২/১৭১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮৫ - দু’দু রাকাত নামাজ ও বিনয়ী দোয়া
নামাযে বিনয় হওয়া
দু’দু রাকাত নামাজ: তাশাহুদ, বিনয় ও দোয়ার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৮৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৮৫
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعِ ابْنِ الْعَمْيَاءِ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " الصَّلاَةُ مَثْنَى مَثْنَى تَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَتَخَشَّعُ وَتَضَرَّعُ وَتَمَسْكَنُ وَتَذَرَّعُ وَتُقْنِعُ يَدَيْكَ يَقُولُ تَرْفَعُهُمَا إِلَى رَبِّكَ مُسْتَقْبِلاً بِبُطُونِهِمَا وَجْهَكَ وَتَقُولُ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهُوَ كَذَا وَكَذَا ".قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَالَ غَيْرُ ابْنِ الْمُبَارَكِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ " مَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهِيَ خِدَاجٌ ". قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ رَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ فَأَخْطَأَ فِي مَوَاضِعَ فَقَالَ عَنْ أَنَسِ بْنِ أَبِي أَنَسٍ وَهُوَ عِمْرَانُ بْنُ أَبِي أَنَسٍ وَقَالَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ وَإِنَّمَا هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعِ ابْنِ الْعَمْيَاءِ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ. وَقَالَ شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ عَنِ الْمُطَّلِبِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ وَإِنَّمَا هُوَ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَحَدِيثُ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ يَعْنِي أَصَحَّ مِنْ حَدِيثِ شُعْبَةَ.
ফাযল ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নামাজ দুই দুই রাক’আত; প্রতি দুই রাক’আত পর তাশাহ্হুদ পাঠ করতে হবে; নামাজী কে বিনয়ী হতে হবে, মিনতির সাথে প্রার্থনা করতে হবে; কপর্দকহীন হতে হবে। কোন কিছুকে ওয়াসীলা করে চাইতে হবে। এ অবস্থায় তোমার প্রতিপালকের দরবারে নিজের দু’হাত তুলবে, হাতের তালু তোমার চেহারার দিকে থাকবে, তারপর বলবে, হে প্রভু, হে প্রতিপালক। যে ব্যক্তি এমনটি না করবে তার নামাজ এরূপ এবং এরূপ হবে।
আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনুল মুবারাক ছাড়া অন্যান্য রাবীগণ হাদীসের শেষের অংশ এরূপ বর্ণনা করেছেনঃ যে ব্যক্তি এরূপ (বিনয়-নম্রতা অবলম্বন) করল না তার নামাজ পূর্ণাঙ্গ হল না। আবূ ঈসা বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারী কে বলতে শুনেছি, শুবা এ হাদীসটি আবদে রব্বিহি ইবনু সাঈদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি কয়েকটি জায়গায় ভুল করেছেন। তিনি বলেছেন, আনাস ইবনু আবী আনাস হতে প্রকৃতপক্ষে তা হবে ইমরান ইবনু আবী আনাস, তিনি বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস হতে প্রকৃতপক্ষে তা হবে আব্দুল্লাহ ইবনুল নাফি হতে তিনি রাবীয়া ইবনুল হারিস হতে। শুবা বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস হতে তিনি মুত্তালিব হতে তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে। প্রকৃতপক্ষে তা হবে রাবীয়া ইবনুল হারিস ইবনু আব্দুল মুত্তালিব হতে, তিনি ফাযল ইবনুল আব্বাস হতে তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেছেন, শুবার বর্ণিত হাদীসের চেয়ে লাইসের বর্ণনাটি বেশি সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নামাজ সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় একসাথে বলেছেন। তিনি বলেছেন, নামাজ দু’দু রাকাত। প্রতি দুই রাকাত পর তাশাহুদ পাঠ করতে হবে। নামাজীকে বিনয়ী হতে হবে, মিনতির সাথে প্রার্থনা করতে হবে এবং নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে হবে। এরপর হাত তুলে আল্লাহর কাছে হে প্রভু, হে প্রতিপালক বলে ডাকতে বলা হয়েছে। এখানে নামাজের মূল রূপের পাশাপাশি নামাজের ভেতরের অবস্থা শেখানো হয়েছে। শুধু রাকাত পূরণ করাই যথেষ্ট নয়; খুশু, তাযররু বা বিনয়ী মিনতি এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনার মন থাকা দরকার। বর্ণনায় আরও এসেছে, যে এভাবে করবে না তার নামাজে ঘাটতি থাকবে—এমন ভাষাও কিছু বর্ণনায় আছে। তাই এই হাদিস নামাজকে প্রাণবন্ত ও বিনয়পূর্ণ করার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজে প্রতি দুই রাকাত পর তাশাহুদের গুরুত্ব আছে।
- নামাজে বিনয়, মিনতি ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করা উচিত।
- আল্লাহকে হে প্রভু, হে প্রতিপালক বলে ডাকায় দোয়ার গভীরতা প্রকাশ পায়।
- নামাজ শুধু বাহ্যিক কাজ নয়; অন্তরের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
