২/১৮৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪০৪ - নামাজে প্রশংসার বাক্যের ফজিলত
নামাজের মধ্যে হাঁচি দেয়া প্রসঙ্গে
নামাজে আল্লাহর প্রশংসা ও ফেরেশতাদের আগ্রহ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪০৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪০৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا رِفَاعَةُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ الزُّرَقِيُّ، عَنْ عَمِّ، أَبِيهِ مُعَاذِ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَعَطَسْتُ فَقُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ مُبَارَكًا عَلَيْهِ كَمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضَى . فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ انْصَرَفَ فَقَالَ " مَنِ الْمُتَكَلِّمُ فِي الصَّلاَةِ " . فَلَمْ يَتَكَلَّمْ أَحَدٌ ثُمَّ قَالَهَا الثَّانِيَةَ " مَنِ الْمُتَكَلِّمُ فِي الصَّلاَةِ " . فَلَمْ يَتَكَلَّمْ أَحَدٌ ثُمَّ قَالَهَا الثَّالِثَةَ " مَنِ الْمُتَكَلِّمُ فِي الصَّلاَةِ " . فَقَالَ رِفَاعَةُ بْنُ رَافِعِ ابْنِ عَفْرَاءَ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ «كَيْفَ قُلْتَ» . قَالَ قُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ مُبَارَكًا عَلَيْهِ كَمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضَى فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدِ ابْتَدَرَهَا بِضْعَةٌ وَثَلاَثُونَ مَلَكًا أَيُّهُمْ يَصْعَدُ بِهَا " .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَوَائِلِ بْنِ حُجْرٍ وَعَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ رِفَاعَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَكَأَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ فِي التَّطَوُّعِ لأَنَّ غَيْرَ وَاحِدٍ مِنَ التَّابِعِينَ قَالُوا إِذَا عَطَسَ الرَّجُلُ فِي الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ إِنَّمَا يَحْمَدُ اللَّهَ فِي نَفْسِهِ وَلَمْ يُوَسِّعُوا فِي أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ .
রিফা'আ ইবনু রাফি' (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে নামাজ আদায় করছিলাম। হঠাৎ আমার হাঁচি বের হল। আমি বললাম, “আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাসীরান তাইয়্যিবান মুবারাকান ফীহে মুবারাকান ‘আলাইহি কামা ইউহিব্বু রব্বুনা ওয়া ইয়ারদা।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নামাজ শেষ করে ফিরে বসলেন তখন প্রশ্ন করলেনঃ নামাজের মধ্যে কে কথা বলেছে? কেউ কোন সাড়া শব্দ করল না। তিনি দ্বিতীয় বার প্রশ্ন করলেনঃ নামাজের মধ্যে কে কথা বলেছে? এবারও কেউ কোন কথা বলল না। তিনি তৃতীয় বার প্রশ্ন করলেনঃ নামাজের মধ্যে কে কথা বলেছে?(রাবী) রিফা’আহ্ ইবনু রাফি’ ইবনু আফরাআ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কথা বলেছি। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কিভাবে বললে? রাবী বলেন, আমি বলেছি, “আল্লাহর জন্য অশেষ প্রশংসা, পবিত্রময় প্রশংসা, বরকতময় প্রশংসা (এবং প্রশংসাকারীর জন্য) বরকতময় প্রশংসা যা আমাদের প্রতিপালক ভালবাসেন ও পছন্দ করেন।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ, আমি দেখেছি তিরিশের বেশি ফেরেশতা তাড়াহুড়া করছে কে কার আগে এটা নিয়ে উপরে উঠবে।
এ অনুচ্ছেদে আনাস, ওয়াইল ইবনু হুজর ও ‘আমির ইবনু রাবী‘আহ হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ রিফা‘আর হাদীসটি হাসান সহীহ্। অধিকাংশ বিদ্বানের আমল-এর উপরই। তারা বলেন, কেউ যদি নামাজে স্বেচ্ছায় বা ভুলে কথা বলে তাহলে পুনরায় নামাজ পড়তে হবে। সুফইয়ান সাওরী, ইবনু মুবারক ও কুফাবাসীদের অভিমত এটাই। কারো মতে যদি স্বেচ্ছায় কথা বলে তাহলে পুনরায় নামাজ পড়তে হবে। আর যদি ভুলে বা অজ্ঞতাবশতঃ কথা বলে তাহলে পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই। ইমাম শাফিঈ এ মতের সমর্থক।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো নামাজে আল্লাহর প্রশংসা বা হামদ। রিফাআহ ইবনু রাফি (রাঃ) নামাজের মধ্যে হাঁচি দিয়ে আল্লাহর প্রশংসায় একটি দীর্ঘ বাক্য বলেন। নামাজ শেষ হলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জিজ্ঞেস করেন, নামাজের মধ্যে কে কথা বলেছে। তিনি নিজের কথা জানান এবং বাক্যটি বলেন। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানান, তিরিশের বেশি ফেরেশতা তাড়াহুড়া করছিল—কে আগে এ বাক্যটি উপরে নিয়ে যাবে। তবে হাদিসের শেষ অংশে কিছু আলিমের কথা এসেছে যে এটি নফল নামাজের ক্ষেত্রে হতে পারে; ফরজ নামাজে হাঁচি এলে অনেকে মনে মনে আল্লাহর প্রশংসা করার কথা বলেছেন। তাই ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত দাবি না করে হাদিসের বর্ণনাটিই মূল রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর প্রশংসা করা বড় মর্যাদার আমল হতে পারে।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ঘটনার পর জিজ্ঞেস করে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।
- ফরজ ও নফল নামাজের আমল বুঝতে আলিমদের ব্যাখ্যা দেখা দরকার।
