৪৬/৬৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮৯৩ - ফাতিমা (রাঃ)-এর জান্নাতি মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রীগণের মর্যাদা
ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা: কান্না, হাসি ও জান্নাতের সুসংবাদ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৮৯৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৮৯৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ ابْنِ عَثْمَةَ، حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ يَعْقُوبَ الزَّمْعِيُّ، عَنْ هَاشِمِ بْنِ هَاشِمٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ وَهْبِ بْنِ زَمْعَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ دَعَا فَاطِمَةَ عَامَ الْفَتْحِ فَنَاجَاهَا فَبَكَتْ ثُمَّ حَدَّثَهَا فَضَحِكَتْ قَالَتْ فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ سَأَلْتُهَا عَنْ بُكَائِهَا وَضَحِكِهَا .قَالَتْ أَخْبَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنَّهُ يَمُوتُ فَبَكَيْتُ ثُمَّ أَخْبَرَنِي أَنِّي سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ إِلاَّ مَرْيَمَ بِنْتَ عِمْرَانَ فَضَحِكْتُ .قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মাক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফাতিমাকে ডেকে তাঁর সাথে গোপনে কিছু কথা বললেন। এতে ফাতিমা কেঁদে ফেললেন। তারপর তিনি কিছু কথা বললে ফাতিমা হাসলেন। বলেন, আমি ফাতিমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইনতিকালের পরে তাঁর হাসি-কান্নার কারণ জানতে চাই। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে জানান যে, খুব তাড়াতাড়ি তিনি মৃত্যুবরণ করবেন, তাই আমি কেঁদেছি। তারপর তিনি আমাকে জানান যে, মারইয়াম বিনতু 'ইমরান ছাড়া জান্নাতের নারীদের নেত্রী হব, তাই আমি হেসেছি।
আবু 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উপর্যুক্ত সনদে গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাতিমা (রাঃ)-এর একটি আবেগময় ঘটনা এসেছে। মাক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে ডেকে গোপনে কিছু কথা বললেন। প্রথম কথায় ফাতিমা (রাঃ) কেঁদে ফেললেন। পরে আরেকটি কথা শুনে তিনি হাসলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ইন্তিকালের পর উম্মু সালামা (রাঃ) কারণ জানতে চাইলে ফাতিমা (রাঃ) বলেন, প্রথমে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর দ্রুত মৃত্যুর কথা জানান, তাই তিনি কেঁদেছিলেন। এরপর তিনি তাঁকে জানান যে মারিয়াম বিনত ইমরান ছাড়া তিনি জান্নাতের নারীদের নেত্রী হবেন, তাই তিনি হাসেন। এই হাদিসে নবীজির ইন্তিকালের খবর, মেয়ের ভালোবাসা এবং ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা উঠে এসেছে। তাই এখানে কান্না দুর্বলতা নয়; বরং প্রিয় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ। এতে বোঝা যায়, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পরিবারে ভালোবাসা ও আখিরাতের আশা পাশাপাশি ছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রিয়জনের বিদায়ের খবর দুঃখের কারণ হতে পারে।
- ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথায় এসেছে।
- একই ঘটনার মধ্যে দুঃখ ও আশার খবর একসঙ্গে থাকতে পারে।
