২/১৮৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪০৯ - বৃষ্টিতে সফরে ঘরে নামাজের অনুমতি
নামাজের পর তাসবীহ পাঠ করা
বৃষ্টির সময় সফরে নিজ অবস্থানে নামাজ আদায়ের অনুমতি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪০৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪০৯
حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ، عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي سَفَرٍ فَأَصَابَنَا مَطَرٌ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ «مَنْ شَاءَ فَلْيُصَلِّ فِي رَحْلِهِ».قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَسَمُرَةَ وَأَبِي الْمَلِيحِ عَنْ أَبِيهِ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَخَّصَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْقُعُودِ عَنِ الْجَمَاعَةِ وَالْجُمُعَةِ فِي الْمَطَرِ وَالطِّينِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ يَقُولُ رَوَى عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَلِيٍّ حَدِيثًا . وَقَالَ أَبُو زُرْعَةَ لَمْ نَرَ بِالْبَصْرَةِ أَحْفَظَ مِنْ هَؤُلاَءِ الثَّلاَثَةِ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ وَابْنِ الشَّاذَكُونِيِّ وَعَمْرِو بْنِ عَلِيٍّ . وَأَبُو الْمَلِيحِ اسْمُهُ عَامِرٌ وَيُقَالُ زَيْدُ بْنُ أُسَامَةَ بْنِ عُمَيْرٍ الْهُذَلِيُّ .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা কোন এক সফরে নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। আমাদেরকে বৃষ্টিতে পেল। নবী (ﷺ) বললেনঃ যার ইচ্ছা নিজের হাওদার মধ্যে নামায আদায় করে নিতে পারে।
এ অনুচ্ছেদে ইবনু ‘উমর, সামুরা, আবুল মালীহ নিজ পিতার সূত্রে ও ‘আবদুর রহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ জাবিরের হাদীসটি হাসান সহীহ্। বিদ্বানগণ বৃষ্টি ও কাদা মাটির কারণে জামা’আত ছেড়ে ঘরে নামায আদায়ের সম্মতি দিয়েছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক একই রকম কথা বলেছেন। আবূ যুর’আহ্ বলেন, ‘আফফান ইবনু মুসলিম (রহঃ) ‘আমর ইবনু ‘আলী (রহঃ)-এর সূত্রে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ যুর’আ আরো বলেন, আমি বসরায় আলী ইবনুল মাদীনী, ইবনুশ শাযাকূনী ও ‘আমর ইবনু ‘আলী (রহঃ)-এর চেয়ে বড় হাফিজে হাদীস দেখিনি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় বৃষ্টিতে নামাজের সহজতা। জাবির (রাঃ) বলেন, তাঁরা এক সফরে নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে ছিলেন। তখন বৃষ্টি হলো। নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, যার ইচ্ছা সে নিজের হাওদা বা অবস্থানের জায়গায় নামাজ আদায় করতে পারে। এখানে দেখা যায়, নামাজের গুরুত্ব বজায় রেখে মানুষের কষ্টও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সফর, বৃষ্টি এবং ভিজে যাওয়ার মতো অবস্থায় জামাতে হাজির হওয়া সবার জন্য সহজ নাও হতে পারে। হাদিসের শেষে আলিমদের কথাও এসেছে যে বৃষ্টি ও কাদার কারণে জামাত বা জুমা থেকে বিরত থাকার রুখসত আছে। তবে এই শিক্ষা হাদিসের নির্দিষ্ট অবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বৃষ্টি ও সফরের কষ্টে নামাজ আদায়ে সহজতার অনুমতি এসেছে।
- শরীয়ত মানুষের বাস্তব কষ্টকে বিবেচনা করে।
- রুখসত বা ছাড় নির্দিষ্ট অবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে।
