৪৬/৬৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮৯৪ - সাফিয়া (রাঃ)-কে সান্ত্বনা ও তাকওয়া
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রীগণের মর্যাদা
সাফিয়া (রাঃ)-এর মর্যাদা: কষ্টের কথার জবাব ও তাকওয়ার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৮৯৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৮৯৪
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ بَلَغَ صَفِيَّةَ أَنَّ حَفْصَةَ، قَالَتْ بِنْتُ يَهُودِيٍّ . فَبَكَتْ فَدَخَلَ عَلَيْهَا النَّبِيُّ ﷺ وَهِيَ تَبْكِي فَقَالَ «مَا يُبْكِيكِ». فَقَالَتْ قَالَتْ لِي حَفْصَةُ إِنِّي بِنْتُ يَهُودِيٍّ . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّكِ لاَبْنَةُ نَبِيٍّ وَإِنَّ عَمَّكِ لَنَبِيٌّ وَإِنَّكِ لَتَحْتَ نَبِيٍّ فَفِيمَ تَفْخَرُ عَلَيْكِ». ثُمَّ قَالَ " اتَّقِي اللَّهَ يَا حَفْصَةُ».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সাফিয়্যাহ্ (রাঃ)-এর কানে পৌঁছে যে, হাফসাহ্ (রাঃ) তাঁকে ইয়াহূদীর মেয়ে বলে ঠাট্টা করেছেন। তাই তিনি কাঁদছিলেন। তাঁর ক্রন্দনরত অবস্থায় নবী (ﷺ) তাঁর ঘরে প্রবেশ করেন। তিনি বললেনঃ তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, হাফসাহ্ আমাকে ইয়াহূদীর মেয়ে বলে তিরস্কার করেছেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ অবশ্যই তুমি একজন নবীর কন্যা, তোমার চাচা অবশ্যই একজন নবী এবং তুমি একজন নবীর সহধর্মিণী। অতএব কিভাবে হাফসাহ্ তোমার উপরে অহংকার করতে পারে? তারপর তিনি বললেনঃ হে হাফসাহ্! আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর।
আবু 'ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাফিয়া (রাঃ)-এর কান্নার ঘটনা এসেছে। তাঁর কানে পৌঁছেছিল যে হাফসা (রাঃ) তাঁকে ইয়াহুদির মেয়ে বলে ঠাট্টা করেছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কাছে এসে কাঁদার কারণ জিজ্ঞেস করেন। সাফিয়া (রাঃ) কারণ বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে তাঁর মর্যাদা স্মরণ করিয়ে দেন: তিনি একজন নবীর কন্যা, তাঁর চাচা একজন নবী, আর তিনি একজন নবীর স্ত্রী। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) হাফসা (রাঃ)-কে বলেন, আল্লাহকে ভয় কর। এই হাদিসে অপমানজনক কথা, কষ্ট পাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো, এবং তাকওয়ার শিক্ষা আছে। কারও পরিচয় নিয়ে খোঁচা দেওয়া থেকে বিরত থাকা এখানে বড় শিক্ষা। তাই কথার আঘাত থেকে বাঁচা এবং আঘাত পেলে ন্যায়ভাবে সান্ত্বনা দেওয়া—দুটিই এখানে শেখানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের বংশ বা অতীত পরিচয় নিয়ে কষ্টদায়ক কথা বলা ঠিক নয়।
- কষ্ট পাওয়া মানুষকে সান্ত্বনা ও মর্যাদার কথা স্মরণ করানো সুন্দর আচরণ।
- ভুল কথার ক্ষেত্রে তাকওয়ার কথা মনে করিয়ে দেওয়া দরকার।
