২/১৬৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭৩ - বসে নফল নামাজ ও ধীর কিরাআত
নফল নামাজ বসে আদায় করা
বসে নফল নামাজ: ধীরে কিরাআত করার সুন্দর দৃষ্টান্ত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৭৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৭৩
حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ السَّهْمِيِّ، عَنْ حَفْصَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ صَلَّى فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا حَتَّى كَانَ قَبْلَ وَفَاتِهِ ﷺ بِعَامٍ فَإِنَّهُ كَانَ يُصَلِّي فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا وَيَقْرَأُ بِالسُّورَةِ وَيُرَتِّلُهَا حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلَ مِنْهَا . وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ حَفْصَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ جَالِسًا فَإِذَا بَقِيَ مِنْ قِرَاءَتِهِ قَدْرُ ثَلاَثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً قَامَ فَقَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ صَنَعَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ . وَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي قَاعِدًا فَإِذَا قَرَأَ وَهُوَ قَائِمٌ رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ قَائِمٌ وَإِذَا قَرَأَ وَهُوَ قَاعِدٌ رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ قَاعِدٌ . قَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ وَالْعَمَلُ عَلَى كِلاَ الْحَدِيثَيْنِ . كَأَنَّهُمَا رَأَيَا كِلاَ الْحَدِيثَيْنِ صَحِيحًا مَعْمُولاً بِهِمَا .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের এক বছর পূর্ব পর্যন্ত আমি তাঁকে বসে বসে নফল নামাজ আদায় করতে দেখিনি। তারপর তিনি বসে বসে নফল নামাজ আদায় করতেন এবং সূরাসমূহ শান্ত-স্থিরভাবে থেমে থেমে পাঠ করতেন। এতে তা দীর্ঘ হতে দীর্ঘতর হত।
এ অনুচ্ছেদে উন্মু সালামা এবং আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ‘ঈসা বলেনঃ হাফসার হাদীসটি হাসান সহীহ। নাবী (ﷺ)-এর নিকট হতে এরূপও বর্ণিত হয়েছেঃ “তিনি রাতের বেলা বসে নামাজ আদায় করতেন। কিরা’আতের তিরিশ অথবা চল্লিশ আয়াত বাকি থাকতে তিনি উঠে দাঁড়াতেন এবং তা পড়ে রুকূ-সাজদাহ করতেন। দ্বিতীয় রাকআতেও তিনি এরূপ করতেন। আরো বর্ণিত আছে, তিনি বসে নামাজ আদায় করতেন যখন তিনি দাঁড়িয়ে কিরা’আত পাঠ করতেন, রুকূ-সাজদাহও দাঁড়িয়ে করতেন। তিনি বসে কিরা’আত পাঠ করলে রুকূ-সাজদাহও বসে করতেন।” ইমাম আহমাদ ও ইসহাক বলেন, উভয় হাদীস অনুযায়ী আমল করা যায়। অর্থাৎ দু’টো হাদীসই সহীহ এবং তদনুযায়ী আমল করার যোগ্য।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় বসে নফল নামাজ এবং ধীর কিরাআত। হাফসা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ইন্তিকালের এক বছর পূর্ব পর্যন্ত তিনি তাঁকে বসে বসে নফল নামাজ আদায় করতে দেখেননি। এরপর তিনি বসে নফল নামাজ আদায় করতেন এবং সূরাগুলো শান্তভাবে, থেমে থেমে পাঠ করতেন। এতে কিরাআত দীর্ঘ হয়ে যেত। এই বর্ণনায় দুটি বিষয় স্পষ্ট: রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বসে নফল নামাজ পড়েছেন এবং কুরআন তিলাওয়াত ধীরে করেছেন। তাই হাদিসটি নফল নামাজে বসে পড়া, ধীর কিরাআত, এবং ইবাদতে স্থিরতার শিক্ষা দেয়। তবে বর্ণনার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত কারণ বলা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বসে নফল নামাজ আদায় করেছেন।
- তিনি সূরা শান্তভাবে ও থেমে থেমে পাঠ করতেন।
- ধীরে কিরাআত করলে পাঠ দীর্ঘ হতে পারে—এ কথা বর্ণনায় এসেছে।
- নফল নামাজে স্থিরতা ও মনোযোগের শিক্ষা পাওয়া যায়।
