৪৬/৬৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৯১০ - আনসারদের শ্রেষ্ঠ ঘর ও কল্যাণ
আনসারদের কোন ঘর শ্রেষ্ঠ?
আনসারদের শ্রেষ্ঠ ঘর: বানু নাজ্জার থেকে সব ঘরের কল্যাণ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৯১০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৯১০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِ دُورِ الأَنْصَارِ أَوْ بِخَيْرِ الأَنْصَارِ» . قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " بَنُو النَّجَّارِ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ بَنُو عَبْدِ الأَشْهَلِ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ بَنُو الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ بَنُو سَاعِدَةَ " . ثُمَّ قَالَ بِيَدِهِ فَقَبَضَ أَصَابِعَهُ ثُمَّ بَسَطَهُنَّ كَالرَّامِي بِيَدَيْهِ قَالَ " وَفِي دُورِ الأَنْصَارِ كُلِّهَا خَيْرٌ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .وَقَدْ رُوِيَ هَذَا أَيْضًا عَنْ أَنَسٍ عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ السَّاعِدِيِّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে কি আনসারদের ঘরগুলোর মাঝে শ্রেষ্ঠ ঘর অথবা আনসারদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি প্রসঙ্গে জানাব না? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্র রাসূল! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আনসারদের মাঝে শ্রেষ্ঠ হল বানু নাজ্জার, তারপর তাঁদের নিকটতর যারা অর্থাৎ ‘আবদুল আশহাল, তারপর তাঁদের নিকটতম যারা অর্থাৎ বানুল হারিস ইবনুল খাযরাজ, তারপর তাঁদের কাছের যারা অর্থাৎ বানু সা’ইদাহ্। এরপর তিনি দুই হাতে ইশারা করে তাঁদের আঙ্গুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করলেন, তারপর হাত দু’খানা এমনভাবে প্রসারিত করলেন যেমন কেউ তার হাত দিয়ে কিছু নিক্ষেপ করলো। অতঃপর তিনি বললেন, আনসারদের সব ঘরই উত্তম ও শ্রেষ্ঠ।
আবূ 'ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আর এ হাদীস আনাস (রাঃ) হতে, আবূ উসাইদ আস-সাঈদী (রাঃ)–এর বরাতে নবী (ﷺ) হতে এই সনদেও বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৯১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আনসারদের ঘরগুলোর মধ্যে কিছু পরিবারের মর্যাদা ক্রমানুসারে বলেছেন। তিনি প্রথমে বানু নাজ্জার, তারপর বানু আবদুল আশহাল, এরপর বানু হারিস ইবন খাযরাজ, তারপর বানু সাঈদার কথা বলেন। এরপর তিনি স্পষ্ট করেন, আনসারদের সব ঘরেই কল্যাণ আছে। তাই এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ভারসাম্য রাখা দরকার। কোনো পরিবারকে সম্মান দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অন্যদের অকল্যাণ বলা হয়নি। বরং শেষ বাক্যটি খুব গুরুত্বপূর্ণ: আনসারদের সব ঘরই উত্তম ও কল্যাণময়। এখানে আনসারদের মর্যাদা, পরিবারভিত্তিক সম্মান এবং কাউকে ছোট না করার শিক্ষা আছে। ইসলামী আদব হলো, যার যে মর্যাদা আছে তা মানা, কিন্তু অন্যকে অবমূল্যায়ন না করা। এই ভারসাম্য না রাখলে হাদিসের মূল সৌন্দর্য হারিয়ে যায়, কারণ শেষ বাক্যটি সবাইকে সম্মানের জায়গায় রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিছু পরিবারের বিশেষ মর্যাদা থাকলেও অন্যদের কল্যাণ অস্বীকার করা হয়নি।
- মর্যাদা বলার সময় ভারসাম্য রাখা দরকার।
- আনসারদের সব ঘরে কল্যাণ আছে—এটি হাদিসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- সম্মান দেওয়া মানে অন্যকে ছোট করা নয়।
