৪৬/৬১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮৭৪ - ফাতিমা ও আলী (রাঃ)-এর ভালোবাসা ও ইবাদত
মুহাম্মদ (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা
ফাতিমা ও আলী (রাঃ): ভালোবাসা, রোজা ও রাতের নামাজ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৮৭৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৮৭৪
حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ يَزِيدَ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ أَبِي الْجَحَّافِ، عَنْ جُمَيْعِ بْنِ عُمَيْرٍ التَّيْمِيِّ، قَالَ دَخَلْتُ مَعَ عَمَّتِي عَلَى عَائِشَةَ فَسُئِلَتْ أَىُّ النَّاسِ كَانَ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَتْ فَاطِمَةُ . فَقِيلَ مِنَ الرِّجَالِ قَالَتْ زَوْجُهَا إِنْ كَانَ مَا عَلِمْتُ صَوَّامًا قَوَّامًا .هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . قَالَ وَأَبُو الْجَحَّافِ اسْمُهُ دَاوُدُ بْنُ أَبِي عَوْفٍ وَيُرْوَى عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ حَدَّثَنَا أَبُو الْجَحَّافِ وَكَانَ مَرْضِيًّا .
জুমায়্যি ইবনু উমাইর আত-তাইমী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আমার ফুফুর সাথে আইশা (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন তাঁকে প্রশ্ন করা হল, কোন লোকটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট সবচাইতে প্রিয়? তিনি বলেন, ফাতিমা (রাঃ)। আবার প্রশ্ন করা হল, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তাঁর স্বামী এবং তিনি ছিলেন বেশি পরিমাণে রোজা পালনকারী এবং বেশি পরিমাণে (রাতে) নামাজ আদায়কারী।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূল জাহ্হাফের নাম দাউদ ইবনু আবী আউফ। সুফিয়ান সাওরী আবূল জাহ্হাফের নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি সন্তোষজনক ব্যক্তি ছিলেন। মুনকার, নাকদুল কাত্তানী (২০ পৃ:)
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন মানুষটি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বলেন, ফাতিমা (রাঃ)। আবার জিজ্ঞেস করা হয়, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বলেন, তাঁর স্বামী, অর্থাৎ আলী (রাঃ)। এরপর তিনি আলী (রাঃ)-এর সম্পর্কে বলেন, তিনি তাঁর জানামতে বেশি রোজা পালনকারী এবং বেশি রাতের নামাজ আদায়কারী ছিলেন। এই হাদিসে দুটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে—ফাতিমা (রাঃ)-এর প্রতি নবীজির ভালোবাসা এবং আলী (রাঃ)-এর ইবাদতমুখী জীবন। ব্যাখ্যায় এটুকুই যথেষ্ট; অন্যদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় তুলনা করা ঠিক নয়। এই বর্ণনা আমাদের ভালোবাসা, ইবাদত এবং পরিবারের মর্যাদা বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফাতিমা (রাঃ) নবীজির কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন।
- আলী (রাঃ)-এর রোজা ও রাতের নামাজের কথা এই বর্ণনায় এসেছে।
- প্রিয় হওয়া ও ইবাদতমুখী জীবন একসঙ্গে সুন্দর উদাহরণ।
- অন্যদের ছোট না করে প্রত্যেকের মর্যাদা সম্মান করা উচিত।
