২/১৫০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫৩ - খাবার এলে আগে খাবার
রাতের খাবার উপস্থিত হওয়ার পর নামাজ শুরু হলে প্রথমে খাবার খেয়ে নাও
খাবার সামনে থাকলে নামাজে মনোযোগ: আগে খাবার খাওয়ার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৫৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৫৩
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «إِذَا حَضَرَ الْعَشَاءُ وَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَابْدَءُوا بِالْعَشَاءِ» .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ وَأُمِّ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَعَلَيْهِ الْعَمَلُ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَابْنُ عُمَرَ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ يَقُولاَنِ يَبْدَأُ بِالْعَشَاءِ وَإِنْ فَاتَتْهُ الصَّلاَةُ فِي الْجَمَاعَةِ .قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ الْجَارُودَ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ يَبْدَأُ بِالْعَشَاءِ إِذَا كَانَ طَعَامًا يُخَافُ فَسَادُهُ . وَالَّذِي ذَهَبَ إِلَيْهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ أَشْبَهُ بِالاِتِّبَاعِ وَإِنَّمَا أَرَادُوا أَنْ لاَ يَقُومَ الرَّجُلُ إِلَى الصَّلاَةِ وَقَلْبُهُ مَشْغُولٌ بِسَبَبِ شَيْءٍ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ لاَ نَقُومُ إِلَى الصَّلاَةِ وَفِي أَنْفُسِنَا شَيْءٌ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ যখন রাতের খাবার পরিবেশন করা হয় এবং নামাজের ইকামতও দেওয়া হয়, তখন আগে খাবার খেয়ে নাও।
এ অনুচ্ছেদে ‘আয়িশাহ্, ইবনু ‘উমর, সালামা ইবনুল আকওয়া ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আনাসের হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী (ﷺ)-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা যেমন, আবূ বাক্র, ‘উমর ও ইবনু ‘উমর (রাঃ) এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম মত দিয়েছেন। তাঁরা উভয়েই বলেছেনঃ যদি নামাজের জামাআতও হারাবার আশঙ্কা থাকে তবুও আগে খাবার খেয়ে নিবে। ওয়াকী (রহঃ) এ হাদীসের ব্যাপারে বলেছেন, যদি খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে প্রথমে খেয়ে নিবে। নবী (ﷺ)-এর কিছু সাহাবা উল্লেখিত হাদীসের এই মর্ম গ্রহণ করেছেন যে, মন যদি কোন জিনিস নিয়ে চিন্তিত থাকে তবে তখন নামাজ আদায় করবে না। এই মতের অনুসরণ করাই উত্তম। খাবারের ব্যাপারটাও একইরকম, সুতরাং আহারই আগে খেয়ে নিবে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন “মনের কোন চিন্তা বা দুশ্চিন্তা ব্যস্ততা থাকলে আমরা নামাজে দাঁড়াই না। ”
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যখন রাতের খাবার পরিবেশন করা হয় এবং নামাজের ইকামতও দেওয়া হয়, তখন আগে খাবার খেয়ে নাও। মূল বিষয় হলো নামাজে মনোযোগ। বর্ণনায় আবু ঈসা বলেছেন, কিছু আলিম এই আমল গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, উদ্দেশ্য হলো মানুষ যেন এমন অবস্থায় নামাজে না দাঁড়ায় যখন তার মন কোনো কারণে ব্যস্ত থাকে। এখানে শিক্ষা খুব বাস্তব। ক্ষুধা বা সামনে রাখা খাবারের চিন্তা মানুষকে নামাজে অমনোযোগী করতে পারে। তাই হাদিসে আগে খাবারের কথা এসেছে। তবে এটিকে অলসতা বা নামাজকে হালকা করার অজুহাত বানানো ঠিক নয়; কারণ হাদিসে নির্দিষ্ট অবস্থার কথা বলা হয়েছে—খাবার উপস্থিত এবং ইকামত হয়ে গেছে। সহজভাবে বললে, নামাজে মন হাজির রাখা বড় বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবার সামনে থাকলে মন ব্যস্ত হতে পারে।
- নামাজে মনোযোগ রাখার জন্য আগে খাবার খাওয়ার নির্দেশ এসেছে।
- হাদিসটি নির্দিষ্ট অবস্থার কথা বলছে, সাধারণ অজুহাত নয়।
- ইবাদতে শরীর ও মন—দুটোর অবস্থাই গুরুত্ব রাখে।
