৩৪/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২০৪৭ - হাদিস মুখস্থ ও জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ
আল্লাহ তা‘আলার এ বাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (ইরশাদ করেছেন):
﴾فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا قُلْ مَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ اللَّهْوِ وَمِنَ التِّجَارَةِ وَاللَّهُ خَيْرُ الرَّازِقِينَ﴿“সালাত শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করবে ও আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলতা লাভ করতে পার। যখন তারা দেখল ব্যবসায় কৌতুক তখন তারা আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল। বলুন, আল্লাহর নিকট যা আছে, তা ক্রীড়া-কৌতুক ও ব্যবসা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।” (জুমু‘আ: ১০)وَقَوْلُهُ ﴾لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ﴿আর আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “তোমরা পরস্পর পরস্পরের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কিন্তু তোমাদের পরস্পর সন্তুষ্টচিত্তে ব্যবসা করা বৈধ।” (আন-নিসা: ২৯)"
হাদিস মুখস্থ রাখার আগ্রহ: আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২০৪৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২০৪৭
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ إِنَّكُمْ تَقُولُونَ إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ يُكْثِرُ الْحَدِيثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ.وَتَقُولُونَ مَا بَالُ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ لاَ يُحَدِّثُونَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بِمِثْلِ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ وَإِنَّ إِخْوَتِي مِنَ الْمُهَاجِرِينَ كَانَ يَشْغَلُهُمْ صَفْقٌ بِالأَسْوَاقِ، وَكُنْتُ أَلْزَمُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَلَى مِلْءِ بَطْنِي، فَأَشْهَدُ إِذَا غَابُوا وَأَحْفَظُ إِذَا نَسُوا، وَكَانَ يَشْغَلُ إِخْوَتِي مِنَ الأَنْصَارِ عَمَلُ أَمْوَالِهِمْ، وَكُنْتُ امْرَأً مِسْكِينًا مِنْ مَسَاكِينِ الصُّفَّةِ أَعِي حِينَ يَنْسَوْنَ، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي حَدِيثٍ يُحَدِّثُهُ " إِنَّهُ لَنْ يَبْسُطَ أَحَدٌ ثَوْبَهُ حَتَّى أَقْضِيَ مَقَالَتِي هَذِهِ، ثُمَّ يَجْمَعَ إِلَيْهِ ثَوْبَهُ إِلاَّ وَعَى مَا أَقُولُ».فَبَسَطْتُ نَمِرَةً عَلَىَّ، حَتَّى إِذَا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَقَالَتَهُ جَمَعْتُهَا إِلَى صَدْرِي، فَمَا نَسِيتُ مِنْ مَقَالَةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ تِلْكَ مِنْ شَىْءٍ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তোমরা বলে থাক, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হতে আবূ হুরায়রা (রাঃ) বেশি বেশি হাদীস বর্ণনা করে থাকে এবং আরো বলেন, মুহাজির ও আনসারদের কী হলো যে, তারা তো আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর হাদীস বর্ণনা করে না? আমার মুহাজির ভাইয়েরা বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত থাকত আর আমি কোন প্রকারে আমার পেটের চাহিদা মিটিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)– এর দরবারে পড়ে থাকতাম। তারা যখন অনুপস্থিত থাকত তখন আমি উপস্থিত থাকতাম। তারা যা ভুলে যেত আমি তা মুখস্থ করতাম। আর আমার আনসার ভাইয়েরা নিজেদের ক্ষেত-খামারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। আমি ছিলাম সুফ্ফার মিসকীনদের একজন মিসকীন। তারা যা ভুলে যেত, আমি তা মুখস্থ রাখতাম।আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর এক বর্ণনায় বললেন, আমার এ কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে কেউ তার কাপড় বিছিয়ে দিবে এবং পরে নিজের শরীরের সাথে তার কাপড় জড়িয়ে নেবে, আমি যা বলছি সে তা স্মরণ রাখতে পারবে। [আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন] আমি আমার গায়ের চাদরখানা বিছিয়ে দিলাম যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর কথা শেষ করলেন, পরে আমি তা আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। ফলে আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সে কথার কিছুই ভুলে যাইনি।
সহীহ বুখারী হাদিস ২০৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু হুরাইরা (রাঃ) নিজের বেশি হাদিস বর্ণনার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। মানুষ বলত, তিনি কেন এত বেশি হাদিস বলেন, আর মুহাজির ও আনসাররা কেন তেমন বলেন না। তিনি জানান, মুহাজির ভাইয়েরা বাজারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন, আনসার ভাইয়েরা ক্ষেত-খামারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। আর তিনি সুফফার দরিদ্রদের একজন ছিলেন; পেটের চাহিদা কোনোরকমে মিটিয়ে রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে থাকতেন। তারা অনুপস্থিত থাকলে তিনি উপস্থিত থাকতেন, তারা ভুলে গেলে তিনি মুখস্থ রাখতেন। রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর কাপড় বিছানোর নির্দেশের পর তিনি চাদর বিছিয়ে পরে বুকের কাছে জড়ান, ফলে সে কথার কিছুই ভুলেননি। এখানে জ্ঞান অর্জনে সময়, উপস্থিতি ও আগ্রহের মূল্য বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জ্ঞান অর্জনে উপস্থিত থাকা ও মনোযোগ দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।
- অভাব থাকা সত্ত্বেও শেখার আগ্রহ মানুষকে বড় উপকার দিতে পারে।
- অন্যের কাজের ব্যস্ততা দেখে কাউকে হেয় না করে নিজের অবস্থার ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।
