২/২১১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৩৭ - রাতের নামাজ দুই দুই রাকাত
রাতের (তাহাজ্জুদ) নামাজের ফজিলত
রাতের নামাজ দুই দুই রাকাত ও শেষ নামাজ বিতর
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪৩৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪৩৭
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ " صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خِفْتَ الصُّبْحَ فَأَوْتِرْ بِوَاحِدَةٍ وَاجْعَلْ آخِرَ صَلاَتِكَ وِتْرًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ. قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ صَلاَةَ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى. وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ . وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, রাতের নামায দুই দুই রাক’আত (করে আদায় করতে হয়)। তুমি যদি ভোর হয়ে যাওয়ার ভয় কর তবে এক রাক’আত করে বিতর পূর্ণ করে নাও। বিতর নামাযকেই তোমার সর্বশেষ নামায কর।
এ অনুচ্ছেদে আমর ইবনু আবাসা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ইবনু উমরের হাদীসটি হাসান সহীহ্। বিশেষজ্ঞগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন এবং রাতের নামায দুই দুই রাক’আত করে আদায় করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাক এই কথা বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) রাতের নামাজের পদ্ধতি খুব সহজভাবে বলেছেন: রাতের নামাজ দুই দুই রাকাত করে। এরপর যদি ভোর হয়ে যাওয়ার ভয় হয়, তাহলে এক রাকাত বিতর আদায় করে নেওয়া হবে। আরও বলা হয়েছে, বিতরকে রাতের শেষ নামাজ করা। এই হাদিস তাহাজ্জুদ ও বিতর নামাজ বোঝার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রাতের নফল নামাজের ধরণ, সময়ের সচেতনতা এবং শেষ আমল হিসেবে বিতরের দিকনির্দেশনা একসঙ্গে এসেছে। “ভোর হয়ে যাওয়ার ভয়” কথাটি আমাদের সময়ের মূল্য বুঝায়। রাতের ইবাদত দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু ফজরের সময় ঢুকে যাওয়ার আগে বিতর শেষ করা উচিত—এই শিক্ষা পাওয়া যায়। হাদিসটি সংক্ষিপ্ত হলেও রাতের নামাজ সাজানোর একটি পরিষ্কার নিয়ম দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের নামাজ দুই রাকাত করে আদায় করার নির্দেশ আছে।
- ভোরের আশঙ্কা হলে এক রাকাত বিতর পড়তে বলা হয়েছে।
- রাতের শেষ নামাজ হিসেবে বিতর রাখার শিক্ষা আছে।
