৪৬/৪৭. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮৩৭ - আবু হুরায়রার হাদিস বর্ণনার সত্যতা

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর মর্যাদা

আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর বেশি হাদিস বর্ণনার কারণ

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৮৩৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْحَرَّانِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ فَقَالَ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ أَرَأَيْتَ هَذَا الْيَمَانِيَ يَعْنِي أَبَا هُرَيْرَةَ هُوَ أَعْلَمُ بِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مِنْكُمْ نَسْمَعُ مِنْهُ مَا لاَ نَسْمَعُ مِنْكُمْ أَوْ يَقُولُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مَا لَمْ يَقُلْ . قَالَ أَمَّا أَنْ يَكُونَ سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مَا لَمْ نَسْمَعْ فَلاَ أَشُكُّ إِلاَّ أَنَّهُ سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مَا لَمْ نَسْمَعْ وَذَاكَ أَنَّهُ كَانَ مِسْكِينًا لاَ شَىْءَ لَهُ ضَيْفًا لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَدُهُ مَعَ يَدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَكُنَّا نَحْنُ أَهْلَ بُيُوتَاتٍ وَغِنًى وَكُنَّا نَأْتِي رَسُولَ اللَّهِ ﷺ طَرَفَىِ النَّهَارِ فَلاَ نَشُكُّ إِلاَّ أَنَّهُ سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مَا لَمْ نَسْمَعْ وَلاَ نَجِدُ أَحَدًا فِيهِ خَيْرٌ يَقُولُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مَا لَمْ يَقُلْ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ . وَقَدْ رَوَاهُ يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ وَغَيْرُهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ .

মালিক ইবনু আবূ আমির (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক লোক তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আবূ মুহাম্মাদ! ঐ ইয়ামানী লোকটি অর্থাৎ আবূ হুরাইরা (রাঃ) প্রসঙ্গে আপনার কি বক্তব্য? তিনি কি আপনাদের চাইতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীস অনেক বেশি জানেন? তাঁর নিকট আমরা এমন কিছু হাদীস শুনি যা আপনাদের নিকট শুনতে পাই না। অথবা তিনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বরাতে এমন কথা বলেন যা প্রকৃতপক্ষে তিনি বলেননি?তালহা (রাঃ) বললেন, বস্তুত তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এ হাদীস শুনেছেন যা আমরা শুনতে পারিনি। তাঁর কারণ এই যে, তিনি ছিলেন একজন গরীব লোক, তাঁর কিছুই ছিল না। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অতিথি। তাঁর হাত থাকত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাতের সাথে (অর্থাৎ সব সময় তাঁর সঙ্গে থাকতেন)। আর আমরা ছিলাম বাড়ি-ঘর ও পরিবার-পরিজনসহ ধনবান। তাই আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমাতে হাযির হওয়ার সুযোগ পেতাম দিনের দুই ভাগে (সকাল ও সন্ধ্যায়)। তাই নিঃসন্দেহে তিনি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী শুনেছেন, যা আমরা শুনিনি। আর তুমি এমন একজন সৎ লোকও খুঁজে পাবে না যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বরাতে এমন কথা বলবেন, যা সত্যিকার অর্থে তিনি বলেননি।

আবূ ঈসা (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। অবশ্য ইউনুস ইবনু বুকাইর প্রমুখগণ এ হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮৩৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক ব্যক্তি তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাঃ)-কে আবু হুরায়রা (রাঃ) সম্পর্কে প্রশ্ন করে। সে জানতে চায়, তিনি কি অন্য সাহাবীদের চেয়ে বেশি হাদিস জানেন, নাকি নবীজি বলেননি এমন কথা বলেন? তালহা (রাঃ) উত্তরে বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) এমন হাদিস শুনেছেন যা তাঁরা শুনতে পারেননি। কারণ তিনি ছিলেন দরিদ্র, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর অতিথি এবং প্রায় সবসময় তাঁর সঙ্গে থাকতেন। অন্যদিকে তালহা (রাঃ)-রা পরিবার ও সম্পদের কাজে ব্যস্ত থাকায় দিনের দুই সময়ে আসতেন। শেষে তিনি বলেন, ভালো মানুষ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে এমন কথা বলবে না, যা তিনি বলেননি। এই হাদিস হাদিস বর্ণনায় সান্নিধ্য, সততা ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বেশি সান্নিধ্য বেশি হাদিস শোনার কারণ হতে পারে।
  • অন্যের ব্যাপারে সন্দেহ এলে ন্যায়ভাবে উত্তর দেওয়া উচিত।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে কথা বলায় সততা অত্যন্ত জরুরি।
  • তালহা (রাঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর অবস্থান সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন