৪৬/৭২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৯৩৯ - হিমইয়ার গোত্রের জন্য রহমতের দোয়া
ইয়ামানের মর্যাদা
হিমইয়ার গোত্র: অভিশাপ নয়, রহমতের দোয়া
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৯৩৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৯৩৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ زَنْجُويَهْ، - بَغْدَادِيٌّ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ مِينَاءٍ، مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ فَجَاءَ رَجُلٌ أَحْسِبُهُ مِنْ قَيْسٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الْعَنْ حِمْيَرًا . فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ جَاءَهُ مِنَ الشَّقِّ الآخَرِ فَأَعْرَضَ عَنْهُ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ «رَحِمَ اللَّهُ حِمْيَرًا أَفْوَاهُهُمْ سَلاَمٌ وَأَيْدِيهِمْ طَعَامٌ وَهُمْ أَهْلُ أَمْنٍ وَإِيمَانٍ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ . وَيُرْوَى عَنْ مِينَاءٍ هَذَا أَحَادِيثُ مَنَاكِيرُ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে হাযির থাকা অবস্থায় তার নিকটে এক লোক আসে। আমার ধারণা লোকটি কাইস গোত্রীয়। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! হিমৃইয়ার গোত্রকে অভিসম্পাত করুন। তিনি তার হতে অন্য দিকে মুখ সরিয়ে নেন। সে অপর পাশ দিয়ে এলে তিনি এবারও তার হতে মুখ সরিয়ে নেন। আবার সে অপর পাশ দিয়ে এলে তিনি এবারও তার হতে মুখ সরিয়ে নেন। লোকটি অপর পাশ দিয়ে এলে এবারও তিনি তার হতে মুখ সরিয়ে নেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হিমূইয়ার গোত্রের প্রতি আল্লাহ তা'আলা দয়া করুন, তাদের মুখে সালাম (শান্তি), তাদের হাতে খাদ্যসম্ভার এবং তারা নিরাপত্তা ও ঈমানের ধারক।
আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আবদুর রাযযাকের সূত্রে উপরোক্তভাবে এ হাদীস জেনেছি। আর মীনাআর কাছ হতে বেশিরভাগ মুনকার হাদীস বর্ণিত হয়ে থাকে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৯৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে হিমইয়ার গোত্রকে অভিসম্পাত করতে বলেন। তিনি বারবার মুখ ফিরিয়ে নেন। পরে বলেন, আল্লাহ হিমইয়ার গোত্রের প্রতি দয়া করুন; তাদের মুখে সালাম, হাতে খাদ্যসম্ভার, আর তারা নিরাপত্তা ও ঈমানের ধারক। এখানে মূল শিক্ষা খুব সুন্দর—অভিশাপ চাওয়ার বদলে রহমতের দোয়া। “হিমইয়ার গোত্র”, “সালাম”, “খাদ্য” এবং “ঈমান”—এই শব্দগুলো হাদিসের কেন্দ্র। ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত ইতিহাস না এনে বলা যায়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এই বর্ণনায় একটি গোত্রের ভালো দিক উল্লেখ করেছেন এবং তাদের জন্য দোয়া করেছেন। মুসলিমের জবানেও সালাম, কল্যাণ ও দোয়ার ভাষা থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অভিশাপের অনুরোধে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাড়া দেননি।
- হিমইয়ার গোত্রের জন্য রহমতের দোয়া করেছেন।
- সালাম, খাদ্য, নিরাপত্তা ও ঈমান—এই গুণগুলো বর্ণনায় এসেছে।
- মুসলিমের মুখে অভিশাপের বদলে দোয়া ও কল্যাণের ভাষা থাকা ভালো।
