২/১৪৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৪৪ - কিবলা নির্ধারণের সহজ নির্দেশ
পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝখানে কিবলা
কিবলা নির্ধারণের হাদিস: পূর্ব-পশ্চিমের মাঝের দিক
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৪৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৪৪
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ بَكْرٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَخْرَمِيُّ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ الأَخْنَسِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ قِبْلَةٌ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَإِنَّمَا قِيلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَخْرَمِيُّ لأَنَّهُ مِنْ وَلَدِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ " مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ قِبْلَةٌ " . مِنْهُمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَابْنُ عَبَّاسٍ .وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا جَعَلْتَ الْمَغْرِبَ عَنْ يَمِينِكَ وَالْمَشْرِقَ عَنْ يَسَارِكَ فَمَا بَيْنَهُمَا قِبْلَةٌ إِذَا اسْتَقْبَلْتَ الْقِبْلَةَ. وَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ " مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ قِبْلَةٌ " . هَذَا لأَهْلِ الْمَشْرِقِ. وَاخْتَارَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ التَّيَاسُرَ لأَهْلِ مَرْوٍ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে কেবলা অবস্থিত।
আবু ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু জাফর মাখরামী এজন্য বলা হয়ে থাকে যে, তিনি মিসওয়ার ইবনু মাখরামার সন্তান। এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একাধিক সাহাবা বর্ণনা করেছেন। ‘উমর ঈবনুল খাত্তাব, আলি ইবনু আবূ তালিব ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনু ‘উমর (রাঃ) বলেনঃ “যখন তুমি পশ্চিমকে ডান দিকে এবং পূর্বকে বাম দিকে রেখে কেবলামুখী হয়ে দাড়াও তখন এই উভয় দিকের মধ্যবর্তী দিকই কেবলার দিক”। ইবনূল মুবারাক বলেন, পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যবর্তী দিকগুলো প্রাচ্যবাসীদের কেবলা। তিনি মারওবাসীদের জন্য বাঁ দিক কেবলা নির্দিষ্ট করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে কিবলা অবস্থিত। এরপর আবু ঈসা হাদিসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। বর্ণনায় আরও এসেছে, একই অর্থের কথা কয়েকজন সাহাবীর কাছ থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইবনু উমারের বক্তব্যে দিক বোঝার একটি ব্যাখ্যাও আছে—যদি পশ্চিম ডান দিকে আর পূর্ব বাম দিকে থাকে, তবে মাঝের দিক কিবলা, যখন কিবলার দিকে মুখ করা হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো নামাজের কিবলা নির্ধারণে সহজতা। তবে এই কথাকে সব এলাকার জন্য একইভাবে প্রয়োগ করা যাবে কি না, তা নিয়ে বর্ণনায়ই পূর্বাঞ্চলের মানুষের কথা এসেছে। তাই ব্যাখ্যায় বাড়তি ফিকহি দাবি না করে বলা যায়, হাদিসটি কিবলার দিক বুঝতে একটি সংক্ষিপ্ত নির্দেশ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিবলা নির্ধারণে দিক বোঝা জরুরি।
- হাদিসে পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝের দিকের কথা এসেছে।
- বর্ণনার মান সম্পর্কে আবু ঈসা মন্তব্য করেছেন।
- স্থানভেদে দিক বোঝার ক্ষেত্রে আলিমদের ব্যাখ্যা রয়েছে।
