২/১৯০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪১০ - নামাজের পর তাসবিহ ও জিকির
বৃষ্টি ও কাদার কারণে পশুর (যানবাহনে) উপর নামাজ আদায় প্রসঙ্গে
নামাজের পর তাসবিহ: গরীব সাহাবিদের জন্য সহজ আমল
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪১০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪১০
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ الْبَصْرِيُّ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَتَّابُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ خُصَيْفٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، وَعِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ الْفُقَرَاءُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الأَغْنِيَاءَ يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَلَهُمْ أَمْوَالٌ يُعْتِقُونَ وَيَتَصَدَّقُونَ قَالَ «فَإِذَا صَلَّيْتُمْ فَقُولُوا سُبْحَانَ اللَّهِ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ مَرَّةً وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ مَرَّةً وَاللَّهُ أَكْبَرُ أَرْبَعًا وَثَلاَثِينَ مَرَّةً وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ عَشْرَ مَرَّاتٍ فَإِنَّكُمْ تُدْرِكُونَ بِهِ مَنْ سَبَقَكُمْ وَلاَ يَسْبِقُكُمْ مَنْ بَعْدَكُمْ».قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ وَأَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ وَابْنِ عُمَرَ وَأَبِي ذَرٍّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَفِي الْبَابِ أَيْضًا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَالْمُغِيرَةِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ «خَصْلَتَانِ لاَ يُحْصِيهِمَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ إِلاَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ يُسَبِّحُ اللَّهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ عَشْرًا وَيَحْمَدُهُ عَشْرًا وَيُكَبِّرُهُ عَشْرًا وَيُسَبِّحُ اللَّهَ عِنْدَ مَنَامِهِ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَيَحْمَدُهُ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَيُكَبِّرُهُ أَرْبَعًا وَثَلاَثِينَ».
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
গরীব সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে এলেন। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ধনীরা আমাদের মত নামায আদায় করে এবং রোযা রাখে। তাদের সম্পদ আছে, তারা দাস আযাদ করতে পারে এবং দান-খয়রাত করতে পারে। তিনি বললেনঃ যখন তোমরা নামায আদায় করবে তখন (নামায শেষে) তেত্রিশ বার “সুবহানাল্লাহ” তেত্রিশবার “আলহামদু লিল্লাহ”, চৌত্রিশবার “আল্লাহু আকবার” এবং দশবার “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” পাঠ করবে। যারা (সাওয়াবের ক্ষেত্রে) তোমাদেরকে ছাড়িয়ে গেছে এর দ্বারা তোমরা তাদেরকে ধরে ফেলতে পারবে। আর যারা তোমাদের পিছে পড়ে আছে তারা তোমাদেরকে ধরতে পারবে না।
এ অনুচ্ছেদে কা’ব ইবনু উজরা, আনাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, যাইদ ইবনু সাবিত, আবূ দারদা, ইবনু উমর আবূ যার, আবূ হুরাইরা ও মুগীরা (রাঃ) হতেও হাদিস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাসের হাদিসটি হাসান গারীব। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট হতে আরো বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ দুটি বৈশিষ্ট্য যে মুসলমানের মধ্যে পাওয়া যাবে সে জান্নাতে যাবে। তার একটি হল, প্রতি ওয়াক্তের নামাযের পর দশবার “সুবহানাল্লাহ”, দশবার “আলহামদু লিল্লাহ” এবং চৌত্রিশবার “আল্লাহু আকবার” পাঠ করা। দ্বিতীয়টি হল, শোয়ার সময় তেত্রিশবার “সুবহানাল্লাহ”, তেত্রিশবার “আলহামদু লিল্লাহ” এবং চৌত্রিশবার “আল্লাহু আকবার” পাঠ করা।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় নামাজের পর জিকির। গরীব সাহাবিরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে বলেন, ধনীরা তাঁদের মতো নামাজ পড়ে, রোজা রাখে; আবার সম্পদ দিয়ে দাস মুক্ত করে ও দান করে। তখন নবী صلى الله عليه وسلم তাঁদের নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার এবং ১০ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করতে বলেন। এই হাদিসে সওয়াবের দরজা শুধু সম্পদের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়—এ শিক্ষা আছে। যে মানুষের দান করার সামর্থ্য কম, তার জন্য জিকির একটি সহজ ও মূল্যবান আমল হতে পারে। তবে হাদিসে যে সংখ্যা এসেছে, তা ঠিকভাবে মনে রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজের পর নির্দিষ্ট জিকিরের আমল হাদিসে এসেছে।
- সম্পদ না থাকলেও আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে নেকির পথ খোলা থাকে।
- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার নিয়মিত বলা গুরুত্বপূর্ণ।
