২/১৮৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪০৫ - নামাজে কথা বলা নিষেধ
তাওবা করার সময় নামায আদায় করা
নামাজে কথা বলা নিষেধ: নীরবতার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪০৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪০৫
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ شُبَيْلٍ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ كُنَّا نَتَكَلَّمُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي الصَّلاَةِ يُكَلِّمُ الرَّجُلُ مِنَّا صَاحِبَهُ إِلَى جَنْبِهِ حَتَّى نَزَلَتْ : (وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ ) فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوتِ وَنُهِينَا عَنِ الْكَلاَمِ .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَمُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ . قَالُوا إِذَا تَكَلَّمَ الرَّجُلُ عَامِدًا فِي الصَّلاَةِ أَوْ نَاسِيًا أَعَادَ الصَّلاَةَ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا تَكَلَّمَ عَامِدًا فِي الصَّلاَةِ أَعَادَ الصَّلاَةَ وَإِنْ كَانَ نَاسِيًا أَوْ جَاهِلاً أَجْزَأَهُ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ .>
যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে নামায আদায়ের সময় নামাযের মধ্যে কথা বলতাম। কোন লোক তার পাশের লোকের সাথে কথা বলে নিত।অবশেষে এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ "নিজেদের নামাযসমূহের পূর্ণ হিফাযত কর, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযে আল্লাহ্ তা’আলার সামনে অনুগত সেবকের মত দাঁড়াও" (সূরা আল বাকারা - ২৩৮)।তারপর আমাদেরকে (নামাযের মধ্যে) চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে।
এ অনুচ্ছেদে ইবনু মাস’উদ ও মুয়াবিয়া ইবনু হাকাম হতেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ যাইদ ইবনু আরকামের হাদিসটি হাসান সহিহ। অধিকাংশ বিদ্বানের আমল এর উপরই। তারা বলেন কেউ যদি নামাযে স্বেচ্ছায় বা ভুলে কথা বলে তাহলে পুনরায় নামায পড়তে হবে। সুফিইয়ান সাওরী, ইবনু মুবারাক ও কুফাবাসীর অভিমত এটাই। কারো মতে যদি স্বেচ্ছায় কথা বলে তাহলে পুনরায় নামায পড়তে হবে। আর যদি ভুলে বা অজ্ঞতাবশতঃ কথা বলে তাহলে পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই। ইমাম শাফঈ এ মতের সমর্থক।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নামাজে কথা বলা নিয়ে সরাসরি শিক্ষা এসেছে। যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) বলেন, তাঁরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর পেছনে নামাজ পড়ার সময় পাশের লোকের সঙ্গে কথা বলতেন। এরপর সূরা আল-বাকারার ২৩৮ নম্বর আয়াত নাজিল হয়, যেখানে আল্লাহর সামনে অনুগতভাবে দাঁড়ানোর কথা এসেছে। তারপর তাঁদের নামাজে চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কথা বলতে নিষেধ করা হয়। তাই নামাজে নীরবতা, মনোযোগ এবং আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর আদব এখানে পরিষ্কার। হাদিসের শেষে আলিমদের মতও এসেছে—ইচ্ছা করে কথা বললে নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে; ভুলে বা না জেনে হলে কিছু আলিমের ভিন্ন মত আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজে কথা বলা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে।
- নামাজে দাঁড়ানো মানে আল্লাহর সামনে অনুগতভাবে থাকা।
- নামাজের আদব রক্ষায় নীরবতা ও মনোযোগ জরুরি।
