৪৫/৫৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৪৬১ - লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহর ফজিলত
সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ ও আলহামদু লিল্লাহ পাঠ করার ফযীলত
লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ: জান্নাতের রত্নভাণ্ডার
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৪৬১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৪৬১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مَرْحُومُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنَا أَبُو نَعَامَةَ السَّعْدِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي غَزَاةٍ فَلَمَّا قَفَلْنَا أَشْرَفْنَا عَلَى الْمَدِينَةِ فَكَبَّرَ النَّاسُ تَكْبِيرَةً وَرَفَعُوا بِهَا أَصْوَاتَهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَصَمَّ وَلاَ غَائِبٍ هُوَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ رُءُوسِ رِحَالِكُمْ " . ثُمَّ قَالَ " يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسِ أَلاَ أُعَلِّمُكَ كَنْزًا مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَأَبُو عُثْمَانَ النَّهْدِيُّ اسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَلٍّ وَأَبُو نَعَامَةَ اسْمُهُ عَمْرُو بْنُ عِيسَى . وَمَعْنَى قَوْلِهِ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ رُءُوسِ رِحَالِكُمْ يَعْنِي عِلْمَهُ وَقُدْرَتَهُ .
আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। ফেরার কালে যখন আমরা মাদীনার উঁচু ভূমি পার হচ্ছিলাম সে সময় লোকেরা সজোরে তাকবির ধ্বনি উচ্চারণ করে। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের প্রভু বধিরও নন এবং অনুপস্থিতও নন। তিনি তোমাদের মাঝেই আছেন এবং তোমাদের সওয়ারীর সম্মুখেই আছেন। তারপর তিনি বললেনঃ হে আবদুল্লাহ ইবনু কাইস (আবু মূসা)। আমি কি তোমাকে জান্নাতের অন্যতম রত্ন ভাণ্ডার সম্পর্কে জানাব না? তা হল “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৪৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জিকির করার সুন্দর আদব শেখানো হয়েছে। সাহাবীরা যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে মদীনার কাছে এসে জোরে তাকবির বলছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বুঝিয়ে দিলেন, আল্লাহ বধির নন এবং দূরেও নন। তাই আল্লাহর স্মরণে চিৎকার করার দরকার নেই; বরং বিশ্বাস ও ভক্তির সঙ্গে জিকির করাই মূল কথা। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বান্দা যখন আল্লাহকে ডাকে, আল্লাহ তার অবস্থা জানেন। এরপর নবীজি (صلى الله عليه وسلم) আবু মূসা (রাঃ)-কে “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” বাক্যটি শিখিয়ে বলেন, এটি জান্নাতের অন্যতম রত্নভাণ্ডার। এই জিকিরের অর্থ মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে শক্তি, সামর্থ্য ও সাহায্য আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহকে ডাকতে চিৎকার করা জরুরি নয়; তিনি বান্দার ডাক জানেন।
- জিকিরে ভদ্রতা, স্থিরতা ও আল্লাহর নিকটতার বিশ্বাস থাকা উচিত।
- “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” জান্নাতের রত্নভাণ্ডার হিসেবে বর্ণিত।
- শক্তি ও সামর্থ্যের মালিক আল্লাহ—এই বিশ্বাস মুমিনকে বিনয়ী করে।
