে ছিলাম। কেবলা যে কোন দিকে তা আমরা ঠিক করতে পারলাম না। আমাদের প্রত্যেকে যার যার সামনের দিকে ফিরে নামায আদায় করলাম। সকাল বেলা আমরা এ ঘটনা নবী (ﷺ)-কে বললাম।এ প্রসঙ্গে এই আয়াত অবতীর্ণ হল- “পূর্ব ও পশ্চিম সবই আল্লাহ তা’আলার। যে দিকে তুমি মুখ ফিরাবে, সেদিকেই আল্লাহ তা’আলার চেহারা বিরাজমান”-(সূরা আল-বাকারা-১১৫)।
আবু ‘ঈসা বলেন–এ হাদীসের সনদ খুব একটা শক্তিশালী নয়। এ হাদীসের রাবি আশ’আস ইবনু সা’ঈদ একজন দুর্বল রাবি। আমরা শুধু তাঁর মাধ্যমেই হাদীসটি জেনেছি। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ বলেছেন, মেঘের কারণে কেবলা ছাড়া অন্য দিকে নামায আদায় করা হল, তারপর নামায শেষে জানা গেল যে, কেবলার দিক ব্যতীত অন্য দিকে ফিরে নামায আদায় করা হয়েছে, এ অবস্থায় নামায নির্ভুল হবে। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাক এ মতের সমর্থক।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, এক অন্ধকার রাতে সাহাবীরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সাথে সফরে ছিলেন। তারা কিবলা কোন দিকে তা ঠিক করতে পারেননি। তাই প্রত্যেকে নিজের সামনের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করেন। সকাল হলে তারা বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানান। এরপর আয়াত নাজিল হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে—পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই, তোমরা যেদিকে মুখ ফিরাও, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা। বর্ণনার শেষে আবু ঈসা সনদ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন, এর সনদ শক্তিশালী নয়। আবার বর্ণনায় আলিমদের একটি মতও এসেছে যে, মেঘলা অবস্থায় কিবলা ভুল হলে পরে জানলেও নামাজ জায়েজ। এখানে মূল শিক্ষা হলো কিবলা নির্ধারণে চেষ্টা, সফরের বাস্তব অসুবিধা, এবং নামাজের প্রতি যত্ন। তবে হাদিসের সনদ মন্তব্য মনে রেখে ব্যাখ্যা করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে কিবলা নির্ধারণে অসুবিধা হতে পারে।
- কিবলা না বুঝলে মানুষ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে।
- হাদিসের সনদ সম্পর্কে আলিমদের মন্তব্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।
- নামাজ আদায়ে দিকের প্রতি যত্ন রাখা দরকার।
