৪৬/৬৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৯০১ - আনসারদের মর্যাদা ও নবীর ভালোবাসা
আনসারগণের ও কুরাইশদের মর্যাদা
আনসারদের মর্যাদা: দুনিয়ার মাল নয়, রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গ বড় নেয়ামত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৯০১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৯০১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ نَاسًا مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ " هَلُمَّ هَلْ فِيكُمْ أَحَدٌ مِنْ غَيْرِكُمْ». قَالُوا لاَ إِلاَّ ابْنَ أُخْتٍ لَنَا . فَقَالَ ﷺ " إِنَّ ابْنَ أُخْتِ الْقَوْمِ مِنْهُمْ». ثُمَّ قَالَ " إِنَّ قُرَيْشًا حَدِيثٌ عَهْدُهُمْ بِجَاهِلِيَّةٍ وَمُصِيبَةٍ وَإِنِّي أَرَدْتُ أَنْ أَجْبُرَهُمْ وَأَتَأَلَّفَهُمْ أَمَا تَرْضَوْنَ أَنْ يَرْجِعَ النَّاسُ بِالدُّنْيَا وَتَرْجِعُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِلَى بُيُوتِكُمْ». قَالُوا بَلَى . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا أَوْ شِعْبًا وَسَلَكَتِ الأَنْصَارُ وَادِيًا أَوْ شِعْبًا لَسَلَكْتُ وَادِيَ الأَنْصَارِ أَوْ شِعْبَهُمْ».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের কিছু সংখ্যক লোককে একত্রিত করে বললেনঃ তোমাদের মাঝে আনসারদের ব্যতীত অপর কেউ আছে কি? তারা বললেন, না, তবে আমাদের এক ভাগ্নে আছে। তিনি বললেনঃ সম্প্রদায়ের ভাগ্নে তাদের অন্তর্ভুক্ত। তারপর তিনি বললেনঃ সবেমাত্র কুরাইশরা জাহিলিয়াত ত্যাগ করে মুসলমান হয়েছে এবং তারা বিপদে পতিত। তাই তাদের ভগ্নহৃদয়ে আমি কিছুটা সহানুভূতির ছোয়া লাগাতে চাই এবং তাদের মনজয় করতে চাই (কিছু অতিরিক্ত সম্পদ দিয়ে)। তোমরা কি খুশি নও যে, লোকেরা দুনিয়া (মাল) নিয়ে বাড়ি ফিরবে আর তোমরা আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-কে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরবে? তারা বললেন, হ্যাঁ।তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি লোকেরা কোন গিরিপথ বা গিরিখাদ পার করে এবং আনসাররা যদি অন্য কোন গিরিসংকট বা গিরিখাদে চলে, তবে আমি আনসারদের গিরিসংকট বা গিরিখাদেই একসঙ্গে চলব।
আবূ 'ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৯০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনসারদের মর্যাদা খুব কোমলভাবে ফুটে উঠেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আনসারদের আলাদা করে বুঝিয়েছেন যে কুরাইশরা তখন নতুন মুসলিম হয়েছে এবং বিপদের মধ্যে ছিল। তাই তাদের মন নরম করার জন্য তিনি কিছু অতিরিক্ত সম্পদ দিয়েছেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, নেতৃত্ব মানে শুধু বণ্টন করা নয়; মানুষের মন বোঝাও বড় কাজ। আনসাররা দুনিয়ার মাল না পেলেও রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গ পাওয়াকে বড় সম্মান হিসেবে গ্রহণ করেন। এই বর্ণনায় আনসারদের প্রতি নবীর ভালোবাসা, কুরাইশদের মন জয় করা, এবং দুনিয়া বনাম রাসূলের সঙ্গ—সবই একসঙ্গে আসে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, কোনো সিদ্ধান্তের পেছনে হিকমত থাকতে পারে; তাই দ্রুত মন খারাপ না করে ভালোভাবে বুঝে নেওয়া দরকার। তাই পাঠক সহজে বুঝতে পারেন, আনসারদের সম্মান শুধু কথার বিষয় নয়; নবী صلى الله عليه وسلم তাদের হৃদয়কে শান্ত করেছেন এবং তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলামী নেতৃত্বে মানুষের অবস্থা ও মন বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
- দুনিয়ার সম্পদের চেয়ে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গ ও দ্বীনি মর্যাদা অনেক বড় শিক্ষা দেয়।
- নতুন মুসলিম বা বিপদগ্রস্তদের মন জয় করতে কোমল আচরণ করা যায়।
- ভুল বোঝাবুঝি হলে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা সম্পর্ক মজবুত করে।
