৪৬/৩৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮১২ - হুযাইফা ও ইবনু মাসউদের নির্দেশনা
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ)-এর মর্যাদা
হুযাইফা ও ইবনু মাসউদ: সত্য বর্ণনা ও কুরআন পাঠে আস্থা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৮১২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৮১২
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ، عَنْ زَاذَانَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اسْتَخْلَفْتَ. قَالَ «إِنِ اسْتَخْلَفْتُ عَلَيْكُمْ فَعَصَيْتُمُوهُ عُذِّبْتُمْ وَلَكِنْ مَا حَدَّثَكُمْ حُذَيْفَةُ فَصَدِّقُوهُ وَمَا أَقْرَأَكُمْ عَبْدُ اللَّهِ فَاقْرَءُوهُ» . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَقُلْتُ لإِسْحَاقَ بْنِ عِيسَى يَقُولُونَ هَذَا عَنْ أَبِي وَائِلٍ. قَالَ لاَ عَنْ زَاذَانَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ وَهُوَ حَدِيثُ شَرِيكٍ.
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
লোকেরা বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! যদি আপনি কাউকে খলীফা (স্থলাভিষিক্ত) নিযুক্ত করে যেতেন। তিনি বললেনঃ আমি কাউকে তোমাদের খলীফা নিযুক্ত করে গেলে এবং তোমরা তার অবাধ্যচারী হলে তোমাদেরকে সাজা দেয়া হবে। সুতরাং হুযাইফা (রাঃ) তোমাদের নিকট যা বর্ণনা করে তাকে সত্য বলে গ্রহণ কর এবং ইবনু মাসঊদ (রাঃ) তোমাদেরকে যা কিছু পাঠ করায় তা পাঠ করে নাও।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। এটি শারীকের বর্ণিত হাদীস।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে লোকেরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বলেন, তিনি যদি কাউকে খলীফা নিযুক্ত করে যেতেন। তিনি বলেন, যদি তিনি কাউকে খলীফা করে যান আর মানুষ তার অবাধ্য হয়, তাহলে শাস্তির ভয় আছে। এরপর তিনি বলেন, হুযাইফা (রাঃ) যা বর্ণনা করেন তা সত্য বলে গ্রহণ করো এবং আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) যা পাঠ করান তা পাঠ করো। এখানে নেতৃত্ব, আনুগত্য, সত্য বর্ণনা এবং কুরআন পাঠ—সব বিষয় সংক্ষেপে এসেছে। হাদিসের মূল কথা হলো দায়িত্বপূর্ণ নেতৃত্বের সঙ্গে আনুগত্যের বিষয় জড়িত, আর নির্ভরযোগ্য সাহাবীদের কাছ থেকে বর্ণনা ও কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। এতে হুযাইফা (রাঃ)-এর বর্ণনার আস্থা এবং ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর কুরআন পাঠের মর্যাদা প্রকাশ পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেতৃত্বের সঙ্গে আনুগত্যের দায়িত্ব জড়িত।
- হুযাইফা (রাঃ)-এর বর্ণনাকে আস্থার সঙ্গে গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
- ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর কুরআন পাঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- দ্বীনি বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সাহাবীদের থেকে শেখা উচিত।
