২/২১২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৩৮ - রামাযানের পর মুহাররমের রোজা ও রাতের নামাজ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রাতের নামাজের বৈশিষ্ট্য
মুহাররমের রোজা ও তাহাজ্জুদ: ফরজের পর শ্রেষ্ঠ ইবাদতের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪৩৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪৩৮
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلاَةُ اللَّيْلِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَبِلاَلٍ وَأَبِي أُمَامَةَ. قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. قَالَ أَبُو عِيسَى وَأَبُو بِشْرٍ اسْمُهُ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي وَحْشِيَّةَ وَاسْمُ أَبِي وَحْشِيَّةَ إِيَاسٌ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রামাযান মাসের রোযার পর সর্বোৎকৃষ্ট রোযা হল আল্লাহ তা’আলার মাস মুহাররামের রোযা। ফরজ নামাযের পর সর্বোৎকৃষ্ট নামায হল রাতের (তাহাজ্জুদের) নামায।
এ অনুচ্ছেদে জাবির, বিলাল ও আবূ উমামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)’র হাদীসটি হাসান সহীহ্। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ রাবী আবূ বিশরের নাম জা’ফর ইবনু আবী ওয়াহশীয়াহ আবূ ওয়াহশীয়ার নাম ইয়াস।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, রামাযান মাসের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ। এখানে দুইটি বড় শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে—নফল রোজার মধ্যে মুহাররমের গুরুত্ব, আর নফল নামাজের মধ্যে রাতের নামাজের মর্যাদা। রামাযানের রোজা ফরজ; তার পরের স্তরে মুহাররমের রোজার ফজিলত বলা হয়েছে। একইভাবে ফরজ নামাজের পরে রাতের নামাজকে বিশেষ মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। এই হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ফরজ ইবাদত আগে, তারপর অতিরিক্ত আমলে উন্নতি। তাই একজন মুসলিম ফরজ ঠিক রেখে মুহাররমের রোজা ও তাহাজ্জুদের দিকে মন দিতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রামাযানের পর মুহাররমের রোজার বিশেষ মর্যাদা এসেছে।
- ফরজ নামাজের পর রাতের নামাজের মর্যাদা বেশি বলা হয়েছে।
- নফল আমলের আগে ফরজ ইবাদত ঠিক রাখা জরুরি।
