২/১৬২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭২ - অসুস্থ ব্যক্তির নামাজের নিয়ম
বসে নামাজ আদায় করলে দাঁড়িয়ে আদায়ের অর্ধেক সওয়াব পাওয়া যায়
অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ: দাঁড়িয়ে, বসে বা কাত হয়ে
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৭২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৭২
وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ إِلاَّ أَنَّهُ يَقُولُ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَنْ صَلاَةِ الْمَرِيضِ فَقَالَ " صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ " . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ هَنَّادٌ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ بِهَذَا الْحَدِيثِ. قَالَ أَبُو عِيسَى وَلاَ نَعْلَمُ أَحَدًا رَوَى عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ نَحْوَ رِوَايَةِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ. وَقَدْ رَوَى أَبُو أُسَامَةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ نَحْوَ رِوَايَةِ عِيسَى بْنِ يُونُسَ. وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي صَلاَةِ التَّطَوُّعِ . حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ إِنْ شَاءَ الرَّجُلُ صَلَّى صَلاَةَ التَّطَوُّعِ قَائِمًا وَجَالِسًا وَمُضْطَجِعًا. وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي صَلاَةِ الْمَرِيضِ إِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُصَلِّيَ جَالِسًا فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ يُصَلِّي عَلَى جَنْبِهِ الأَيْمَنِ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ يُصَلِّي مُسْتَلْقِيًا عَلَى قَفَاهُ وَرِجْلاَهُ إِلَى الْقِبْلَةِ. وَقَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ " مَنْ صَلَّى جَالِسًا فَلَهُ نِصْفُ أَجْرِ الْقَائِمِ " . قَالَ هَذَا لِلصَّحِيحِ وَلِمَنْ لَيْسَ لَهُ عُذْرٌ. يَعْنِي فِي النَّوَافِلِ فَأَمَّا مَنْ كَانَ لَهُ عُذْرٌ مِنْ مَرَضٍ أَوْ غَيْرِهِ فَصَلَّى جَالِسًا فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ الْقَائِمِ. وَقَدْ رُوِيَ فِي بَعْضِ هَذَا الْحَدِيثِ مِثْلُ قَوْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ .
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ আদায় করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় কর; যদি দাঁড়িয়ে আদায় করতে সক্ষম না হও তবে বসে নামাজ আদায় কর; যদি বসে নামাজ আদায় করতে সক্ষম না হও তবে (শুয়ে) কাত হয়ে নামাজ আদায় কর।
আবু ‘ঈসা বলেনঃ হুসাইন আল-মুয়াল্লিম হতে ইবরাহীম ইবনু তাহমানের বর্ণনার মতো অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবু উসামা এবং আরো অনেকে হুসাইন আল-মুয়াল্লিম হতে ‘ঈসা ইবনু ইউনুসের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিছু বিদ্বানের মতে নফল নামাজের জন্য এ সম্মতি দেয়া হয়েছে। হাসান (বাসরী) হতে বর্ণিত আছে, নফল নামাজ আদায়কারী ইচ্ছা করলে দাঁড়িয়ে, বসে বা শুয়েও নামাজ আদায় করতে পারে। সনদ সহীহ। যে অসুস্থ ব্যক্তি বসে নামাজ আদায় করতে অক্ষম সে ব্যক্তি কিভাবে নামাজ আদায় করবে এ ব্যাপারে বিদ্বানগণের মতের অমিল রয়েছে। একদল বিদ্বান বলেন, এমন ব্যক্তি ডানকাতে শুয়ে (কিবলার দিকে মুখ করে) নামাজ আদায় করবে। আরেক দল বিদ্বান বলেন, চিৎ হয়ে শুয়ে কিবলার দিকে পা দিয়ে (মাথা সামান্য উঁচু করে) নামাজ আদায় করবে। ইমরান ইবনু হুসাইনের এ হাদীসের ব্যাখ্যায় সুফইয়ান সাওরী বলেনঃ সুস্থ ব্যক্তি যার কোন উযর নেই সে বসে নামাজ পড়লে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার অর্ধেক সাওয়াব পাবে যদি তা নফল নামাজ হয়। আর যে ব্যক্তির উযর বা আপত্তি আছে সে যদি বসে নামাজ পড়ে তবে সে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার মতোই সাওয়াব পাবে। কোন কোন হাদীসে সুফইয়ান সাওরীর মতের সমর্থনে বর্ণনা রয়েছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে রোগীর নামাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। উত্তরে তিনি বলেন, দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় কর; যদি দাঁড়িয়ে আদায় করতে সক্ষম না হও তবে বসে নামাজ আদায় কর; আর যদি বসে আদায় করতেও সক্ষম না হও তবে কাত হয়ে নামাজ আদায় কর। এই হাদিসটি খুব সহজ ভাষায় একটি ধারাবাহিকতা শেখায়। আগে দাঁড়িয়ে নামাজ, তা সম্ভব না হলে বসে, সেটাও না হলে কাত হয়ে। এতে নামাজের গুরুত্বও বোঝা যায়, আবার অসুস্থ মানুষের কষ্টের কথাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। যারা রোগীর নামাজের নিয়ম জানতে চান, এই হাদিস তাদের জন্য মূল নির্দেশনার মতো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অসুস্থ হলেও নামাজের গুরুত্ব বজায় থাকে।
- দাঁড়াতে না পারলে বসে নামাজ পড়ার নির্দেশ এসেছে।
- বসতেও না পারলে কাত হয়ে নামাজ পড়ার কথা বলা হয়েছে।
- নামাজে সক্ষমতা অনুযায়ী সহজতার শিক্ষা আছে।
