৬/৪০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৪১ - মুহাররমের রোজা ও তওবার আশা
মুহররমের রোযা
মুহাররমের রোজা: রমজানের পর নফল রোজার বিশেষ সময়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭৪১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৪১
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ سَأَلَهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَىُّ شَهْرٍ تَأْمُرُنِي أَنْ أَصُومَ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ لَهُ مَا سَمِعْتُ أَحَدًا يَسْأَلُ عَنْ هَذَا إِلاَّ رَجُلاً سَمِعْتُهُ يَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَأَنَا قَاعِدٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ شَهْرٍ تَأْمُرُنِي أَنْ أَصُومَ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ «إِنْ كُنْتَ صَائِمًا بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصُمِ الْمُحَرَّمَ فَإِنَّهُ شَهْرُ اللَّهِ فِيهِ يَوْمٌ تَابَ اللَّهُ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ وَيَتُوبُ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ آخَرِينَ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করল, রমজান মাসের পর কোন মাসের রোজা রাখতে আপনি আমাকে আদেশ করেন? তিনি তাকে বললেন, এই বিষয়ে আমি কাউকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট প্রশ্ন করতে শুনিনি। তবে হ্যাঁ এক সময় আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে বসা ছিলাম। এই সময় এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! রমজান মাসের পর আর কোন মাসের রোজা পালনে আপনি আমাকে আদেশ করেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ রমজান মাসের পর তুমি যদি আরো রোজা রাখতে ইচ্ছুক হও তবে মুহাররামের রোজা রাখ। যেহেতু এটা আল্লাহ তা'আলার মাস। এই মাসে এমন একটি দিবস আছে যেদিন আল্লাহ তা'আলা এক গোত্রের তওবা কবুল করেছিলেন এবং তিনি আরও অনেক গোত্রের তওবাও এই দিনে কবুল করবেন।
আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো মুহাররমের রোজা। একজন ব্যক্তি জানতে চেয়েছিলেন, রমজানের পর কোন মাসে রোজা রাখা উচিত। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মুহাররম মাসের রোজার কথা বলেছেন। হাদিসে মুহাররমকে ‘আল্লাহর মাস’ বলা হয়েছে, যা এই মাসের বিশেষ মর্যাদা বোঝায়। তবে বক্তব্যটি শর্তযুক্ত—কেউ রমজানের পর আরও নফল রোজা রাখতে চাইলে মুহাররমে রাখতে পারে। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, এই মাসে এমন একটি দিন আছে যেদিন আল্লাহ একটি গোত্রের তওবা কবুল করেছিলেন এবং আরও মানুষের তওবা কবুল করবেন। তাই মুহাররমের রোজার সঙ্গে তওবা, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও জড়িত। রমজানের পর ইবাদতের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য এই রোজা একটি সুন্দর সুযোগ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের পর নফল রোজার জন্য মুহাররম মাসকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়।
- মুহাররমকে হাদিসে ‘আল্লাহর মাস’ বলা হয়েছে।
- এই মাসের বিশেষ দিনে তওবা কবুলের আশা করা যায়।
- নফল রোজার সঙ্গে আন্তরিক তওবা ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার মনোভাব রাখা উচিত।
